একুশে বইমেলায় আব্দুল জলিলের গল্পের বই ‘সর্বংসহা’ বিষয়ে দুটি কথা
সর্বংসহা বাঙালির হাজার বছরের যাপিত জীবনের কিছু খণ্ডচিত্রের সুনিপুণ বর্ণনা। এতে প্রেম-ভালোবাসা, দ্রোহ, পাওয়া-না-পাওয়ার বেদনা যেমন আছে, তেমনি বাস্তব জীবনের অতি সূক্ষ্ম কিছু বিষয় লেখকের লেখায় মূর্ত হয়ে উঠেছে। ‘অসীম মুক্তি’তে অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ‘সাগরের বুকে মাথা রেখে সাথী ভেঙে পড়ে সীমাহীন কান্নায়।’ আবার ‘মনের ফাগুন’-এ নিজের ভালোবাসার তোয়াক্কা না করে বন্ধুর জীবনকে সামনে এগিয়ে দেওয়া, শেষে মনের মধ্যে পিছুটানের আভাস— যেন বাঙালির চিরন্তন বৈশিষ্ট্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়। এমনি করে ‘নিষিদ্ধ পল্লী’, ‘শায়ক-বেঁধা পাখি’, ‘বাসন্তী বিকেল’-এ সমাজের নানা ঘাত-প্রতিঘাত মাড়িয়ে জীবন এগিয়েছে। ‘নিশিথের অতিথি’ রূপালির জীবনকে তছনছ করে দিলেও গল্পের শেষে চমক হিসেবে এসেছে নতুন অতিথি। রূপালির যাপিত জীবনে ঘুরে দাঁড়াবার স্বপ্ন যেন হাজারো সংগ্রামী বাঙালি নারীর কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। ‘শেষ চিঠি’তে ঠাঁই পেয়েছে নারীর অব্যক্ত স্বপ্নের ছোঁয়া। তাই তো সংসার বেঁধেও সেই নারী অতীতে ফিরে তাকায়— ‘চোখের সামনে কাবা শরিফ দেখি, আরাফাতের ময়দান দেখি। সেখানে তাকেও দেখি। ডাকি, কিন্তু আসে না।’ ‘ঘোমদেবীর বর’ পাননি সাদেক সাহেব। পেতে পেতেও
সর্বংসহা বাঙালির হাজার বছরের যাপিত জীবনের কিছু খণ্ডচিত্রের সুনিপুণ বর্ণনা। এতে প্রেম-ভালোবাসা, দ্রোহ, পাওয়া-না-পাওয়ার বেদনা যেমন আছে, তেমনি বাস্তব জীবনের অতি সূক্ষ্ম কিছু বিষয় লেখকের লেখায় মূর্ত হয়ে উঠেছে। ‘অসীম মুক্তি’তে অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ‘সাগরের বুকে মাথা রেখে সাথী ভেঙে পড়ে সীমাহীন কান্নায়।’ আবার ‘মনের ফাগুন’-এ নিজের ভালোবাসার তোয়াক্কা না করে বন্ধুর জীবনকে সামনে এগিয়ে দেওয়া, শেষে মনের মধ্যে পিছুটানের আভাস— যেন বাঙালির চিরন্তন বৈশিষ্ট্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
এমনি করে ‘নিষিদ্ধ পল্লী’, ‘শায়ক-বেঁধা পাখি’, ‘বাসন্তী বিকেল’-এ সমাজের নানা ঘাত-প্রতিঘাত মাড়িয়ে জীবন এগিয়েছে। ‘নিশিথের অতিথি’ রূপালির জীবনকে তছনছ করে দিলেও গল্পের শেষে চমক হিসেবে এসেছে নতুন অতিথি। রূপালির যাপিত জীবনে ঘুরে দাঁড়াবার স্বপ্ন যেন হাজারো সংগ্রামী বাঙালি নারীর কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।
‘শেষ চিঠি’তে ঠাঁই পেয়েছে নারীর অব্যক্ত স্বপ্নের ছোঁয়া। তাই তো সংসার বেঁধেও সেই নারী অতীতে ফিরে তাকায়— ‘চোখের সামনে কাবা শরিফ দেখি, আরাফাতের ময়দান দেখি। সেখানে তাকেও দেখি। ডাকি, কিন্তু আসে না।’
‘ঘোমদেবীর বর’ পাননি সাদেক সাহেব। পেতে পেতেও বাস্তবতার যাঁতাকলে সব হারিয়ে গেছে। _সর্বংসহা_য় পুরো বইয়ের চরিত্রগুলোর মাঝে আলাদা করে বাঙালির হাজার বছরের নারীর রূপকে তুলে ধরেছেন লেখক। এই নারী রাগে বলেছে, ‘তুই আমারে মারছোস। দ্যাখ, আল্লাহ তোর বিচার করছে।’ আবার সেই নারীই বিলাপ করতে করতে বলে, ‘ওকে ছাইড়া দেন সাব। ওই আমার সব।’
এমনি করে গল্পের নামকরণটি সার্থকতার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হয়েছে— এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। এরপর ‘আলোর অমানিশা’য় সম্ভ্রান্ত ঘরের এক কন্যার চল্লিশ পেরোলেও বিয়ে না হওয়ার যন্ত্রণা ও পরিস্থিতি— যা এখন এই সমাজে অহরহ দেখা যায়। ‘শেষ বিকেলে স্বপ্ন’-এ সন্তানের জন্য বাঙালি বধূর হাহাকার বর্তমান সমাজের করুণ বাস্তবতা। ‘লাল ডায়েরি’র কাহিনি মরণব্যাধী ক্যানসারকে ঘিরে আবর্তিত। একজন ক্যানসারে আক্রান্ত মরণপথযাত্রী রোগীর কুড়িয়ে পাওয়া ডায়েরির বর্ণনা গল্পে পরিবেশিত হয়েছে।
সর্বশেষ ‘অভিশাপ’ একটি ভয়ঙ্কর মনোরোগকে ঘিরে রচিত। এই সমাজের এখনো অনেকেই বিশ্বাস করে, অভিশাপ দিলে তা ফলে যায়। লেখকের ভাষায়—
‘তবে কি শিবুর বাবার অভিশাপ আর আমার কথা না রাখার কারণেই বড্ড অভিমানে ও চলে গেল তারার দেশে!
দূর থেকে মাগরিবের আজান ভেসে আসে...
শিবু হাত নেড়ে বিদায় জানায়...
ও কি বলে বিদায় বলল, তা বুঝি না; পৃথিবীর কেউই তা বুঝতে পারে না।’
পুরো বইটির গল্পগুলো আমাদের সমাজবাস্তবতার ছবি, যা লেখক সুন্দরভাবে সাহিত্যগুণে ঋদ্ধ করে পাঠকের জন্য তুলে ধরেছেন। আমি বইটির সফলতা কামনা করছি।
What's Your Reaction?