ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান লেগি রল লুইসকে গুগলি শিখিয়েছিলেন কিশোর আশরাফুল!
গত দু’দিন বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে ‘বল বয়’ প্রায় টক অব দ্য ক্রিকেট এরিনা হয়ে গেছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, ক্রিকেট বিশ্বে অনেক জায়গায়ই খেলা চলাকালীন কিশোর ক্রিকেটাররা সীমানার বাইরে বল বয়ের দায়িত্ব পালন করেন। এতে করে কিশোর বল বয়রা খুব কাছ থেকে ক্রিকেট ম্যাচ দেখতে পারেন। নিজেদের অনুশীলনের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটারদের কাছ থেকে দেখার, বোঝার ও জানার সুযোগও মেলে। এই বল বয়ের ভূমিকায় থেকেই আজ থেকে ২৮ বছর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের নেটে বল করার সুযোগ পেয়েছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের পরবর্তী সময়ের বিস্ময় বালক আশরাফুল। সময়কাল ১৯৯৮ সাল। ঢাকায় বসেছিল ৯ টেস্ট খেলুড়ে দেশকে নিয়ে মিনি ওয়ার্ল্ডকাপ। কেউ কেউ সেটাকে নকআউট ওয়ার্ল্ডকাপও বলে থাকেন। এখন সেটা আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। ওই ট্রফি খেলতে আসা ওয়েস্ট ইন্ডিজের নেটে বোলিং করে চমকে দিয়েছিলেন আজকের বাংলাদেশ ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল। আরও অবাক করা সত্য হলো, আশরাফুল যাকে নেটে বোলিং করতে গিয়ে লেগস্পিনের সঙ্গে হঠাৎ ‘গুগলি’ ছুড়ে অবাক করে দিয়েছিলেন, সেই ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান আর কেউ নন, বর্তমান বাংলাদেশ হেড কোচ ফিল সিমন্স। এই নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মোহাম্মদ আশরাফুল জাগো
গত দু’দিন বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে ‘বল বয়’ প্রায় টক অব দ্য ক্রিকেট এরিনা হয়ে গেছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, ক্রিকেট বিশ্বে অনেক জায়গায়ই খেলা চলাকালীন কিশোর ক্রিকেটাররা সীমানার বাইরে বল বয়ের দায়িত্ব পালন করেন। এতে করে কিশোর বল বয়রা খুব কাছ থেকে ক্রিকেট ম্যাচ দেখতে পারেন। নিজেদের অনুশীলনের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটারদের কাছ থেকে দেখার, বোঝার ও জানার সুযোগও মেলে।
এই বল বয়ের ভূমিকায় থেকেই আজ থেকে ২৮ বছর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের নেটে বল করার সুযোগ পেয়েছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের পরবর্তী সময়ের বিস্ময় বালক আশরাফুল। সময়কাল ১৯৯৮ সাল। ঢাকায় বসেছিল ৯ টেস্ট খেলুড়ে দেশকে নিয়ে মিনি ওয়ার্ল্ডকাপ। কেউ কেউ সেটাকে নকআউট ওয়ার্ল্ডকাপও বলে থাকেন। এখন সেটা আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি।
ওই ট্রফি খেলতে আসা ওয়েস্ট ইন্ডিজের নেটে বোলিং করে চমকে দিয়েছিলেন আজকের বাংলাদেশ ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল। আরও অবাক করা সত্য হলো, আশরাফুল যাকে নেটে বোলিং করতে গিয়ে লেগস্পিনের সঙ্গে হঠাৎ ‘গুগলি’ ছুড়ে অবাক করে দিয়েছিলেন, সেই ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান আর কেউ নন, বর্তমান বাংলাদেশ হেড কোচ ফিল সিমন্স।
এই নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মোহাম্মদ আশরাফুল জাগো নিউজকে জানান, তার ক্যারিয়ারে ঢাকা স্টেডিয়ামে কোচিং করা এবং বল বয়ের দায়িত্ব পালন করা নব্বইয়ের মাঝামাঝি থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত তাকে টেস্ট ক্রিকেটে সফল হতে অনেক বড় ভূমিকা রেখেছে। তিনি নেটেও অনেক সময় বড় বড় ক্রিকেটারদের বল করেছেন বলে জানিয়েছেন আশরাফুল।
বলে রাখা ভালো, বর্তমান প্রজন্ম তাকে ব্যাটার হিসেবে চিনলেও আশরাফুল প্রথম জীবনে বেশ কয়েক বছর বোলিং করতেন নিয়মিত। লেগস্পিনার ছিলেন। গুগলি ছোড়ার ক্ষমতাও ছিল। সেই প্রসঙ্গে একটি ঘটনার উদাহরণ টেনে আশরাফুল মঙ্গলবার রাতে জাগো নিউজকে জানান, ‘ঢাকায় হওয়া ১৯৯৮ সালের মিনি ওয়ার্ল্ডকাপের রানার্স-আপ ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অন্যতম ব্যাটার ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের বর্তমান হেড কোচ ফিল সিমন্স। আমরা সেই সময় ঢাকা স্টেডিয়ামে প্রতিদিন বিকেলে ওয়াহিদ স্যারের (জাতীয় দলের সাবেক লেগস্পিন গুগলি বোলার ও বর্তমানে বিসিবির অনুমোদিত ক্রিকেট কোচ এবং আশরাফুল, শাহরিয়ার নাফিস, মোহাম্মদ শরীফ, আশিক ও আরিফদের গুরু) আন্ডারে কোচিং করতাম। সেই সুবাদে ওয়েস্ট ইন্ডিজের নেটে বোলিং করার সুযোগ পাই। লেগ স্পিন করতে করতে হঠাৎ গুগলি ছুড়ে দিই।’
১৫ বছরের এক কিশোর অবলীলায় গুগলি ছুড়ে দেখে অবাক বনে যান তখনকার ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ব্যাটার ফিল সিমন্স। কারণ তার কল্পনায়ও ছিল না ওই বয়সী আশরাফুল গুগলিও ছুড়তে পারে। এবং সেই গুগলি দেখার পর সিমন্স ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওই দলের একজন লেগ স্পিনার ছিলেন, নাম রল লুইস; তাকে ডাক দিয়ে এনে আমার সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন। এবং বলেন, ‘শোন লুইস, এখন থেকে আমরা যে কদিন ঢাকায় আছি, তুমি প্রতিদিন আধা ঘণ্টা করে গুগলি প্র্যাকটিস করবে আশরাফুলের সঙ্গে।’
আশরাফুলের বক্তব্য, এই ধরনের বল বয় থেকে বড় বড় ক্রিকেটারদের সান্নিধ্যে যাওয়া উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং অনুপ্রেরণা বাড়ায় এবং অল্প বয়সী ক্রিকেটারদের, বিশেষ করে যারা বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে অনূর্ধ্ব-১৩ বা ১৫-তে, তারা পরবর্তীতে বড় ক্রিকেটার হতে উদ্বুদ্ধ হবে। কাজেই তামিম ইকবালের এই বল বয় প্রথা চালু করাকে দারুণভাবে প্রশংসা করলেন মোহাম্মদ আশরাফুল।
এআরবি/এমএমআর
What's Your Reaction?