কারখানার শ্রমিক থেকে মালয়েশিয়া জাতীয় দলে খুলনার ক্রিকেটার সাকিব
বাংলাদেশের জার্সি গায়ে খেলার স্বপ্ন ছিল তার। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে একের পর এক ধাপ পেরিয়ে সেই স্বপ্নের দিকেই এগোচ্ছিলেন। হয়েছিলেন খুলনা জেলা অনূর্ধ্ব-১৬ দলের অধিনায়ক, বিভাগীয় দলেও খেলেছেন। কিন্তু জীবনের সবচেয়ে কঠিন বাউন্সারটা আসে মাঠের বাইরে, বাবার মৃত্যু! মুহূর্তেই বদলে যায় সব হিসাব। ব্যাট-বল ছেড়ে সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হয়। জীবিকার সন্ধানে পাড়ি জমান মালয়েশিয়ায়। সেখানেই যেন নতুন করে শুরু হয় আরেকটি গল্প। দিনের পর দিন কারখানায় শ্রমিকের কাজ, কাঁধে ৪০-৫০ কেজির কার্টন, ক্লান্ত শরীর নিয়ে রাতের শেষে মোজার ভেতরে বল ঢুকিয়ে একা একা ব্যাটিং অনুশীলন। সেই ছেলেটিই আজ মালয়েশিয়া জাতীয় দলের ক্রিকেটার। ভাগ্যের নির্মম মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে জীবন, কিন্তু ক্রিকেটকে ছেড়ে দিতে পারেননি তিনি। এবার সেই ক্রিকেটই তাকে ফিরিয়ে এনেছে নিজের দেশে- তবে বাংলাদেশের জার্সিতে নয়, মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি হয়ে। বলছিলাম বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল খুলনার ছেলে নাজমুস সাকিবের কথা। বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে এসে জাগোনিউজের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় নিজের দীর্ঘ পথচলার গল্প শুনিয়েছেন মালয়েশিয়া জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাজমুস স
বাংলাদেশের জার্সি গায়ে খেলার স্বপ্ন ছিল তার। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে একের পর এক ধাপ পেরিয়ে সেই স্বপ্নের দিকেই এগোচ্ছিলেন। হয়েছিলেন খুলনা জেলা অনূর্ধ্ব-১৬ দলের অধিনায়ক, বিভাগীয় দলেও খেলেছেন। কিন্তু জীবনের সবচেয়ে কঠিন বাউন্সারটা আসে মাঠের বাইরে, বাবার মৃত্যু! মুহূর্তেই বদলে যায় সব হিসাব। ব্যাট-বল ছেড়ে সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হয়। জীবিকার সন্ধানে পাড়ি জমান মালয়েশিয়ায়।
সেখানেই যেন নতুন করে শুরু হয় আরেকটি গল্প। দিনের পর দিন কারখানায় শ্রমিকের কাজ, কাঁধে ৪০-৫০ কেজির কার্টন, ক্লান্ত শরীর নিয়ে রাতের শেষে মোজার ভেতরে বল ঢুকিয়ে একা একা ব্যাটিং অনুশীলন। সেই ছেলেটিই আজ মালয়েশিয়া জাতীয় দলের ক্রিকেটার। ভাগ্যের নির্মম মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে জীবন, কিন্তু ক্রিকেটকে ছেড়ে দিতে পারেননি তিনি। এবার সেই ক্রিকেটই তাকে ফিরিয়ে এনেছে নিজের দেশে- তবে বাংলাদেশের জার্সিতে নয়, মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি হয়ে। বলছিলাম বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল খুলনার ছেলে নাজমুস সাকিবের কথা।
বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে এসে জাগোনিউজের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় নিজের দীর্ঘ পথচলার গল্প শুনিয়েছেন মালয়েশিয়া জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাজমুস সাকিব। নিজ জন্মভূমির বিপক্ষে খেলা চ্যালেঞ্জিং হলেও পেশাদারিত্বের ছাপ রাখতে চান তিনি।
সাকিব বলেন, ‘দেশের বিপক্ষে খেলা সবসময় একটা চ্যালেঞ্জিং। কারণ দেশের মাটির প্রতি সবার একটা মায়া থাকে। তবে আমি মালয়েশিয়া জাতীয় দলের হয়ে খেলছি, আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আমি মালয়েশিয়ার হয়ে রিপ্রেজেন্ট করছি, সর্বোচ্চ চেষ্টা করব এবং আমার সেরাটা দিয়ে খেলার চেষ্টা করব।’
আজ তিনি মালয়েশিয়ার ক্রিকেটার। কিন্তু তার ক্রিকেটের শিকড় রয়ে গেছে বাংলাদেশেই। সেই গল্প বলতে গিয়ে সাকিব ফিরে গেলেন প্রায় এক যুগ আগের দিনগুলোয়, ‘আমি বাংলাদেশে বয়স ভিত্তিক খেলেছি। ২০১৪ সালে অনূর্ধ্ব-১৪ খেলেছি, অনূর্ধ্ব-১৬ খেলেছি। ডিভিশন টিমের ক্যাপ্টেনও ছিলাম এবং খুলনা ডিস্ট্রিক্ট অনূর্ধ্ব-১৬ টিমের ক্যাপ্টেন ছিলাম, ডিভিশনও খেলেছি।’
সবকিছুই ঠিকঠাক এগোচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ বাবার মৃত্যু বদলে দেয় পুরো জীবন। সাকিব বলছিলেন, ‘এরপর আব্বু মারা যাওয়ার কারণে পরিবারের দায়িত্ব নিতে ক্রিকেট ক্যারিয়ারটা শেষ করে মালয়েশিয়া যাওয়া লাগে। আমার দুইটা বোন আছে, আম্মু আছে। আর আমি একা, আমার কোনো ভাই নেই। এ কারণেই পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য আমি মালয়েশিয়ায় যাই কাজের উদ্দেশ্যে।’
তবে ক্রিকেটের নেশা ছাড়তে পারেননি সাকিব। ভিনদেশে গিয়েও খুজে নিয়েছেন ক্রিকেট আনন্দ, ‘ওখানে কাজের পাশাপাশি যখনই ছুটি থাকতো আমি খেলাধুলাটা চালিয়ে যেতাম। তিন বছর আমি ওখানে টানা টেপ টেনিস বলে খেলতাম।’
সেই টেপ টেনিসই পরে হয়ে ওঠে ভাগ্য বদলের সেতু। একদিন স্থানীয় একটি ম্যাচে পরিচয় হয় এক ক্লাব কর্মকর্তার সঙ্গে। তিনি সাকিবকে ক্লাবে খেলতে ডাকেন। প্রথম ম্যাচেই সবাইকে চমকে দেন বাংলাদেশি এই ব্যাটার। সাকিব বলছিলেন, ‘একদিন টেপ টেনিস বল খেলতে গিয়ে একজনের সাথে পরিচয় হয়। তাদের ক্লাব আছে, ওই ক্লাবে যাওয়ার পর থেকে ওখানে আমি প্র্যাকটিস ছাড়া মালয়েশিয়াতে প্রথম ম্যাচেই ৫০ বলে ১০০ রান করেছিলাম।’
এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। ইন্টার-স্টেট টুর্নামেন্টে সুযোগ হয়, প্রথম বছর তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক, পরের বছর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। সেখান থেকেই খুলে যায় জাতীয় দলের দরজা।
সাকিব বলেন, ‘তারপরে মালয়েশিয়ায় ইন্টার-স্টেট নামে একটা টুর্নামেন্ট হয়, ওখানে আমার সুযোগ আসে। ওখানে আমি ভালো পারফর্ম করি। ওখানে ফার্স্ট ইয়ারে আমি তৃতীয় সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলাম। এরপর পরের বছর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলাম। তো তারপরে মালয়েশিয়া-এ দলে আমার সুযোগ আসে ইতালির বিপক্ষে।’
সুযোগটাও লুফে নেন সাকিব, ‘ওখানে একটু ভালো করি। তারপরে সিঙ্গাপুরের সাথে একটা ম্যাচ হয়, সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল টিমের সাথে এবং মালয়েশিয়া-এ দলের সাথে। ওই ম্যাচে আমি ৫০ বলে ১২২ রান করি। ৫০ বলে ১২২ রান করার পরে আমার জাতীয় দলে ডাক আসে। তারপরে মালয়েশিয়ার হয়ে খেলছি। এভাবেই আমার শুরুটা হয় মালয়েশিয়ায়।’
মালয়েশিয়ায় শীর্ষ পর্যায়ে খেলার প্রস্তাব পেয়ে বড় ভাইয়ের সঙ্গে পরামর্শ করেছিলেন সাকিব, ‘ক্রিকেট বোর্ডের অফারটা আসে তখন আমি আমার বড় ভাই আজিজকে ফোন দিই। ভাইয়ার সাথে পরামর্শ করলে ভাইয়া আমাকে বলল যে এভাবে প্রসেসিং করো আস্তে আস্তে খেলো। কিছু সময় কোম্পানি থেকে ছুটি নিয়ে খেলতে গেছি। এভাবেই শুরুতেই আস্তে আস্তে আমি এখানে। ভাইয়া যদি ওই সময় আমাকে মানসিকভাবে সাপোর্ট না করত তাহলে আমি হয়তোবা নিজেকে মেলে ধরতে পারতাম না।’
২০১৮ সালের ১৪ নভেম্বর ওয়ার্কিং ভিসায় মালয়েশিয়া যান সাকিব। মালয়েশিয়ায় গিয়ে জীবিকার জন্য কাজ শুরু করেন একটি বেডশিট তৈরির কারখানায়। সারাদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে রাতে বাসায় ফিরেও অনুশীলন চালিয়ে গেছেন তিনি সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে সাকিব বলেন, ‘আমি ওই দেশে কাজ করতাম একটা বেডশিট ফ্যাক্টরিতে। ওদের ওয়ার্কিং ভিসাতে আমি যাই ২০১৮ সালের ১৪ই নভেম্বর। ওখানে কন্টেইনার নামাতাম দিনে চারটা। এক একটা ওজনদার বক্সে প্রায় ৪০ কেজি ৫০ কেজি।’
দিন শেষে শরীর ভেঙে পড়ত। কিন্তু ক্রিকেটের জন্য আলাদা সময় বের করতেন, ‘ওইটা নামানোর পরে ধরেন রাতে ক্লান্ত হয়ে যেতাম। তবে একজন ক্রিকেটারের সর্বপ্রথম প্রয়োজন হচ্ছে প্রচুর পরিমাণে প্র্যাকটিস। আপনি যত প্র্যাকটিস করবেন ততই আপনি ভালো উন্নতি করতে পারবেন। আমি যখন কাজ করতাম আমি অনেক ক্লান্ত থাকতাম। তবে ক্লান্তির পাশাপাশি আমার মনের জেদটা ছিল। রাতে রুমে গিয়ে মোজার ভিতরে বল দিয়ে ওইটা দিয়ে আমি নিজে নকিং করতাম যাতে অন্তত আই কন্টাক্টটা যাতে ঠিক থাকে।’
সাকিবের বিশ্বাস ছিল একটাই- বাংলাদেশিদের রক্তে ক্রিকেট মিশে আছে। তিনি বলছিলেন, ‘সবথেকে বড় কথা হচ্ছে আমার মনের জেদটা ছিল যে আমি পারব। আমি বাংলাদেশি মানুষ, সবাই আমরা একটা জিনিস বিশ্বাস করি যে বাংলাদেশি আমাদের রক্তের সাথে ক্রিকেট মিশে আছে। তো ওই জেদটা আমার ভিতরে কাজ করছিল। এজন্যই আর কি আমার দ্বারা সম্ভব হয়েছে।’
শুধু নিজের জন্য নয়, আরেকজন মানুষের স্বপ্নও বয়ে বেড়াচ্ছিলেন সাকিব, ‘আমার বড় ভাই আছে একজন আজিজ শেখ, আমার চাচাতো ভাই। তার স্বপ্ন ছিল জাতীয় দলের ক্রিকেটার হওয়া। ফ্যামিলি ইস্যুর কারণে সে হতে পারেনি। আমি তার স্বপ্নটা পূরণ করার জন্য নিজের জেদ হিসেবে নিয়েছি যে আমার ভাই পারেনি আমি এটা পারব।’
আর নিজের সাফল্যের চেয়েও বড় স্বপ্ন তার ছিল প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য। সাকিব বলেন, ‘আশা করি সবাই দোয়া করবেন আমার জন্য, আমি এটাই চাই যাতে আমি ভবিষ্যতে আরও কিছু করতে পারি এবং আমাদের বাংলাদেশকে যেন আরও গর্বিত করতে পারি বিদেশের মাটিতে। যাতে আমাদের যারা মালয়েশিয়ান প্রবাসী আছে, স্পেশালি মালয়েশিয়ার এখন যে ইস্যুটা, অনেক ধরপাকড় করছে। ওই জিনিসটাতে আমি চাচ্ছি যে আমি এমন একটা লাইমলাইট করি যাতে অন্তত মালয়েশিয়া প্রবাসীরাও যাতে গর্ব করে বলতে পারে যে আমাদের আপনাদের এই দেশে বাঙালি একটা ছেলে আছে আমাদের গর্ব।’
সাকিবের ক্রিকেটের শেকড়টা খুলনাতেই। সেই শুরুর গল্পে আছে স্কুলজীবনের এক বন্ধুর উৎসাহ, একজন কোচের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, আর এমন কিছু মানুষের অবদান, যাদের কথা বলতে গিয়ে আজও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
হাসতে হাসতেই সাকিব বলছিলেন, তার ক্রিকেটে আসার গল্পটা আসলে অনেকটাই সিনেমার মতো, ‘এটা একটা ইন্টারেস্টিং ব্যাপার, রিলেশনশিপের মতো! আমি তখন ক্লাস সিক্সে পড়ি। একদিন স্কুলে আমার পাশে এক বান্ধবী বসা ছিল। তখন স্কুলে আমার জুয়েল স্যার আছে খুলনার, উনি আর কি স্কুলে প্লেয়ার নেওয়ার জন্য এসেছিল।’
নিজে কিন্তু প্রথমে হাত তুলতেই চাননি সাকিব, ‘সাইফুল স্যার জিজ্ঞেস করছিল যে কে কে ক্রিকেট খেলবা ক্রিকেট বলে। আমি হাত উঁচু করছিলাম না, কিন্তু আমার ওই বান্ধবীটা বলছে যে তুই হাত উঁচু কর, তুই তো ভালো খেলিস। এমনি প্লাস্টিক বলে, ফাইভ স্টার বলে ভালো খেলিস হাত উঁচু কর। আমি হাত উঁচু করিনি, পরে ও নিজে থেকেই বলে দিয়েছিল যে স্যার সাকিব ভালো খেলে।’
সেখান থেকেই শুরু। জুয়েল স্যারের চোখে পড়ে যান সাকিব। এরপর ট্রায়াল, অনুশীলন, আর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই স্কুল দলের জার্সিও উঠে যায় তার গায়ে। সাকিব বলছিলেন, ‘পরে জুয়েল স্যার ওইভাবে আর কি আমারে টিমে সিলেক্ট করে। স্কুলের বাচ্চা আরও যারা ভালো ছিল সবার সাথে একটা ট্রেনিং হয়। ট্রেনিং হওয়ার পরেই আমি ২০১২ সালে গাজী মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হয়ে খেলি। ফাইনালে আমি অপরাজিত ৪৮ রান করি। আমাদের টিম চ্যাম্পিয়ন হয়। ওই সময় আমাদের উপজেলার চেয়ারম্যান ছিল আলী আকবর। তিনি আমাকে একটা পুরস্কার দিয়েছিলেন শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়ের।’
সেই টুর্নামেন্টের পর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। জুয়েল স্যারের একাডেমিতে ভর্তি হন সাকিব। আর সেখান থেকেই ক্রিকেটটা হয়ে ওঠে জীবনের সবচেয়ে বড় ভালোবাসা। তবে সম্পর্কটা কোচ-শিক্ষার্থীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। জুয়েল স্যার হয়ে উঠেছিলেন দ্বিতীয় বাবা।
সাকিব বলেন, ‘তারপর জুয়েল স্যারের খুলনা ক্রিকেট একাডেমিতে আমি প্র্যাকটিস করি। জুয়েল স্যার আমার কাছ থেকে কখনো টাকা পয়সা নেয়নি। এখনো সে আমার কাছ থেকে কখনো কিছু টাকা পয়সা চায় না। আমি দিতে চাইলেও সে নেয়নি কখনো। আমাকে সবসময় তার ছেলের মতন করে ভালোবাসে।’
ক্রিকেট ক্যারিয়ারের প্রয়োজনীয় প্রায় সবকিছুই জোগাড় করে দিয়েছেন সেই মানুষটি, ‘আমি আমার লাইফের যত ইনস্ট্রুমেন্ট কিনছি, সবই তার দেওয়া। উনিই আমাকে কিনে দিয়েছেন। আমার যখনই যেটা লাগতো, জুয়েল স্যারের কাছে চাইতাম। স্যার বলতো ঠিক আছে এই টুর্নামেন্ট সামনে আসতেছে এখানে তুমি একটা ফিফটি মেরে দেখাও বা একটা হান্ড্রেড মেরে দেখাও। আমি সবসময় ওইটা পূরণ করতাম আর উনি আমাকে ওইভাবে সবকিছু দিত।’
ক্রিকেটের পথে পথ চলা শুরুর পথের সতীর্থদেরও ভোলেননি সাকিব, ‘মেহরাব, মেহেদী সবাই আমাকে পরামর্শ দিতো। মেহেদী ভাইয়ের ব্যাট দিয়েও খেলেছি আমি। পরে আম্মু কানের দুল বিক্রি করে ব্যাট কিনে দিয়েছিলেন।’
মালয়েশিয়ার ক্রিকেট নিয়েও আশাবাদী সাকিব। তার বিশ্বাস, দেশটি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, ‘আমরা এখন টি-টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ে ২৫ এ আছি। ২০২৪ এ মালয়েশিয়া ক্রিকেট বোর্ড খেলোয়াড়দের যাবতীয় ফ্যাসিলিটি দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেছে। ওরা খেলোয়াড়দের খুব ভালোভাবে নজরে রাখে। আমরা হচ্ছি তাদের ছেলেমেয়ে আর তারা হচ্ছে আমাদের বাবা-মা। আমরা কখন কি করতেছি না করতেছি আমাদের ফ্যামিলি প্রবলেমসও তারা দেখার চেষ্টা করতেছে।’
শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যতের লক্ষ্যও পরিষ্কার, ‘মালয়েশিয়া সবকিছু আরও ভালোভাবে করার চেষ্টা করতেছে। মালয়েশিয়ান ক্রিকেট বোর্ড থেকে আমাদের যে ফিউচার প্ল্যান দিছে আপাতত আমরা এখন বিশ্বের ২৫ নাম্বার র্যাংকিংয়ে আছি। আমাদের ফিউচার প্ল্যান হচ্ছে, বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করব এবং বিশ্ব র্যাংকিংয়ে ২০ এর মধ্যে আসব। দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই, যাতে যতদিন ক্রিকেট খেলছি আমি আমার সেরাটা দিয়ে তাদের এই আশাটা পূরণ করার চেষ্টা করতে পারি।’
মেহেদী হাসান রোহান, সাকিবের বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের সতীর্থ, যার ব্যাট ধার নিয়ে খেলতেন সাকিব
অনেকেই হয়তো ভাববেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলা একজন ব্যাটারের আদর্শ হবেন বিরাট কোহলি বা বাবর আজমের মতো কেউ। কিন্তু সাকিবের উত্তরটা ছিল আলাদা। বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে তিনি সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন নুরুল হাসান সোহানকে। ব্যাটিংয়ে অনুসরণ করেন তামিম ইকবালকে, আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শুভমান গিলকে। তবে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা তার নিজের বড় ভাই।
সাকিব বলেন, ‘বাংলাদেশি হিসেবে নুরুল হাসান সোহান ভাইকে আমার খুব পছন্দ। আমি উইকেটকিপার, উনিও উইকেটকিপার। ব্যাটিংয়ে তামিম ইকবালকে ভালো লাগে, আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শুভমান গিলকে ফলো করি। কিন্তু আমার আসল আইডল আমার বড় ভাই। আব্বু মারা যাওয়ার পর যেভাবে উনি পুরো পরিবারকে সামলেছেন, সেটা আমি নিজের চোখে দেখেছি। ওনাকে দেখলেই সাহস পাই যে আমিও পারব। আমার ভেতরে হারার চিন্তা নেই, আমি শুধু জিততে চাই।’
মালয়েশিয়ার জাতীয় দলের ক্রিকেটার হওয়ার পরও সুযোগ পেলেই বাংলাদেশে ফিরে আসেন সাকিব। কারণ, তার বিশ্বাস, নিজের ক্রিকেটীয় দক্ষতা বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশের মতো জায়গা খুব কমই আছে। তিনি বলেন, ‘আমি বাংলাদেশে আসি নিজের স্কিল ডেভেলপ করার জন্য। এখানে অনেক কোয়ালিটি স্পিনার আছে। আমি পেস ভালো খেলি, কিন্তু স্পিনের বিপক্ষে নিজেকে আরও ভালো করতে চাই। ম্যাচ খেললে সেন্স বাড়ে। সেই কারণেই সুযোগ পেলেই দেশে এসে খেলি।’
সর্বশেষ ঢাকা প্রথম বিভাগ লিগে ওল্ড ডিওএইচএসের হয়ে নাম লেখালেও ইনজুরির কারণে মাঠে নামা হয়নি। খুলনার লিগেও খেলেছেন তিনি। এশিয়া কাপ বাছাইপর্বের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই বাংলাদেশ সফরকে ব্যবহার করছে মালয়েশিয়া দল।
এসকেডি/আইএইচএস/
What's Your Reaction?