ঋতু বদলের সময় ফ্যান–এসি ব্যবহারে যে ভুলগুলো আমরা প্রায়ই করি

শীতের শেষে হালকা গরম পড়তে শুরু করলে অনেক ঘরেই একসঙ্গে চালু হয়ে যায় সিলিং ফ্যান আর এয়ার কন্ডিশনার। কিন্তু ঋতু বদলের এই সময়টাতে ফ্যান–এসি ব্যবহারে কিছু সাধারণ ভুল আমাদের শরীরের ওপর নীরবে চাপ তৈরি করে। ক্লান্তি, সর্দি, ঘাড় ব্যথা বা ঘুমের সমস্যার পেছনে অনেক সময় এই অভ্যাসগুলোই দায়ী। চলুন জেনে নেই কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলা দরকার - ১. হঠাৎ পুরো গতিতে ফ্যান চালানো শীত শেষে শরীর ধীরে ধীরে গরম পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেয়। কিন্তু আমরা অনেক সময় বাইরে থেকে এসেই ফ্যানটা সর্বোচ্চ স্পিডে চালিয়ে দিই। এতে শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যায়, ঘাম শুকিয়ে ঠান্ডা লাগতে পারে। বিশেষ করে ঘাড়, কাঁধ ও মাথাব্যথার ঝুঁকি বাড়ে। ২. সরাসরি শরীরের দিকে বাতাস নেওয়া অনেকেই ঘুমের সময় ফ্যান বা এসির বাতাস সরাসরি শরীরের ওপর রাখেন। এতে পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া, ঘাড় ব্যথা, সাইনাসের সমস্যা বা সকালে মাথা ভারী লাগার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। ৩. এসির তাপমাত্রা খুব কম রাখা গরম শুরু হলেই এসির তাপমাত্রা ১৮–২০ ডিগ্রিতে নামিয়ে ফেলা একটি সাধারণ ভুল। বাইরের তাপমাত্রার সঙ্গে ভেতরের এই বড় পার্থক্য শরীরের ওপর চাপ ফেলে। ফলে ঠান্ডা লাগা, ক্লান্তি ও গলা ব্যথ

ঋতু বদলের সময় ফ্যান–এসি ব্যবহারে যে ভুলগুলো আমরা প্রায়ই করি

শীতের শেষে হালকা গরম পড়তে শুরু করলে অনেক ঘরেই একসঙ্গে চালু হয়ে যায় সিলিং ফ্যান আর এয়ার কন্ডিশনার। কিন্তু ঋতু বদলের এই সময়টাতে ফ্যান–এসি ব্যবহারে কিছু সাধারণ ভুল আমাদের শরীরের ওপর নীরবে চাপ তৈরি করে। ক্লান্তি, সর্দি, ঘাড় ব্যথা বা ঘুমের সমস্যার পেছনে অনেক সময় এই অভ্যাসগুলোই দায়ী।

চলুন জেনে নেই কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলা দরকার -

১. হঠাৎ পুরো গতিতে ফ্যান চালানো

শীত শেষে শরীর ধীরে ধীরে গরম পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেয়। কিন্তু আমরা অনেক সময় বাইরে থেকে এসেই ফ্যানটা সর্বোচ্চ স্পিডে চালিয়ে দিই। এতে শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যায়, ঘাম শুকিয়ে ঠান্ডা লাগতে পারে। বিশেষ করে ঘাড়, কাঁধ ও মাথাব্যথার ঝুঁকি বাড়ে।

২. সরাসরি শরীরের দিকে বাতাস নেওয়া

অনেকেই ঘুমের সময় ফ্যান বা এসির বাতাস সরাসরি শরীরের ওপর রাখেন। এতে পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া, ঘাড় ব্যথা, সাইনাসের সমস্যা বা সকালে মাথা ভারী লাগার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

ঋতু বদলের সময় ফ্যান–এসি ব্যবহারে যে ভুলগুলো আমরা প্রায়ই করি

৩. এসির তাপমাত্রা খুব কম রাখা

গরম শুরু হলেই এসির তাপমাত্রা ১৮–২০ ডিগ্রিতে নামিয়ে ফেলা একটি সাধারণ ভুল। বাইরের তাপমাত্রার সঙ্গে ভেতরের এই বড় পার্থক্য শরীরের ওপর চাপ ফেলে। ফলে ঠান্ডা লাগা, ক্লান্তি ও গলা ব্যথার ঝুঁকি বাড়ে।

৪. ফ্যান–এসি পরিষ্কার না করা

শীতজুড়ে বন্ধ থাকা ফ্যান বা এসিতে জমে থাকে ধুলো ও জীবাণু। পরিষ্কার না করে চালু করলে সেগুলো বাতাসের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। এতে অ্যালার্জি, হাঁচি, চোখ জ্বালা বা শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

ঋতু বদলের সময় ফ্যান–এসি ব্যবহারে যে ভুলগুলো আমরা প্রায়ই করি

৫. পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া

ফ্যান বা এসির বাতাস শরীরের পানিশূন্যতা বাড়ায়। কিন্তু অনেকেই ঠান্ডা পরিবেশে পানি খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা ভুলে যান। এর ফল হতে পারে ক্লান্তি, মাথা ঘোরা বা মনোযোগ কমে যাওয়া।

৬. একসঙ্গে ফ্যান ও এসি চালানো

অনেকে ভাবেন এতে ঘর দ্রুত ঠান্ডা হবে। কিন্তু এতে শরীর অতিরিক্ত ঠান্ডার ধাক্কা পায়।

ঋতু বদলের সময় ফ্যান–এসি ব্যবহারে যে ভুলগুলো আমরা প্রায়ই করি

কীভাবে সতর্ক হবেন?

ফ্যানের স্পিড ধীরে বাড়ান, বাতাস সরাসরি শরীরের দিকে রাখবেন না, এসির তাপমাত্রা ২৪–২৬ ডিগ্রির মধ্যে রাখুন এবং নিয়মিত পরিষ্কার করুন। সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করতে ভুলবেন না।

ঋতু পরিবর্তনের সময় সামান্য সচেতনতা শরীরকে অনেকটাই সুস্থ রাখতে পারে।

সূত্র: মায়ো ক্লিনিক, হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

এএমপি/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow