কারাগারে থাকা মুজিব পরদেশী এবার পুরোনো সাজাপ্রাপ্ত মামলায় গ্রেফতার

চেক ডিজঅনারের এক মামলায় কারাগারে থাকা লোকসংগীত শিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক মুজিব পরদেশীকে আরও একটি পুরোনো সাজাপ্রাপ্ত মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ মামলায় তাকে প্রায় ১৯ বছর আগে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার পঞ্চম যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ সাদিক আহম্মেদ এ আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী শাহ আলম মিয়া জানান, মজিবুর রহমানের করা মামলায় ২০০৭ সালের ২১ নভেম্বর মুজিব পরদেশীকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। এর মধ্যে ৫ লাখ টাকা বাদীকে দেওয়ার এবং বাকি ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার আদেশ ছিল। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৩ সালে বাদী মজিবুর রহমানের ছোট ভাই সোলায়মান সরদারকে যুক্তরাজ্যে নেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা নেন মুজিব পরদেশী। এর মধ্যে ব্যাংকের মাধ্যমে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং নগদে আরও ২ লাখ ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। তবে সোলায়মানকে যুক্তরাজ্যে নিতে না পারায় টাকা ফেরত চান মজিবুর রহমান। তখন মুজিব পরদেশী ২ লাখ ২০ হাজার টাকা করে দুটি চেক দে

কারাগারে থাকা মুজিব পরদেশী এবার পুরোনো সাজাপ্রাপ্ত মামলায় গ্রেফতার

চেক ডিজঅনারের এক মামলায় কারাগারে থাকা লোকসংগীত শিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক মুজিব পরদেশীকে আরও একটি পুরোনো সাজাপ্রাপ্ত মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ মামলায় তাকে প্রায় ১৯ বছর আগে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার পঞ্চম যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ সাদিক আহম্মেদ এ আদেশ দেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী শাহ আলম মিয়া জানান, মজিবুর রহমানের করা মামলায় ২০০৭ সালের ২১ নভেম্বর মুজিব পরদেশীকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

এর মধ্যে ৫ লাখ টাকা বাদীকে দেওয়ার এবং বাকি ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার আদেশ ছিল।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৩ সালে বাদী মজিবুর রহমানের ছোট ভাই সোলায়মান সরদারকে যুক্তরাজ্যে নেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা নেন মুজিব পরদেশী। এর মধ্যে ব্যাংকের মাধ্যমে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং নগদে আরও ২ লাখ ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়।

তবে সোলায়মানকে যুক্তরাজ্যে নিতে না পারায় টাকা ফেরত চান মজিবুর রহমান। তখন মুজিব পরদেশী ২ লাখ ২০ হাজার টাকা করে দুটি চেক দেন। কিন্তু চেক দুটি ব্যাংকে জমা দিলে পর্যাপ্ত তহবিল না থাকায় সেগুলো একাধিকবার প্রত্যাখ্যাত হয়।

পরে আইনি নোটিশ পাঠিয়েও টাকা না পাওয়ায় ২০০৪ সালের ১ জুন মামলা করেন মজিবুর রহমান। ওই মামলাতেই ২০০৭ সালে মুজিব পরদেশীর বিরুদ্ধে সাজা দেওয়া হয়।

 

মামলায় অভিযোগ করা হয়, সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে বিদেশে নেওয়ার কথা বলে আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও টাকা নিয়েছিলেন মুজিব পরদেশী।

এর আগে ১০ লাখ টাকার একটি চেক ডিজঅনার মামলায় গত ৪ আগস্ট মুজিব পরদেশীকে কারাগারে পাঠানো হয়। ওই মামলায় ২০২২ সালে মাগুরার আদালতে মামলা করেন ইদ্রিস আলী বিশ্বাস।

পরের বছর ১৫ মার্চ মাগুরার দ্বিতীয় যুগ্ম দায়রা জজ মুহাম্মদ আনোয়ার ছাদাত তাকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং চেকের সমপরিমাণ ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন।

রায় ঘোষণার সময় মুজিব পরদেশী পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে ওই পরোয়ানার ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এরপর কারাগারে থাকা মুজিব পরদেশীকে মজিবুর রহমানের করা পুরোনো চেক ডিজঅনার মামলাতেও গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুর রহমান মিয়া। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।

মুজিব পরদেশীর আসল নাম মুজিবুর রহমান মোল্লা। আশির দশকে বাংলা লোকগানের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা পান।

 

এমডিএএ/এমকেআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow