কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স থেকে গেটপাস- যে কাজগুলো করতে আগে পাঁচ দিন পর্যন্ত সময় লাগত, সেগুলো এখন আধা ঘণ্টার মধ্যেই শেষ করা যাবে। সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থায় রূপান্তরের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বন্দর ভবনের বোর্ডরুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), কাস্টমসসহ বন্দরসংশ্লিষ্ট সব সেবাকে এক প্ল্যাটফর্মে আনতে চালু করা হয়েছে পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডো (সিপিএ স্কাই)।
বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, বন্দরের অটোমেশন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ চলছিল। চুয়েটের সহায়তায় পুরো টিম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই জটিল কাজ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্বের প্রায় সব বন্দরই এখন ডিজিটাল ও অটোমেটেড। আমরা এতদিন ডিজিটাল মেরিটাইম লজিস্টিক করিডোর থেকে অনেকটাই পিছিয়ে ছিলাম। এখন আর কাগজের ফাইল দেখতে চাই না।
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, যদিও বন্দর ব্যবস্থাপনায় টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম (টিওএস) এবং এনবিআরের অ্যাসাইকুডা সিস্টেম আগে থেকেই ছিল, তবে বাস্তবে একটি কার্যকর পোর্ট কমিউনিটি সিস্টেম অনুপস্থিত ছিল। নতুন এই প্ল্যাটফর্মে কাস্টমস, ব্যাংক, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডারসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা একত্রিত হয়েছে। ফলে আগে যেসব কাজ ডেস্কে ডেস্কে ঘুরে করতে হতো, সেগুলো এখন অনলাইনেই সম্পন্ন হবে।
এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, নতুন ব্যবস্থার ফলে জাহাজের টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। বন্দরের অপ্রয়োজনীয় মুভমেন্ট কমে গ্রিন পোর্ট ধারণা বাস্তবায়নের পথ খুলবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দর বৈশ্বিক লজিস্টিক নেটওয়ার্কে সরাসরি সংযুক্ত হলো।
তিনি আরও বলেন, এখন আমদানি পণ্য জাহাজে ওঠার আগেই অনলাইনে প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে। কাস্টমসের ইজিএম, আইজিএম, প্রি-অ্যারাইভাল প্রসিডিউরসহ সব কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাত দিন যে কোনো স্থান থেকে করা সম্ভব হবে। আমাদের অফিসিয়াল ফাংশন হবে পুরোপুরি ডিজিটাল। কিছুটা সময় লাগবে অভ্যস্ত হতে, তবে আমরা পেপারলেস বন্দরের দিকেই যাচ্ছি, বলেন তিনি।
বন্দর চেয়ারম্যানের মতে, এই সিস্টেম চালুর ফলে জবাবদিহি নিশ্চিত হবে, ডেলিভারি বিলম্ব ও মিস ম্যানেজমেন্ট কমবে এবং সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বাড়বে। এটি শুধু বর্তমান নয়, আগামী ৫০ থেকে ১০০ বছরের জন্য দেশের মানুষকে সুফল দেবে, যোগ করেন তিনি।
এ সময় সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ, সদস্য (অর্থ) মো. মাহবুব আলম তালুকদার, সদস্য (প্রকৌশল) কমডোর মো. মাযহারুল ইসলাম জুয়েল, পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম, পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুকসহ বন্দরের বিভিন্ন বিভাগের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।