এলিয়েন না অন্য কিছু? ইউএফও নিয়ে পেন্টাগনের গোপন নথিতে কী আছে

মহাকাশে এলিয়েন বা ভিনগ্রহের প্রাণীর অস্তিত্ব আছে কি না, তা নিয়ে দশকের পর দশক ধরে চলে আসা রহস্যের জট খুলতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে গত শুক্রবার (৯ মে) মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন ইউএফও (আনআইডেন্টিফাইড ফ্লাইং অবজেক্ট) সংক্রান্ত শত শত অবমুক্ত বা ‘ডিক্লাসিফাইড’ নথি প্রকাশ্যে এনেছে। পেন্টাগনের দাবি, এসব নথির অনেকগুলোই আগে কখনো জনসমক্ষে আসেনি। এখন থেকে সাধারণ মানুষ কোনো বিশেষ অনুমতি ছাড়াই সরকারের ‘ইউএপি’ (আনআইডেন্টিফাইড অ্যানোমালাস ফেনোমেনা) সংক্রান্ত ওয়েবসাইট থেকে এসব ভিডিও, ছবি ও মূল নথি দেখতে পারবেন। প্রকাশিত নথিতে ১৯৪৭ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত এফবিআইয়ের সংগৃহীত তথ্যের পাশাপাশি সাম্প্রতিক কয়েক বছরের চাঞ্চল্যকর কিছু ঘটনার বিবরণ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ইরাক ও সিরিয়া: ২০২২ সালে ইরাকে একটি ছোট আকৃতির ইউএপি এবং ২০২৪ সালে সিরিয়ায় অজ্ঞাত উৎস থেকে আসা তীব্র আলো দেখার সামরিক প্রতিবেদন। অ্যাপোলো মিশন: ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো-১২ মিশনের নভোচারী অ্যালান বিন মহাকাশে ‘আলোর ঝলকানি’ দেখার কথা জানিয়েছিলেন। তার বর্ণনায় ছিল, কিছু বস্তু যেন চাঁদ থেকে বে

এলিয়েন না অন্য কিছু? ইউএফও নিয়ে পেন্টাগনের গোপন নথিতে কী আছে

মহাকাশে এলিয়েন বা ভিনগ্রহের প্রাণীর অস্তিত্ব আছে কি না, তা নিয়ে দশকের পর দশক ধরে চলে আসা রহস্যের জট খুলতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে গত শুক্রবার (৯ মে) মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন ইউএফও (আনআইডেন্টিফাইড ফ্লাইং অবজেক্ট) সংক্রান্ত শত শত অবমুক্ত বা ‘ডিক্লাসিফাইড’ নথি প্রকাশ্যে এনেছে।

পেন্টাগনের দাবি, এসব নথির অনেকগুলোই আগে কখনো জনসমক্ষে আসেনি। এখন থেকে সাধারণ মানুষ কোনো বিশেষ অনুমতি ছাড়াই সরকারের ‘ইউএপি’ (আনআইডেন্টিফাইড অ্যানোমালাস ফেনোমেনা) সংক্রান্ত ওয়েবসাইট থেকে এসব ভিডিও, ছবি ও মূল নথি দেখতে পারবেন।

প্রকাশিত নথিতে ১৯৪৭ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত এফবিআইয়ের সংগৃহীত তথ্যের পাশাপাশি সাম্প্রতিক কয়েক বছরের চাঞ্চল্যকর কিছু ঘটনার বিবরণ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

ইরাক ও সিরিয়া: ২০২২ সালে ইরাকে একটি ছোট আকৃতির ইউএপি এবং ২০২৪ সালে সিরিয়ায় অজ্ঞাত উৎস থেকে আসা তীব্র আলো দেখার সামরিক প্রতিবেদন।

অ্যাপোলো মিশন: ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো-১২ মিশনের নভোচারী অ্যালান বিন মহাকাশে ‘আলোর ঝলকানি’ দেখার কথা জানিয়েছিলেন। তার বর্ণনায় ছিল, কিছু বস্তু যেন চাঁদ থেকে বেরিয়ে মহাকাশের দিকে তীব্র গতিতে ছুটে যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ: গ্রিস ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে দায়িত্বরত মার্কিন সেনাদের পাঠানো সাম্প্রতিক কিছু অশনাক্তযোগ্য বস্তুর প্রতিবেদন।

‘জনগণ নিজেই সিদ্ধান্ত নিক’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই নথিপত্র প্রকাশের নির্দেশ দেওয়ার পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে লিখেছেন, ‘সরকারের কাছে কী আছে, তা এখন মানুষ নিজের চোখেই দেখতে পারবে। এখন তারা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারবে আসলে কী ঘটছে।’ তিনি একে ‘সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা’ নিশ্চিত করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন।

নাসার প্রধান জ্যারেড আইজ্যাকম্যান ট্রাম্পের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেছেন, মহাকাশের রহস্য উদ্ঘাটনে নাসা সবসময়ই তথ্যের সত্যতা এবং স্বচ্ছতায় বিশ্বাসী।

এত বিপুল পরিমাণ তথ্য প্রকাশ করা হলেও পেন্টাগন একটি সতর্কতা জারি করেছে। তারা জানিয়েছে, এই প্রতিবেদনে থাকা বর্ণনাগুলো মূলত প্রত্যক্ষদর্শীদের ‘ব্যক্তিগত ধারণা’। তাই এগুলোকে এলিয়েন বা ভিনগ্রহের প্রাণীর অস্তিত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা ঠিক হবে না।

পেন্টাগন জানিয়েছে, এটি কেবল শুরু। আগামী কয়েক সপ্তাহ পরপরই ধাপে ধাপে আরও নতুন নতুন ডিক্লাসিফাইড নথি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

সূত্র: সিএনএন
কেএএ/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow