কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লন্ডভন্ড ফরিদপুর

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ে অন্তত ১৩টি পরিবারের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে কলাবাগান ও ভুট্টাক্ষেতসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ ১ কোটি ২৩ লাখ টাকার বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। বুধবার (১৪ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আকস্মিক ঝড়ে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ১১টি এবং গাজীরটেক ইউনিয়নের দুটি পরিবারের বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঝড়ে বহু গাছ উপড়ে পড়ে, বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে যায় এবং বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ শাহিন জানান, ঝড়ে তাদের নির্মাণাধীন বেসরকারি মাদ্রাসা ‘আল জামিয়াতুস সালাফিয়া ইয়াফিয়াহ’ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অফিসকে জানানো হলেও শুরুতে কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি। চরভদ্রাসন সাব-জোনাল বিদ্যুৎ অফিস-এর সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মো. এনায়েত হোসেন জানান, ঝড়ে অন্তত ১০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে। ১১২টি স্থানে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে এবং ৯৫টি মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কর্মীরা দিনরাত কাজ করছেন। সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাদ খান

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লন্ডভন্ড ফরিদপুর

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ে অন্তত ১৩টি পরিবারের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে কলাবাগান ও ভুট্টাক্ষেতসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ ১ কোটি ২৩ লাখ টাকার বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

বুধবার (১৪ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আকস্মিক ঝড়ে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ১১টি এবং গাজীরটেক ইউনিয়নের দুটি পরিবারের বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঝড়ে বহু গাছ উপড়ে পড়ে, বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে যায় এবং বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ শাহিন জানান, ঝড়ে তাদের নির্মাণাধীন বেসরকারি মাদ্রাসা ‘আল জামিয়াতুস সালাফিয়া ইয়াফিয়াহ’ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অফিসকে জানানো হলেও শুরুতে কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি।

চরভদ্রাসন সাব-জোনাল বিদ্যুৎ অফিস-এর সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মো. এনায়েত হোসেন জানান, ঝড়ে অন্তত ১০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে। ১১২টি স্থানে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে এবং ৯৫টি মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কর্মীরা দিনরাত কাজ করছেন।

সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাদ খান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ১৩টি পরিবারের মধ্যে কয়েকটিকে ইতোমধ্যে ঢেউটিন সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কলাবাগান ও ভুট্টাক্ষেত সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে।

গাজীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী জানান, তাদের ইউনিয়নের দুটি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

চরভদ্রাসন উপজেলা কৃষি অফিসের কৃষি কর্মকর্তা ইমরান বিন ইসলাম জানান, ঝড়ে প্রায় ৩০ হেক্টর কলাবাগান এবং ৪০ হেক্টর ভুট্টাক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর কিছু আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মোট ক্ষতির পরিমাণ ১ কোটি ২৩ লাখ টাকার বেশি হতে পারে।

চরভদ্রাসন উপজেলা প্রশাসন-এর নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে কয়েকটি পরিবারকে ঢেউটিন ও শুকনা খাবার দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্তদের চেকের মাধ্যমে অর্থ সহায়তা, ঢেউটিন ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হবে।

ইতোমধ্যে এইচ এম জাহাঙ্গীর আলম, জোসনা মৃধা ও কামাল খান সরকারি সহায়তা পেয়েছেন। তাদের মধ্যে কামাল খান দুই বান্ডেল ঢেউটিন ও শুকনা খাবার পেয়েছেন।

সহায়তা পেয়ে কামাল খান বলেন, প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বাড়িতে এসে নিজ হাতে টিন তুলে দিয়েছেন। এতে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow