‘এটা একটি ফুটবল ম্যাচ, এর সঙ্গে যুদ্ধকে মেলানো উচিত নয়’

বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড এই লড়াই মানেই ইতিহাস, আবেগ আর প্রতিদ্বন্দ্বিতার এক অনন্য অধ্যায়। ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি থেকে শুরু করে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের ঐতিহাসিক ম্যাচ। দুই দেশের দ্বৈরথে সবসময়ই থাকে বাড়তি উত্তেজনা। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আগে সেই আবেগকে পাশে সরিয়ে রেখে শান্ত ও বাস্তববাদী বার্তাই দিলেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। তার স্পষ্ট বক্তব্য, ‘এটা শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ, এর সঙ্গে যুদ্ধকে মেলানো উচিত নয়।’ আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি প্রথমেই সেমিফাইনালে পৌঁছানোর জন্য নিজের খেলোয়াড়দের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘পরিসংখ্যান বলছে দলটা মানুষ যতটা খারাপ বলছে, ততটা নয়। সেমিফাইনালে উঠতে হলে নিশ্চয়ই আমরা কিছু ভালো কাজ করেছি। এই খেলোয়াড়দের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ, কারণ তারাই আর্জেন্টিনাকে আবার বিশ্বের সেরা চার দলের মধ্যে ফিরিয়ে এনেছে।’ নকআউট পর্বে তিনটি কঠিন ম্যাচ খেলেও দল যেভাবে এগিয়ে এসেছে, সেটিকেই বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন বিশ্বকাপজয়ী এই কোচ। স্কালোনির ভাষায়, ‘কষ্ট ছাড়া বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল বা ফাইনালে ওঠ

‘এটা একটি ফুটবল ম্যাচ, এর সঙ্গে যুদ্ধকে মেলানো উচিত নয়’

বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড এই লড়াই মানেই ইতিহাস, আবেগ আর প্রতিদ্বন্দ্বিতার এক অনন্য অধ্যায়। ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি থেকে শুরু করে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের ঐতিহাসিক ম্যাচ। দুই দেশের দ্বৈরথে সবসময়ই থাকে বাড়তি উত্তেজনা। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আগে সেই আবেগকে পাশে সরিয়ে রেখে শান্ত ও বাস্তববাদী বার্তাই দিলেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। তার স্পষ্ট বক্তব্য, ‘এটা শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ, এর সঙ্গে যুদ্ধকে মেলানো উচিত নয়।’

আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি প্রথমেই সেমিফাইনালে পৌঁছানোর জন্য নিজের খেলোয়াড়দের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘পরিসংখ্যান বলছে দলটা মানুষ যতটা খারাপ বলছে, ততটা নয়। সেমিফাইনালে উঠতে হলে নিশ্চয়ই আমরা কিছু ভালো কাজ করেছি। এই খেলোয়াড়দের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ, কারণ তারাই আর্জেন্টিনাকে আবার বিশ্বের সেরা চার দলের মধ্যে ফিরিয়ে এনেছে।’

নকআউট পর্বে তিনটি কঠিন ম্যাচ খেলেও দল যেভাবে এগিয়ে এসেছে, সেটিকেই বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন বিশ্বকাপজয়ী এই কোচ। স্কালোনির ভাষায়, ‘কষ্ট ছাড়া বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল বা ফাইনালে ওঠা খুবই কঠিন। প্রতিপক্ষের চেয়ে অনেক এগিয়ে না থাকলে ভুগতেই হয়। আগের বিশ্বকাপেও আমরা অনেক ম্যাচে প্রতিপক্ষের চেয়ে ভালো খেলেও কষ্ট পেয়েছি। এই প্রতিকূলতা কাটিয়ে ওঠাই বড় দলের পরিচয়।’

তবে নিজের দলকে আরও উন্নতির আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি, ‘আমাদের ইচ্ছা আর উচ্চাকাঙ্ক্ষার কোনো ঘাটতি নেই। তবে আমাদের আবার সেই ফুটবল খেলতে হবে, যেটা আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমি চাই কাল মাঠে সেই আর্জেন্টিনাকেই দেখতে, যারা এতদিন দারুণ ফুটবল খেলেছে।’

ইংল্যান্ডকে নিয়ে স্কালোনির মূল্যায়নও ছিল যথেষ্ট সতর্ক। তিনি বলেন, ‘এটি আগের ম্যাচগুলোর মতো হবে না। যেখানে আমরা ভালো করতে পারিনি, সেগুলো নিয়ে কাজ করেছি। আমরা প্রস্তুত, তবে সামনে অসাধারণ একটি দল। জুড বেলিংহ্যাম ও হ্যারি কেইনের মতো খেলোয়াড়কে যে কোনো কোচই নিজের দলে চাইবে। আমরা আমাদের শক্তি দিয়েই তাদের থামানোর চেষ্টা করবো।’

সংবাদ সম্মেলনের সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল ফকল্যান্ড যুদ্ধ প্রসঙ্গে স্কালোনির মন্তব্য। অনেকের কাছে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ এখনও ১৯৮২ সালের যুদ্ধের প্রতীকী প্রতিশোধের লড়াই। কিন্তু স্কালোনি সেই ধারণা একেবারেই সমর্থন করেন না। তিনি বলেন, ‘এটা একটি ফুটবল ম্যাচ। ৪০ বছর আগে যা ঘটেছে, তা নিয়ে আমরা এখন কী করতে পারি? সেটা আমাদের ইতিহাসের একটি বেদনাদায়ক অধ্যায়। অনেক মানুষ সেই সময় ভয়াবহ কষ্ট পেয়েছেন। তাই আমি এখানে দাঁড়িয়ে এটাকে ফুটবলের চেয়ে বড় কিছু বলতে পারি না। আমি আগুনে ঘি ঢালতে আসিনি।’

শেষে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আর্জেন্টাইন হিসেবে আমাদের স্মৃতি থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু ইতিহাস আর ফুটবলকে এক করে দেখা ঠিক নয়। সেই সময়টা সবার জন্যই খুব দুঃখজনক ছিল। আমরা সেটাকে স্মরণ করি, কিন্তু এই ম্যাচকে শুধুই একটি ফুটবল ম্যাচ হিসেবেই দেখতে হবে।’

বুধবারের এই মহারণে জয়ী দলই স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করবে।

আরআর/আইএন

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow