কিশোরগঞ্জে জমজমাট মৌসুমি কসাইয়ের হাট
মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় প্রধান উৎসব ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। এই ঈদকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জে জমজমাট মৌসুমি কসাইয়ের হাট। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল থেকে শহরের শহীদী মসজিদ ও ইসলামীয়া মার্কেট এলাকায় সামনে জমজমাট হয়ে উঠে মৌসুমি কসাইয়ের হাট। জানা গেছে, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে অনেক শ্রমিক, দিনমজুর ও রিকশাচালক নিজেদের দৈনন্দিন কাজ ছেড়ে ভিড় করেন এই হাটে। এখানে গরুর আকার ও দামের ওপর নির্ভর করে তাদের শ্রমের মূল্য নির্ধারণ হয়। তবে পেশাদার কসাইদের তুলনায় মৌসুমি কসাইদের মজুরি কিছুটা কম। মৌসুমি কসাইরা জানান, বছরের অন্য সময় তারা নিজ নিজ পেশায় নিয়োজিত থাকেন। কেউ নির্মাণ শ্রমিক, কেউ রিকশাচালক, কেউ সবজি বিক্রেতা, আবার কেউ দিনমজুর বা হকার হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করেন। ঈদের এই সময়ে বাড়তি আয়ের আশায় তারা কসাইয়ের কাজ করেন। যারা কোরবানি দেন তারাও শহীদী মসজিদের সামনে বসা এই হাটে এসে দরদাম করে কসাই ঠিক করেন। জবাই, মাংস কাটাকাটি ও বণ্টনসহ পুরো কাজের চুক্তি হয় এখানেই। কসাই আল আমিন বলেন, বছরের অন্য সময় তিনি কৃষি কাজ করেন। তবে প্রতি ঈদুল আজহায় তিনি কসাইয়ের কাজ করেন। একদিন কষ্ট বেশি হলেও আয় ভালো হয়। গত বছর চারজনে মিলে কয়
মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় প্রধান উৎসব ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। এই ঈদকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জে জমজমাট মৌসুমি কসাইয়ের হাট। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল থেকে শহরের শহীদী মসজিদ ও ইসলামীয়া মার্কেট এলাকায় সামনে জমজমাট হয়ে উঠে মৌসুমি কসাইয়ের হাট।
জানা গেছে, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে অনেক শ্রমিক, দিনমজুর ও রিকশাচালক নিজেদের দৈনন্দিন কাজ ছেড়ে ভিড় করেন এই হাটে। এখানে গরুর আকার ও দামের ওপর নির্ভর করে তাদের শ্রমের মূল্য নির্ধারণ হয়। তবে পেশাদার কসাইদের তুলনায় মৌসুমি কসাইদের মজুরি কিছুটা কম।
মৌসুমি কসাইরা জানান, বছরের অন্য সময় তারা নিজ নিজ পেশায় নিয়োজিত থাকেন। কেউ নির্মাণ শ্রমিক, কেউ রিকশাচালক, কেউ সবজি বিক্রেতা, আবার কেউ দিনমজুর বা হকার হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করেন। ঈদের এই সময়ে বাড়তি আয়ের আশায় তারা কসাইয়ের কাজ করেন। যারা কোরবানি দেন তারাও শহীদী মসজিদের সামনে বসা এই হাটে এসে দরদাম করে কসাই ঠিক করেন। জবাই, মাংস কাটাকাটি ও বণ্টনসহ পুরো কাজের চুক্তি হয় এখানেই।
কসাই আল আমিন বলেন, বছরের অন্য সময় তিনি কৃষি কাজ করেন। তবে প্রতি ঈদুল আজহায় তিনি কসাইয়ের কাজ করেন। একদিন কষ্ট বেশি হলেও আয় ভালো হয়। গত বছর চারজনে মিলে কয়েকটি গরু কেটেছি। এবারও ভালো কাজের আশা করছি।
কসাই মোহাম্মদ সেলিম বলেন, আমরা কয়েকজন মিলে দল করে কাজ করি। গরুর আকার বুঝে দরদাম হয়। অনেকে মজুরির পাশাপাশি মাংসও দেন, এতে পরিবারের জন্য কিছুটা সুবিধা হয়।
কসাই আবু বক্কার বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে মৌসুমি কসাই হিসেবে কাজ করছি। ঈদের দিনে মানুষকে সেবা দেওয়ার পাশাপাশি কিছু বাড়তি আয় হয়। এই আয়ের দিকে তাকিয়েই প্রতি বছর আসি।
কসাই নিতে আসা কোরবানিদাতা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বকুল বলেন, ঈদের দিনে হঠাৎ করে কসাই পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। তাই সকালে এসে আগেই কসাই ঠিক করে নিচ্ছি। যারা কাজ করেন তাদেরও ন্যায্য পারিশ্রমিক দেওয়া উচিত। শহরে আমরা যারা থাকি তারতো আর এই কাজে অবস্ত নয় তাই কসাই নিতে হাটে এসেছি।
শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের বিকল্প ইমাম ও হয়বতনগর এ. ইউ. কামিল মাদরাসার প্রভাষক মাওলানা জুবায়ের ইবনে আব্দুল হাই বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষগুলো ঈদের দিনের আনন্দ ত্যাগ করে মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখেন। তাই তাদের শ্রমের যথাযথ মূল্য নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। মজুরির পাশাপাশি কোরবানির গোশতের অংশ দিলে তারা খুশি হন। তবে মজুরির বদলে গোশত দেওয়া ঠিক নয়।
এসকে রাসেল/এনএইচআর/এমএস
What's Your Reaction?