কাফনের কাপড় জড়িয়ে নিরাপত্তা চাইলেন কাওয়ালী শিল্পী

চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় পরিবার ও নিজ জীবনের নিরাপত্তা চেয়েছেন কাওয়ালী শিল্পী মো. শাহীন রেজা। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কাফনের কাপড় জড়িয়ে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি। এসময় উপস্থিত ছিলেন তার বড় ছেলে সায়হান রেজা রবিউল, ছোট ছেলে শাহাদাত রেজা হোসাইন এবং মো. মিনহাজুল ইসলাম। শিল্পী শাহীন রেজার অভিযোগ, ব্যবসা সম্প্রসারণের পর থেকেই আওয়ামী লীগের একটি চক্র তার কাছে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি করে আসছে। ২০২১ সালে তিনি নতুন একটি ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার পর চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই চক্র তার বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও দখলের চেষ্টা চালায়। এতে গুরুতর আহত হয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি জানান, ওই ঘটনার পর চক্রটির বিরুদ্ধে থানায় একাধিক অভিযোগ ও মামলা করা হলেও তাদের চাঁদাবাজি থেমে নেই। সম্প্রতি আবারও চাঁদা না পেয়ে অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মেসেঞ্জারে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এক বার্তায় বলা হয়, কাফনের কাপড় কিনে রাখ, যা খাওয়ার আছে খেয়ে নাও। একই দিন রাত ৯টার দিকে ভয়েস মেসেজে আরও বলা হয়, আগামী ৭ দিনের মধ্যে তোকে মেরে

কাফনের কাপড় জড়িয়ে নিরাপত্তা চাইলেন কাওয়ালী শিল্পী

চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় পরিবার ও নিজ জীবনের নিরাপত্তা চেয়েছেন কাওয়ালী শিল্পী মো. শাহীন রেজা। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কাফনের কাপড় জড়িয়ে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি। এসময় উপস্থিত ছিলেন তার বড় ছেলে সায়হান রেজা রবিউল, ছোট ছেলে শাহাদাত রেজা হোসাইন এবং মো. মিনহাজুল ইসলাম।

শিল্পী শাহীন রেজার অভিযোগ, ব্যবসা সম্প্রসারণের পর থেকেই আওয়ামী লীগের একটি চক্র তার কাছে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি করে আসছে। ২০২১ সালে তিনি নতুন একটি ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার পর চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই চক্র তার বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও দখলের চেষ্টা চালায়। এতে গুরুতর আহত হয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন।

তিনি জানান, ওই ঘটনার পর চক্রটির বিরুদ্ধে থানায় একাধিক অভিযোগ ও মামলা করা হলেও তাদের চাঁদাবাজি থেমে নেই।

সম্প্রতি আবারও চাঁদা না পেয়ে অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মেসেঞ্জারে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এক বার্তায় বলা হয়, কাফনের কাপড় কিনে রাখ, যা খাওয়ার আছে খেয়ে নাও। একই দিন রাত ৯টার দিকে ভয়েস মেসেজে আরও বলা হয়, আগামী ৭ দিনের মধ্যে তোকে মেরে ফেলব, তোর স্ত্রী-সন্তানদেরও হত্যা করব।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত ২১ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মামলার ১ নম্বর আসামি মোহাম্মদ আজিম একটি ফেসবুক আইডি থেকে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে তাকে হুমকি দেয়। তিনি আরও বলেন, গরুর ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার পর থেকেই একটি চক্র নিয়মিত তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। চক্রটি বায়েজিদ এলাকায় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে তিনি দাবি করেন। তবে তিনি কখনোই তাদের অবৈধ দাবি মেনে নেননি।

২০২১ সালের হামলার ঘটনার শারীরিক চিহ্ন এখনো বহন করছেন বলে দাবি করেন তিনি। চাঁদার চাপ ও নির্যাতনের কারণে একপর্যায়ে তার ব্যবসাও বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন নম্বর ব্যবহার করে, এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়েও তাকে ও তার পরিবারকে নিয়মিত হুমকি দিয়ে আসছে। এ ঘটনায় ২০২২ সালের ২৫ এপ্রিল একটি মামলা করেন, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। এছাড়া ২০২৩ সালের ৭ ও ১৩ এপ্রিল এবং ২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল বায়েজিদ বোস্তামী থানায় তিনটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন, যা তদন্তাধীন রয়েছে।

সর্বশেষ গত ২২ এপ্রিল ফেসবুকে ভয়েস মেসেজে হুমকি পাওয়ার ঘটনায় থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ গড়িমসি করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে বাধ্য হয়ে একই দিন চট্টগ্রাম মহানগর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি জিডি করেন।

জিডিতে ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন— হাটহাজারী উপজেলার মোহাম্মদ আজিম (৪৫), বায়েজিদের তৈয়বিয়া হাউজিং সোসাইটির মো. তাজুল ইসলাম (৫৫) ও তার ছেলে তানিন (২৫), পূর্ব শহীদ নগরের আবদুল কাদের সরদার (৪৫), অক্সিজেন আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল নবী ওরফে লেদু (৫২) এবং আনোয়ার হোসেন সিন্টু (৩৫)।

ভুক্তভোগী জানান, তিনি ও তার পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন এবং প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এ অবস্থায় অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow