কারফিউ ভাঙা ‘গানের মিছিল’ স্মরণ করলেন তারা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে কারফিউ ভেঙে বের হয়েছিল ‘গানের মিছিল’! সেই দিনটির স্মরণে আয়োজ করা হয়েছিল সাংস্কৃতিক সমাবেশ। গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যর আয়োজনে আজ (২৬ জুলাই) শনিবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছিল দিনটির দ্বিতীয় বার্ষিকী উদ্‌যাপন। এ সমাবেশে গণঅভ্যুত্থানে সাংস্কৃতিককর্মীদের ভূমিকা, আন্দোলনের স্মৃতি এবং ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। দীনবন্ধু দাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ, শিক্ষক ও সংস্কৃতিকর্মী সামিনা লুত্ফা নিত্রা, রাফিকুজ্জামান ফরিদ, শামসুজ্জামান মিলন, রঘু অভিজিৎ রায়, জাকির হোসেন (চারণ), মফিজুর রহমান লালটু, জামসেদ আনোয়ার তপন এবং কামাল হোসেন বাদল। পাশাপাশি গান, কবিতা ও আবৃত্তি পরিবেশিত হয়। বিবর্তন দলের সাধারণ সম্পাদক ও সংস্কৃতিকর্মী মফিজুর রহমান লালটু বলেন, ‘২৬ জুলাই সংস্কৃতিকর্মীদের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশ ও গানের মিছিলের মধ্যদিয়ে প্রথমবারের মতো কারফিউ ভাঙা হয়েছিল। এতে স্তিমিত হয়ে পড়া আন্দোলনে নতুন গতি আসে এবং সাধারণ মানুষ ভয় কাটিয়ে রাজপথে নামতে শুরু করেন।’ তার ভাষ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গানে গানে রাজ

কারফিউ ভাঙা ‘গানের মিছিল’ স্মরণ করলেন তারা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে কারফিউ ভেঙে বের হয়েছিল ‘গানের মিছিল’! সেই দিনটির স্মরণে আয়োজ করা হয়েছিল সাংস্কৃতিক সমাবেশ। গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যর আয়োজনে আজ (২৬ জুলাই) শনিবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছিল দিনটির দ্বিতীয় বার্ষিকী উদ্‌যাপন। এ সমাবেশে গণঅভ্যুত্থানে সাংস্কৃতিককর্মীদের ভূমিকা, আন্দোলনের স্মৃতি এবং ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

দীনবন্ধু দাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ, শিক্ষক ও সংস্কৃতিকর্মী সামিনা লুত্ফা নিত্রা, রাফিকুজ্জামান ফরিদ, শামসুজ্জামান মিলন, রঘু অভিজিৎ রায়, জাকির হোসেন (চারণ), মফিজুর রহমান লালটু, জামসেদ আনোয়ার তপন এবং কামাল হোসেন বাদল। পাশাপাশি গান, কবিতা ও আবৃত্তি পরিবেশিত হয়।

কারফিউ ভাঙা ‘গানের মিছিল’ স্মরণ করলেন তারা

বিবর্তন দলের সাধারণ সম্পাদক ও সংস্কৃতিকর্মী মফিজুর রহমান লালটু বলেন, ‘২৬ জুলাই সংস্কৃতিকর্মীদের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশ ও গানের মিছিলের মধ্যদিয়ে প্রথমবারের মতো কারফিউ ভাঙা হয়েছিল। এতে স্তিমিত হয়ে পড়া আন্দোলনে নতুন গতি আসে এবং সাধারণ মানুষ ভয় কাটিয়ে রাজপথে নামতে শুরু করেন।’ তার ভাষ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গানে গানে রাজপথ দখলের মধ্যদিয়ে আন্দোলন আরও বেগবান হয় এবং পরবর্তী সময়ে ২ আগস্টের দ্রোহযাত্রায় মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ তৎকালীন সরকারের পতনের দাবিকে আরও জোরালো করে।

কারফিউ ভাঙা ‘গানের মিছিল’ স্মরণ করলেন তারা

সংস্কৃতিকর্মী জামসেদ আনোয়ার তপন বলেন, আন্দোলনের শুরুতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল অল্প। তবে ধীরে ধীরে সেই সংখ্যা কয়েকশ থেকে হাজারে পৌঁছে যায়, যা আন্দোলনের বিস্তৃতি ও জনসমর্থনের প্রতিফলন। সামিনা লুত্ফা নিত্রা বলেন, ‘জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান একটি দীর্ঘ সংগ্রামের অংশ। ভবিষ্যতে দেশে যেন আর কোনো স্বৈরাচার না আসে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

কারফিউ ভাঙা ‘গানের মিছিল’ স্মরণ করলেন তারা

আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে আবৃত্তিকার দীপক সুমন বলেন, ‘আন্দোলনের কঠিন সময়ে সংস্কৃতিকর্মীরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সাহস জুগিয়েছিলেন।’ তিনি নবারুণ ভট্টাচার্যের কবিতা ‘এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন। শিল্পী ফারজানা ওয়াহিদ সায়ান বলেন, ‘আমি একাত্তর দেখিনি, আমি জুলাই দেখেছি। জুলাই আমাকে নিজেকে ভাঙতে ও নতুন করে গড়তে শিখিয়েছে।’ তিনি ‘জুলাই পাঠালো ইতিহাস’ শিরোনামে একটি কবিতা পাঠ করেন। পরে ‘আমার কাছে জুলাই মানে অধিকার/ তুই জুলাই /আমি জুলাই’ গানটি গেয়ে শোনান। অনুষ্ঠানে চারণ শিল্পীগোষ্ঠী পরিবেশন করে দলীয় সংগীত। লায়েকা বশীর গেয়ে শোনান নজরুলের গান।

এমআই/আরএমডি

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow