একের পর এক রেকর্ড গড়ছেন মেসি, সামনে ভাঙার অপেক্ষায় আরও কয়েকটি
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ যেন লিওনেল মেসির আরেকটি ইতিহাস লেখার মঞ্চ হয়ে উঠেছে। আর্জেন্টিনাকে কোয়ার্টার ফাইনালে তোলার পথে ব্যক্তিগত অর্জনের খাতাও সমৃদ্ধ করে চলেছেন ৮ বারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই মহাতারকা। মিশরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর নাটকীয় ৩-২ গোলের জয়ে গোল করে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড আরও শক্তিশালী করেছেন তিনি। পাশাপাশি গড়েছেন একের পর এক নতুন কীর্তি, যেগুলোর অনেকগুলোই হয়তো দীর্ঘদিন অক্ষত থাকবে। বিশ্বকাপে এটি মেসির ষষ্ঠ আসর, যা সম্ভবত তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপও; কিন্তু বিদায়ের আগে যেন প্রতিটি ম্যাচেই নতুন ইতিহাস লিখছেন তিনি। কোয়ার্টার ফাইনালের আগে তার নামের পাশে রয়েছে ৮ গোল। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ। বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা মেসি ইতোমধ্যেই ভেঙে দিয়েছেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার দীর্ঘদিনের রেকর্ড। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে ১৬ গোলের ক্লোসাকে পেছনে ফেলেন তিনি। এরপর জর্ডান, কেপ ভার্দে ও মিশরের বিপক্ষে গোল করে বিশ্বকাপে নিজের সংগ্রহকে নিয়ে গেছেন ২১-এ। এবারের বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক, অস্ট্রিয়
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ যেন লিওনেল মেসির আরেকটি ইতিহাস লেখার মঞ্চ হয়ে উঠেছে। আর্জেন্টিনাকে কোয়ার্টার ফাইনালে তোলার পথে ব্যক্তিগত অর্জনের খাতাও সমৃদ্ধ করে চলেছেন ৮ বারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই মহাতারকা। মিশরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর নাটকীয় ৩-২ গোলের জয়ে গোল করে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড আরও শক্তিশালী করেছেন তিনি। পাশাপাশি গড়েছেন একের পর এক নতুন কীর্তি, যেগুলোর অনেকগুলোই হয়তো দীর্ঘদিন অক্ষত থাকবে।
বিশ্বকাপে এটি মেসির ষষ্ঠ আসর, যা সম্ভবত তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপও; কিন্তু বিদায়ের আগে যেন প্রতিটি ম্যাচেই নতুন ইতিহাস লিখছেন তিনি। কোয়ার্টার ফাইনালের আগে তার নামের পাশে রয়েছে ৮ গোল। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা
মেসি ইতোমধ্যেই ভেঙে দিয়েছেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার দীর্ঘদিনের রেকর্ড। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে ১৬ গোলের ক্লোসাকে পেছনে ফেলেন তিনি। এরপর জর্ডান, কেপ ভার্দে ও মিশরের বিপক্ষে গোল করে বিশ্বকাপে নিজের সংগ্রহকে নিয়ে গেছেন ২১-এ।
এবারের বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল, জর্ডানের বিপক্ষে ফ্রি-কিক, কেপ ভার্দের বিপক্ষে একটি এবং মিশরের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সমতাসূচক গোল করে ইতিহাসের পাতায় নিজের অবস্থান আরও উঁচুতে নিয়ে গেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
তবে এই রেকর্ডে সবচেয়ে বড় হুমকি হতে পারেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে। বিশ্বকাপে তার মোট গোল এখন ১৮। বয়স মাত্র ২৭ হওয়ায় ভবিষ্যতে মেসির রেকর্ড ছোঁয়ার সুযোগ রয়েছে তার সামনে।
টানা ৯ ম্যাচে গোলের অনন্য কীর্তি
মিশরের বিপক্ষে গোল করে টানা নয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচে জালের দেখা পেয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এর আগে কোনো ফুটবলার এমন ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি।
এছাড়া এক বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ আট গোলের গিয়ের্মো স্তাবিলের রেকর্ডও স্পর্শ করেছেন তিনি। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে স্তাবিলে এই কীর্তি গড়েছিলেন।
আরেকটি বিরল রেকর্ডও এখন মেসির দখলে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানা ছয় ম্যাচে গোল করা প্রথম ফুটবলার তিনি।
ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলছেন মেসি
আলজেরিয়ার বিপক্ষে এবারের বিশ্বকাপে প্রথম মাঠে নেমেই ষষ্ঠবার অংশ নেওয়ার রেকর্ড গড়েছেন মেসি। বিশ্ব ফুটবলে এতবার বিশ্বকাপ খেলার নজির খুবই বিরল।
এই তালিকায় তার সঙ্গে রয়েছেন পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং মেক্সিকোর গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়া। যদিও ওচোয়া ২০০৬ ও ২০১০ বিশ্বকাপে মাঠে নামেননি, এমনকি ২০২৬ আসরেও একটি মাত্র ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন।
এরপর পাঁচটি করে বিশ্বকাপ খেলা কিংবদন্তিদের মধ্যে রয়েছেন লোথার ম্যাথাউস, জিয়ানলুইজি বুফন, রাফায়েল মার্কেজ, আন্দ্রেস গুয়ার্দাদো ও আন্তোনিও কারবাহাল।
আর এক অ্যাসিস্টেই ছুঁয়ে ফেলবেন পেলের রেকর্ড
গোলের পাশাপাশি বিশ্বকাপে অ্যাসিস্টের তালিকাতেও ইতিহাসের খুব কাছাকাছি চলে এসেছেন মেসি। মিশরের বিপক্ষে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর গোলে সহায়তা করে বিশ্বকাপে নিজের অ্যাসিস্ট সংখ্যা ৯-এ নিয়ে গেছেন তিনি।
এই তালিকার শীর্ষে আছেন ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলে, যার অ্যাসিস্ট ১০টি। অর্থাৎ আর একটি অ্যাসিস্ট করলেই পেলের রেকর্ডে ভাগ বসাবেন মেসি।
আরেকটি ফাইনাল খেললেই নতুন ইতিহাস
বিশ্বকাপে এরই মধ্যে দুটি ফাইনাল খেলেছেন মেসি- ২০১৪ সালে ব্রাজিলে এবং ২০২২ সালে কাতারে। ২০২৬ বিশ্বকাপে যদি আর্জেন্টিনাকে আবারও ফাইনালে তুলতে পারেন, তাহলে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার বিরল কীর্তি গড়বেন তিনি।
এতে তিনি ছুঁয়ে ফেলবেন কিংবা অতিক্রম করবেন পেলে, কাফু, রোনালদো নাজারিও, লোথার ম্যাথাউস ও পিয়েরে লিটবারস্কির মতো কিংবদন্তিদের।
ম্যাচ ও খেলার সময়েও শীর্ষে
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও এখন মেসির দখলে। মিশরের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল তার ৩০তম বিশ্বকাপ ম্যাচ। তার পেছনে রয়েছেন জার্মান কিংবদন্তি লোথার ম্যাথাউস (২৫), মিরোস্লাভ ক্লোসা (২৪) এবং ইতালির পাওলো মালদিনি (২৩)।
শুধু ম্যাচ নয়, বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি সময় মাঠে থাকার রেকর্ডও তার। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে ২ হাজার ৫১৯ মিনিট খেলেছেন মেসি। ৪৮ দলের নতুন ফরম্যাটে আর্জেন্টিনা যদি ফাইনাল পর্যন্ত যায়, তাহলে এই রেকর্ড আরও অনেক দূর নিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে তার সামনে।
আইএইচএস/আইএন
What's Your Reaction?