কালীগঞ্জে মাদকবিরোধী গণবিক্ষোভ, প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ

গাজীপুরের কালীগঞ্জে মাদকের ভয়াবহ বিস্তারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন স্থানীয় যুবসমাজ। "মাদক ছাড়ো না হয় তুমিলিয়া ছাড়ো"—এই প্রত্যয় ও প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উপজেলার তুমিলিয়া এলাকায় যুবসমাজের উদ্যোগে আজ রোববার এক বিশাল মানববন্ধন, গণবিক্ষোভ ও সচেতনতামূলক মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এলাকার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি এক অভূতপূর্ব গণজাগরণে রূপ নেয়। এদিন বিকেল থেকেই তুমিলিয়া ও এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ, ছাত্র ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ ব্যানার-ফেস্টুন হাতে মিছিলে যোগ দিতে শুরু করেন। গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিক্ষোভ মিছিলটি তুমিলিয়া এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন উপ-সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি ও তীব্র প্রতিবাদী স্লোগান প্রতিধ্বনিত হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তুমিলিয়া অঞ্চলে মাদকের বিস্তার এমন এক ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে যা তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এই অশুভ চক্রকে এখনই রুখে দিতে না পারলে এলাকার সামাজিক শা

কালীগঞ্জে মাদকবিরোধী গণবিক্ষোভ, প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ

গাজীপুরের কালীগঞ্জে মাদকের ভয়াবহ বিস্তারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন স্থানীয় যুবসমাজ। "মাদক ছাড়ো না হয় তুমিলিয়া ছাড়ো"—এই প্রত্যয় ও প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উপজেলার তুমিলিয়া এলাকায় যুবসমাজের উদ্যোগে আজ রোববার এক বিশাল মানববন্ধন, গণবিক্ষোভ ও সচেতনতামূলক মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

এলাকার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি এক অভূতপূর্ব গণজাগরণে রূপ নেয়। এদিন বিকেল থেকেই তুমিলিয়া ও এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ, ছাত্র ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ ব্যানার-ফেস্টুন হাতে মিছিলে যোগ দিতে শুরু করেন।

গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিক্ষোভ মিছিলটি তুমিলিয়া এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন উপ-সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি ও তীব্র প্রতিবাদী স্লোগান প্রতিধ্বনিত হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তুমিলিয়া অঞ্চলে মাদকের বিস্তার এমন এক ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে যা তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এই অশুভ চক্রকে এখনই রুখে দিতে না পারলে এলাকার সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে।

বিক্ষোভ সমাবেশে যুবসমাজের পক্ষে নেতৃত্বদানকারী স্থানীয় যুবক মো. বুলবুল দেওয়ান বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতির চরম উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমানে সমাজে মাদকের সহজলভ্যতা এতটাই বেড়েছে যে একটি দোকান থেকে সাধারণ চকলেট কেনা যতটা সহজ, তার চেয়েও সহজে মাদক হাতের নাগালে পাওয়া যাচ্ছে। প্রায় প্রতিটি ঘরে ঘরে এই মরণনেশা ছড়িয়ে পড়েছে, যা সচেতন নাগরিক হিসেবে সমাজ ও বিবেকের তাগিদে তারা আর মেনে নিতে পারছেন না। এই লক্ষ্যেই তারা গণবিক্ষোভ মিছিল, গণস্বাক্ষর সংগ্রহ ও সামাজিক সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন, যুবসমাজের এই মহৎ ও জনকল্যাণমুখী আন্দোলনে স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে আশানুরূপ কোনো সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না, যা তাদের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও আন্দোলনের ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রার ক্ষেত্রে একটি বড় অশনি সংকেত।

যুবকদের এই সাহসী পদক্ষেপকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আফসার হোসেন বলেন, যুবসমাজ যে সময়োপযোগী ও বলিষ্ঠ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। যে কাজটি সমাজ ও জনপ্রতিনিধিদের আরও আগে করা উচিত ছিল, তা আজ তরুণরা করে দেখিয়েছে। তিনি এই আন্দোলনের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, মাদকের এই সামাজিক ব্যাধি ও বিস্তার রোধে যুবকদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সব ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অন্যদিকে, প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা অসহযোগিতার অভিযোগ প্রসঙ্গে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাকির হোসেন জানান, তিনি পুরো বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত রয়েছেন এবং মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান জিরো টলারেন্স। ইতিমধ্যে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ১০ জন মাদক কারবারি ও সেবীকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে সাজার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। যুবসমাজের এই ইতিবাচক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, মাদকের করাল গ্রাস থেকে এলাকাকে মুক্ত করতে সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা নিয়ে পুলিশ সর্বদাই তাদের পাশে থাকবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow