২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আর দেশে আসতে পারেননি সাকিব আল হাসান। আওয়ামী লীগের সাবেক এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে আছে হত্যা মামলাও। গত জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে হঠাৎ করেই এসব মামলার সুরাহা করে সাকিবকে আবার দেশের ক্রিকেটে ফেরানোর উদ্যোগ নেয় বিসিবি।
সাকিবের আইনজীবীদের কাছ থেকে মামলার কাগজপত্র নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছেও পাঠিয়েছিল আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ড। এরপর থেকেই বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডারের দেশে ফেরা নিয়ে বেশ আলোচনা হয়েছিল। সেই সময়ে বিসিবি কর্মকর্তারা এমনও বলেছিলেন যে, মার্চে পাকিস্তান সিরিজ দিয়েই জাতীয় দলে ফিরতে পারেন সাকিব। কিন্তু বাস্তবে সে সম্ভাবনা দেখা যায়নি। সাকিব আল হাসানের দেশে ফেরা নিয়ে অনেকবার গুঞ্জন শোনা গেলেও কোনোটাই শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি।
এবার তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বোর্ড গঠন হওয়ার পর থেকে আবারও আলোচনায় সাকিবের ফেরা। আজ সেটাকে আরও গুরুত্ববহ করে তুললেন খোদ সাকিব। ভারতের মুম্বাইয়ে ইইউ টি-টোয়েন্টি বেলজিয়াম-২০২৬-এর জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠানে গিয়ে ‘স্পোর্টস্টারকে’ সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও তিনি আশাবাদী যে বছরের শেষ নাগাদ সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে এবং তিনি দেশে ফিরতে পারবেন।
সাকিব আল হাসান বলেন, ‘আমি আশাবাদী যে বছরের শেষ দিকে সব কিছুর সমাধান হয়ে যাবে। আপাতত ভালো কিছুর প্রত্যাশা করছি। তবে একটা বিষয় নিশ্চিত—আমাকে বাংলাদেশে ফিরতেই হবে। প্রশ্ন শুধু এটাই যে কত দ্রুত ঘটতে পারে। তবে আমি আশাবাদী যে বছরের শেষ দিকে ফিরতে পারব। কিভাবে ঘটবে জানি না। তবে আমি সত্যিই আশাবাদী।’
বিসিবির আগের বোর্ডের সঙ্গে ফেরার বিষয়ে কথা হলেও সত্যিকার অর্থে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলেও জানিয়েছেন সাকিব। দুঃখ প্রকাশ করে বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক বলেন, ‘আগের বোর্ড সত্যিই আমাকে ফেরানোর ইচ্ছে প্রকাশ করেছিল। কিন্তু মুখে বলা আর সেটাকে বাস্তবায়িত করা—দুটির মধ্যে অনেক পার্থক্য থাকে। এখনও আমি শুনি যে সবাই আমাকে ফেরাতে চায়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো—সত্যিকার অর্থে কেউ তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি।’
বাংলাদেশের হয়ে সর্বশেষ ম্যাচ ২০২৪ সালের অক্টোবরে খেলেছেন সাকিব। ভারতের বিপক্ষে কানপুর টেস্টের পর আর কখনো খেলা হয়নি ৩৯ বছর বয়সী এই বাঁহাতি ব্যাটারের। পরে অনেকবারই জানিয়েছেন, দেশের মাটিতে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলে অবসর নিতে চান তিনি।
এদিকে, সাকিবের ফেরার বিষয়ে আজ এক প্রশ্নের মুখোমুখি পড়তে হয় নতুন বোর্ড প্রধান তামিম ইকবালকেও। তবে সাকিবের প্রশ্ন উঠতেই অন্য দুই সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা ও নাঈমুর রহমান দুর্জয়কেও টেনে আনলেন বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি। মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমার পজিশন থেকে একটা জিনিস জাস্ট আপনাদের অনুরোধ করতে চাই যে আমরা লাস্ট এক-দেড়-দুই বছর ধরে একজন পার্টিকুলার ক্রিকেটারকে নিয়েই… যদি নাম বলতে হয় সাকিবকে নিয়েই আমরা কথা বলছি। বাট আই উইল অলসো রিকোয়েস্ট, যখন আপনারা এই প্রশ্নটা করেন, আমাদের তিনজন ক্রিকেটার… তিনজন এক্স ক্যাপ্টেন মাশরাফি বিন মুর্তজা ও দুর্জয় ভাইও সেইম অবস্থায় আছেন। তাদের নিয়ে প্রশ্ন নেই।’
তিনি বলেন, ‘দেখুন, শুধু একজন ক্রিকেটারকে নিয়ে শোনা বা কথা বলা ঠিক নয়। আমার কাছে মনে হয় যে আমরা যখন প্রশ্ন করব আপনারাও যখন প্রশ্ন করবেন প্লিজ, আরো দুই অধিনায়ককে নিয়েও প্রশ্ন করুন।’ সাকিবের ফেরার বিষয়ে তামিম বলেন, ‘ওর যে বিষয়টা আছে, আমাদের তরফ থেকে ক্রিকেটিং অ্যানি সুযোগ-সুবিধা বা যেকোনো কিছু আমরা তাদের ওপেন আর্মে ওয়েলকাম করব। ল-ফুলি যে জিনিসগুলো আছে, আপনি আমাদের মিনিস্টার সাহেবও বলেছেন, তিনিও বলেছেন যে এটার প্রতি আমরা নমনীয় হবো…তার তরফ থেকে বলেছেন। ক্রিকেট বোর্ড আমাদের তরফ থেকে ক্রিকেটিং যেসব জিনিসে, আমরা হেল্প করতে পারি, উই আর অলওয়েজ দেয়ার উইল ওয়েলকাম দেম উইথ ওপেন আর্মস। যদি তাদের ওই সমস্যাগুলো তারা সমাধান করে আসেন তাহলে আমরা স্বাগত জানাব।’