কুশিয়ারা নদীর ভয়াবহ ভাঙন, বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় কুশিয়ারা নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। উপজেলার শরিফগঞ্জ ও বাদেপাশা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় নদী ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতোমধ্যে অন্তত ৩০টি বসতভিটা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন আতঙ্কে বর্তমানে চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন নদী তীরের হাজারো মানুষ। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ভোর ৫টার দিকে শরিফগঞ্জ ইউনিয়নের কুশিয়ারা নদী তীরবর্তী কাদিপুর মুসলিমগঞ্জ বাজারে হঠাৎ তীব্র ভাঙন শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই বাজারের ১০ দোকানঘর নদীতে তলিয়ে যায়। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে বাজারের অবশিষ্ট দোকানঘরসহ পুরো বাজার এলাকা। এদিকে শরিফগঞ্জ ইউনিয়নের পনাইরচকে অবস্থিত প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো শাহ সৈয়দ শদাই (রহ.) মাজারে আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। কিছুদিন আগে মাজারের একাংশ তীব্র নদী ভাঙনে তলিয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙন রোধে কিছু কাজ করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে বালুর অভাবে সেই কাজ বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে বাদেপাশা ইউনিয়নের বাঘলা এলাকার ছয়ঘড়ি ও কেওয়টকোনা, বাদেপাশা ডেপুটি বাজার, আমকোনা এলাকার বিভিন্ন জায়গায় গত কয়েক দিন ধরে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এসব এলাকায় ইত

কুশিয়ারা নদীর ভয়াবহ ভাঙন, বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় কুশিয়ারা নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। উপজেলার শরিফগঞ্জ ও বাদেপাশা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় নদী ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতোমধ্যে অন্তত ৩০টি বসতভিটা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন আতঙ্কে বর্তমানে চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন নদী তীরের হাজারো মানুষ।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ভোর ৫টার দিকে শরিফগঞ্জ ইউনিয়নের কুশিয়ারা নদী তীরবর্তী কাদিপুর মুসলিমগঞ্জ বাজারে হঠাৎ তীব্র ভাঙন শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই বাজারের ১০ দোকানঘর নদীতে তলিয়ে যায়। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে বাজারের অবশিষ্ট দোকানঘরসহ পুরো বাজার এলাকা।

এদিকে শরিফগঞ্জ ইউনিয়নের পনাইরচকে অবস্থিত প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো শাহ সৈয়দ শদাই (রহ.) মাজারে আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। কিছুদিন আগে মাজারের একাংশ তীব্র নদী ভাঙনে তলিয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙন রোধে কিছু কাজ করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে বালুর অভাবে সেই কাজ বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে বাদেপাশা ইউনিয়নের বাঘলা এলাকার ছয়ঘড়ি ও কেওয়টকোনা, বাদেপাশা ডেপুটি বাজার, আমকোনা এলাকার বিভিন্ন জায়গায় গত কয়েক দিন ধরে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এসব এলাকায় ইতোমধ্যে ২০টির মতো বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত শরিফগঞ্জ ইউনিয়নের কাদিপুর মুসলিমগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, হঠাৎ করে ভাঙনের তীব্রতা দেখা দেয়। মঙ্গলবার ভোর সকালে নদী ভাঙনের কবলে পড়ে এখন পর্যন্ত ১০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়ে গেছে। আরও কয়েকটি দোকান যেকোনো সময় নদী ভাঙনে তলিয়ে যাবে।

ক্ষতিগ্রস্ত কুদরত আলী আক্ষেপ করে বলেন, ‘নদী ভাঙনে দোকান ঘর বিলীন হয়ে গেছে। এই দোকানের উপার্জনেই আমার পরিবার চলত। এখন আমি কী করব, সেই চিন্তায় দিশেহারা।’

পড়োশোনার পাশাপাশি ব্যবসা করেন শিক্ষার্থী নাহিদুল হক। তিনি বলেন, ‘ছোট এই ব্যবসা দিয়ে পরিবারকে সাহায্য করতাম, এখন দোকানটি নদীতে তলিয়ে যাওয়ায় সব শেষ হয়ে গেল।’

শরিফগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম কবির জানান, তার ইউনিয়নের কয়েকটি পয়েন্টে ভাঙন খুবই তীব্র। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে পুরো বাজারসহ এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

বাদেপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: জাহিদ হোসাইন বলেন, ‘ইতোমধ্যে ২৫টির মতো ঘরবাড়ি নদীতে তলিয়ে গেছে। ভাঙন রোধে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত করা হয়েছে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।’

সিলেট জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী নিহার রঞ্জন দাস জানান, জনগুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় হঠাৎ ভাঙন দেখা দেওয়ায় বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow