কিডনি রক্ষায় নতুন দিশা, আফ্রিকান মাছের গবেষণায় মিলেছে বার্ধক্য রোধের সূত্র
মানুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, বিশেষ করে কিডনি বা বৃক্কের কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের একটি সাধারণ ওষুধ কিডনির এই বার্ধক্যজনিত ক্ষয় রোধে অভাবনীয় ভূমিকা পালন করতে পারে। এই গবেষণায় বিজ্ঞানীদের বিশেষ সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে মাত্র কয়েক মাস আয়ুষ্কালের এক অদ্ভুত মাছ— ‘আফ্রিকান টারকোয়াইজ কিলিশ’ (African Turquoise Killifish)।
বিখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী ‘কিডনি ইন্টারন্যাশনাল’-এ প্রকাশিত এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন এমডিআই বায়োলজিক্যাল ল্যাবরেটরি, হ্যানোভার মেডিকেল স্কুল এবং কলবি কলেজের ১৩ জন বিজ্ঞানীর একটি আন্তর্জাতিক দল।
আফ্রিকান কিলিশ মাছ পৃথিবীর অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল মেরুদণ্ডী প্রাণী। এদের পুরো জীবনচক্র শেষ হয় মাত্র চার থেকে ছয় মাসে। মানুষের কিডনি কয়েক দশক ধরে যেভাবে বুড়িয়ে যায়, এই মাছের কিডনি ঠিক একই প্রক্রিয়ায় মাত্র কয়েক সপ্তাহে বৃদ্ধ হয়। ফলে মানুষের বার্ধক্য নিয়ে গবেষণার জন্য এটি এক অনন্য ‘টাইম মেশিন’ হিসেবে কাজ করছে।
গবেষকরা দেখেছেন, বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই মাছের কিডনির ক্ষুদ্র রক্তনালীগুলো নষ্ট হয়ে যায় এবং
মানুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, বিশেষ করে কিডনি বা বৃক্কের কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের একটি সাধারণ ওষুধ কিডনির এই বার্ধক্যজনিত ক্ষয় রোধে অভাবনীয় ভূমিকা পালন করতে পারে। এই গবেষণায় বিজ্ঞানীদের বিশেষ সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে মাত্র কয়েক মাস আয়ুষ্কালের এক অদ্ভুত মাছ— ‘আফ্রিকান টারকোয়াইজ কিলিশ’ (African Turquoise Killifish)।
বিখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী ‘কিডনি ইন্টারন্যাশনাল’-এ প্রকাশিত এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন এমডিআই বায়োলজিক্যাল ল্যাবরেটরি, হ্যানোভার মেডিকেল স্কুল এবং কলবি কলেজের ১৩ জন বিজ্ঞানীর একটি আন্তর্জাতিক দল।
আফ্রিকান কিলিশ মাছ পৃথিবীর অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল মেরুদণ্ডী প্রাণী। এদের পুরো জীবনচক্র শেষ হয় মাত্র চার থেকে ছয় মাসে। মানুষের কিডনি কয়েক দশক ধরে যেভাবে বুড়িয়ে যায়, এই মাছের কিডনি ঠিক একই প্রক্রিয়ায় মাত্র কয়েক সপ্তাহে বৃদ্ধ হয়। ফলে মানুষের বার্ধক্য নিয়ে গবেষণার জন্য এটি এক অনন্য ‘টাইম মেশিন’ হিসেবে কাজ করছে।
গবেষকরা দেখেছেন, বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই মাছের কিডনির ক্ষুদ্র রক্তনালীগুলো নষ্ট হয়ে যায় এবং ফিল্টার করার ক্ষমতা কমে যায়, যা মানুষের কিডনি রোগের হুবহু প্রতিফলন।
গবেষণায় মূলত ‘এসজিএলটি-২ ইনহিবিটর’ (SGLT2 inhibitors) নামক এক শ্রেণীর ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে। সাধারণত এই ওষুধটি ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে চিনি কমানোর জন্য এবং হৃদরোগের ঝুঁকি এড়াতে ব্যবহৃত হয়। তবে বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন, এই ওষুধের গুণাগুণ কেবল চিনি কমানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
গবেষণার প্রধান লেখক ড. হারমান হ্যালার বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই জানতাম এই ওষুধটি হার্ট ও কিডনিকে সুরক্ষা দেয়। কিন্তু এটি ঠিক কীভাবে কাজ করে, তা এবার পরিষ্কার হয়েছে।’
গবেষণায় দেখা গেছে, যে মাছগুলোকে এই ওষুধ দেওয়া হয়েছিল, তাদের কিডনি বার্ধক্যেও সুস্থ ছিল। এর প্রধান কারণগুলো হলো: ১ - রক্তনালী রক্ষা: ওষুধটি কিডনির ক্ষুদ্র রক্তনালী বা ক্যাপিলারি নষ্ট হওয়া রোধ করে।
২ - শক্তি উৎপাদন: বৃদ্ধ বয়সে কিডনির কোষগুলো শক্তি তৈরিতে দুর্বল হয়ে পড়ে, কিন্তু এই ওষুধ কোষের শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়াকে সচল রাখে।
৩ - প্রদাহ রোধ: এটি কিডনির ভেতরে প্রদাহ বা ‘ইনফ্লামেশন’ কমিয়ে কোষের জিনগত কাঠামোকে তরুণ মাছের মতো ধরে রাখতে সাহায্য করে।
সাধারণত ইঁদুরের ওপর এ ধরনের গবেষণা করতে কয়েক বছর সময় লাগে। কিন্তু কিলিশ মাছের দ্রুত আয়ুষ্কালের কারণে বিজ্ঞানীরা মাত্র কয়েক মাসেই মানুষের কয়েক দশকের বার্ধক্যের ওপর ওষুধের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন।
গবেষক দলের প্রথম লেখক ড. আনাস্তাসিয়া পলম্যান জানান, ‘একটি সাধারণ ওষুধ কীভাবে কিডনির রক্তনালী, মেটাবলিজম এবং প্রদাহের মতো জটিল সিস্টেমগুলোকে একসাথে প্রভাবিত করে তা দেখে আমরা বিস্মিত।’
বিজ্ঞানীরা এখন পরীক্ষা করছেন, কিডনি একবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেলে এই ওষুধ দিয়ে তা পুনরায় মেরামত করা সম্ভব কি না। এই গবেষণা সফল হলে ভবিষ্যতে মানুষের কিডনি অকেজো হওয়া রোধে এবং দীর্ঘায়ু অর্জনে এক নতুন বিপ্লব আসতে পারে।
লেখক : সৌর আলোক রাহা