এ কেমন সফল সন্তান?

এ কেমন সফল সন্তান? সমাজ তাদের কি বলে জানি না। আমি তাদের বলছি কুলঙ্গার! একজন মা, যিনি হয়তো একসময় নিজের সন্তানদের মানুষ করতে জীবনের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছিলেন, শেষ বয়সে তিনি পড়ে ছিলেন একটি অন্ধকার, আবর্জনায় ভরা কক্ষে। শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে পড়ছিল, অথচ কেউ খোঁজ নেয়নি। এই দৃশ্য শুধু একটি পরিবারের ব্যর্থতা নয়, এটি আমাদের সমাজের ভয়াবহ মানবিক অবক্ষয়ের প্রতিচ্ছবি। একজন ছেলে যুগ্মসচিব, আরেকজন বুয়েটের শিক্ষক, অন্যজন কানাডার সফল প্রতিষ্ঠিত ধনী। সমাজের চোখে তারা সফল প্রতিষ্ঠিত, সম্মানিত। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যে মা তাদের মানুষ করলেন, তার শেষ জীবন যদি হয় নিঃসঙ্গতা, অবহেলা আর অমানবিক মৃত্যুর গল্প, তবে সেই সাফল্যের মূল্য কোথায়? আজ যারা বড় বড় ডিগ্রি অর্জন করছে, উচ্চপদে চাকরি করছে, বিদেশে যাচ্ছে, সমাজে সম্মান পাচ্ছে, কিন্তু তারা ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলছে মানবতা, দায়িত্ববোধ আর পারিবারিক মূল্যবোধ। বৃদ্ধ বাবা-মা এখন তাদের কাছে যেন ‌‘অতিরিক্ত বোঝা’। ব্যস্ত জীবনের অজুহাতে তাদের কণ্ঠস্বর শোনা হয় না, তাদের নিঃসঙ্গতা বোঝা হয় না, তাদের ঘরের দরজা পর্যন্ত খোলা হয় না। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হলো, একজন মানুষ কয়েকদিন মৃত অবস্থ

এ কেমন সফল সন্তান?

এ কেমন সফল সন্তান? সমাজ তাদের কি বলে জানি না। আমি তাদের বলছি কুলঙ্গার! একজন মা, যিনি হয়তো একসময় নিজের সন্তানদের মানুষ করতে জীবনের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছিলেন, শেষ বয়সে তিনি পড়ে ছিলেন একটি অন্ধকার, আবর্জনায় ভরা কক্ষে। শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে পড়ছিল, অথচ কেউ খোঁজ নেয়নি। এই দৃশ্য শুধু একটি পরিবারের ব্যর্থতা নয়, এটি আমাদের সমাজের ভয়াবহ মানবিক অবক্ষয়ের প্রতিচ্ছবি।

একজন ছেলে যুগ্মসচিব, আরেকজন বুয়েটের শিক্ষক, অন্যজন কানাডার সফল প্রতিষ্ঠিত ধনী। সমাজের চোখে তারা সফল প্রতিষ্ঠিত, সম্মানিত। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যে মা তাদের মানুষ করলেন, তার শেষ জীবন যদি হয় নিঃসঙ্গতা, অবহেলা আর অমানবিক মৃত্যুর গল্প, তবে সেই সাফল্যের মূল্য কোথায়?

আজ যারা বড় বড় ডিগ্রি অর্জন করছে, উচ্চপদে চাকরি করছে, বিদেশে যাচ্ছে, সমাজে সম্মান পাচ্ছে, কিন্তু তারা ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলছে মানবতা, দায়িত্ববোধ আর পারিবারিক মূল্যবোধ। বৃদ্ধ বাবা-মা এখন তাদের কাছে যেন ‌‘অতিরিক্ত বোঝা’। ব্যস্ত জীবনের অজুহাতে তাদের কণ্ঠস্বর শোনা হয় না, তাদের নিঃসঙ্গতা বোঝা হয় না, তাদের ঘরের দরজা পর্যন্ত খোলা হয় না।

সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হলো, একজন মানুষ কয়েকদিন মৃত অবস্থায় পড়ে ছিলেন, অথচ আশপাশের মানুষ তা বুঝতে পারেনি। এর মানে আমরা শুধু পরিবার নয়, সমাজ হিসেবেও অসাড় হয়ে গেছি। পাশের ফ্ল্যাটে কে বেঁচে আছে, কে কষ্টে আছে, কে না খেয়ে আছে, সেসব জানার সময় আজ আর কারও নেই।

এ ঘটনা আমাদের একটি কঠিন সত্য মনে করিয়ে দেয়, শিক্ষিত হওয়া আর মানুষ হওয়া এক বিষয় নয়। একজন মানুষ উচ্চপদে থাকতে পারেন, বড় প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করতে পারেন, সমাজে সম্মান পেতে পারেন, কিন্তু যদি নিজের মায়ের শেষ জীবনে পাশে না থাকেন, তবে সেই অর্জন নিঃসন্দেহে অসম্পূর্ণ।

তারা ভুলে যায়, যে মা আমাদের হাত ধরে হাঁটতে শিখিয়েছেন, একদিন সেই মায়েরও প্রয়োজন হয় কারও হাত ধরার। আজকের এই নির্মম ঘটনা শুধু সংবাদপত্রের একটি খবর নয়, এটি আমাদের বিবেককে নাড়িয়ে দেওয়ার মতো এক সামাজিক আয়না। যেখানে দেখা যাচ্ছে, উন্নত ভবনের ভেতরেও মানবতা কখনও কখনও মৃত হয়ে পড়ে থাকে।

একটি জাতির নৈতিক পতন তখনই শুরু হয়, যখন বৃদ্ধ মা-বাবারা সন্তানদের ঘরে থেকেও একাকী হয়ে যান। বৃদ্ধাশ্রমে নয়, নিজের ঘরেই তারা মানসিকভাবে নির্বাসিত জীবন কাটান।

এমআরএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow