এক বছর পর ফের চালু হচ্ছে চাঁদপুরের দুই টাকার চিকিৎসাসেবা

চাঁদপুর পৌরসভার পুরানবাজার দাতব্য চিকিৎসালয় এক বছর বন্ধ থাকার পর আবার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসক সংকটে গত বছরের আগস্ট থেকে বন্ধ থাকা চিকিৎসালয়টির সংস্কারকাজ শুরু করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে চিকিৎসক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। সংস্কার ও নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে মাত্র দুই টাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়ার এই সেবাকেন্দ্রটি পুনরায় চালু করা হবে বলে জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর শহরের পুরানবাজার এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী এ দাতব্য চিকিৎসালয়টি শুধু একটি চিকিৎসাকেন্দ্র নয়, দীর্ঘ এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এটি নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ছিল ভরসার জায়গা। বিশেষ করে চরাঞ্চল, নদী তীরবর্তী এলাকা এবং পুরানবাজার পৌরসভার আশপাশের দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষ নামমাত্র মূল্যে এখান থেকে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পেয়ে আসছিলেন। জানা যায়, ১৯২০ সালে চাঁদপুর পৌরসভা পুরানবাজার এলাকায় এ দাতব্য চিকিৎসালয়টি প্রতিষ্ঠা করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও দরিদ্র মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসার অন্যতম আশ্রয়স্থল হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পাল

এক বছর পর ফের চালু হচ্ছে চাঁদপুরের দুই টাকার চিকিৎসাসেবা

চাঁদপুর পৌরসভার পুরানবাজার দাতব্য চিকিৎসালয় এক বছর বন্ধ থাকার পর আবার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসক সংকটে গত বছরের আগস্ট থেকে বন্ধ থাকা চিকিৎসালয়টির সংস্কারকাজ শুরু করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে চিকিৎসক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।

সংস্কার ও নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে মাত্র দুই টাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়ার এই সেবাকেন্দ্রটি পুনরায় চালু করা হবে বলে জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর শহরের পুরানবাজার এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী এ দাতব্য চিকিৎসালয়টি শুধু একটি চিকিৎসাকেন্দ্র নয়, দীর্ঘ এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এটি নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ছিল ভরসার জায়গা। বিশেষ করে চরাঞ্চল, নদী তীরবর্তী এলাকা এবং পুরানবাজার পৌরসভার আশপাশের দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষ নামমাত্র মূল্যে এখান থেকে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পেয়ে আসছিলেন।

জানা যায়, ১৯২০ সালে চাঁদপুর পৌরসভা পুরানবাজার এলাকায় এ দাতব্য চিকিৎসালয়টি প্রতিষ্ঠা করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও দরিদ্র মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসার অন্যতম আশ্রয়স্থল হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সময়ের পরিক্রমায় চিকিৎসালয়টির বয়স ১০৫ বছরে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিনের পুরোনো ভবন ও অবকাঠামোর কারণে বর্তমানে সংস্কারের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

গত বছরের আগস্ট মাসে চিকিৎসক না থাকায় চিকিৎসালয়টির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এতে দীর্ঘদিন ধরে এখানে চিকিৎসা নিতে আসা দরিদ্র রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। অনেকেই চিকিৎসালয়টি খোলা আছে মনে করে এসে চিকিৎসাসেবা না পেয়ে ফিরে যান। বিশেষ করে চরাঞ্চল ও আশপাশের নিম্নআয়ের মানুষের জন্য এটি বন্ধ হয়ে যাওয়া ছিল বড় ধরনের দুর্ভোগের কারণ।

চিকিৎসালয়টি বন্ধ হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এটি পুনরায় চালুর দাবি জোরালো হয়। তাদের দাবি, বর্তমান সময়ে স্বল্প আয়ের মানুষের চিকিৎসা ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মাত্র দুই টাকার বিনিময়ে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ওষুধ পাওয়ার সুযোগটি দরিদ্র মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সম্প্রতি চাঁদপুর পৌরসভার ১০৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী পুরানবাজার দাতব্য চিকিৎসালয়টি পরিদর্শন করেন চাঁদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. এরশাদ উদ্দিনসহ পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরিদর্শনকালে চিকিৎসালয়টির বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে দ্রুত সংস্কার কাজ সম্পন্ন এবং চিকিৎসাসেবা পুনরায় চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন পৌর প্রশাসক।

পৌর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ইতোমধ্যে ভবনটির সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে চিকিৎসক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়েছে। সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার পর নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে চিকিৎসক পাওয়া গেলেই চিকিৎসালয়টির কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হবে বলে জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় বাসিন্দা দুলাল খান জানান, হঠাৎ করে চিকিৎসালয়টি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরাঞ্চলসহ আশপাশের গরিব রোগীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন। বন্ধ হওয়ার পর অনেক রোগী চিকিৎসা নিতে এসে ফিরে গেছেন। দরিদ্র মানুষের জন্য এই চিকিৎসালয়টি ছিল আশ্রয়ের মতো। এখান থেকে চিকিৎসা ও ওষুধ পেয়ে অনেক অসহায় মানুষ উপকৃত হতেন।

তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন পর পৌরসভা নতুন করে চিকিৎসালয়টি চালুর উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয় মানুষ খুশি। দ্রুত সংস্কার শেষ করে চিকিৎসাসেবা চালু করা হলে দরিদ্র মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।

চাঁদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. এরশাদ উদ্দিন জানান, চাঁদপুর পৌরসভার পক্ষ থেকে দাতব্য চিকিৎসালয়টি সুদীর্ঘ সময় ধরে পরিচালিত হয়ে আসছে। মাঝখানে কিছু সমস্যার কারণে এটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। এখন এটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, পুরানবাজার এলাকার পৌরসভার পাঁচটি ওয়ার্ডের পাশাপাশি চরাঞ্চলের মানুষও যাতে এখান থেকে বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন, সে লক্ষ্যেই চিকিৎসালয়টি পুনরায় চালুর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। চিকিৎসালয়ের জন্য ইতোমধ্যে একজন চিকিৎসক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। ভবনের সংস্কার কাজ সম্পন্ন এবং চিকিৎসক নিয়োগ হলেই সরাসরি চিকিৎসাসেবা চালু করা হবে।

পৌর প্রশাসক আরও জানান, পুরোনো ভবনটিকে ইতোমধ্যে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এখানে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি পৌরসভার পক্ষ থেকে রোগীদের জন্য বিনামূল্যে কিছু প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থাও করা হবে।

স্থানীয়দের মতে, চিকিৎসালয়টি পুনরায় চালু হলে পুরানবাজারের পাঁচটি ওয়ার্ডের দরিদ্র মানুষ ছাড়াও চাঁদপুরের বিভিন্ন চরাঞ্চলের নিম্ন আয়ের মানুষ বিশেষভাবে উপকৃত হবেন। বর্তমান সময়ে যেখানে সাধারণ চিকিৎসার খরচও অনেক পরিবারের নাগালের বাইরে, সেখানে ঐতিহ্যবাহী এ দাতব্য চিকিৎসালয়টি আবারও দুই টাকার স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াবে এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

শরীফুল ইসলাম/কেএইচকে/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow