‘কেনা তো দূরের কথা, কেউ দেখতেও আসেনি’

‌‘চামড়া কেনা তো দূরের কথা, সকাল গড়িয়ে বিকেল হলো; তবে কোনো ক্রেতা একটিবার দেখতেও আসেনি। প্রতিবছর কোরবানিতে পশু জবাইয়ের পর চামড়া কেনার জন্য কয়েকটা পার্টি দেখতে আসে, দরদাম করে। কিন্তু এবার কেউ এলো না।’ কথাগুলো বলছিলেন চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুর এলাকার বাসিন্দা কোরবানিদাতা আবু জাফর। তিনি আক্ষেপ করে জাগো নিউজকে বলেন, ‘পশুর চামড়া এত মূল্যহীন হয়ে গেল! শেষ পর্যন্ত বিক্রি করা গেল না। অথচ চামড়াজাত পণ্যের দাম আকাশচুম্বী।’ ফজলুল করিম নামের আরেকজন বলেন, ‘গতবছর ১৫০-২০০ টাকা দামে কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি হয়েছে। এবার কেউ কিনতে আসেনি। এতিমখানা থেকেও কেউ চামড়া সংগ্রহ করতে দেখা যায়নি।’ তিনি বলেন, ‘এবার ভাবছিলাম সরকার পরিবর্তন হওয়াতে পশুর চামড়ার চাহিদা বাড়বে, ভালো দামও পাওয়া যাবে। কিন্তু যে লাউ, সেই কদু। বরং অন্যান্য বছরের তুলনায় অবস্থা আরও খারাপ।’ উপজেলার করেরহাট এলাকার চত্ত্বরুয়া এলাকার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘কোরবানি পশুর চামড়া গরিবের হক। কিন্তু চামড়া বিক্রিই করা যাচ্ছে না, তাদের কী দেবো?\' অন্যান্য বছর উপজেলার বিভিন্ন মাদরাসার পক্ষ থেকে কোরবানি পশ

‘কেনা তো দূরের কথা, কেউ দেখতেও আসেনি’

‌‘চামড়া কেনা তো দূরের কথা, সকাল গড়িয়ে বিকেল হলো; তবে কোনো ক্রেতা একটিবার দেখতেও আসেনি। প্রতিবছর কোরবানিতে পশু জবাইয়ের পর চামড়া কেনার জন্য কয়েকটা পার্টি দেখতে আসে, দরদাম করে। কিন্তু এবার কেউ এলো না।’

কথাগুলো বলছিলেন চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুর এলাকার বাসিন্দা কোরবানিদাতা আবু জাফর।

তিনি আক্ষেপ করে জাগো নিউজকে বলেন, ‘পশুর চামড়া এত মূল্যহীন হয়ে গেল! শেষ পর্যন্ত বিক্রি করা গেল না। অথচ চামড়াজাত পণ্যের দাম আকাশচুম্বী।’

ফজলুল করিম নামের আরেকজন বলেন, ‘গতবছর ১৫০-২০০ টাকা দামে কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি হয়েছে। এবার কেউ কিনতে আসেনি। এতিমখানা থেকেও কেউ চামড়া সংগ্রহ করতে দেখা যায়নি।’

তিনি বলেন, ‘এবার ভাবছিলাম সরকার পরিবর্তন হওয়াতে পশুর চামড়ার চাহিদা বাড়বে, ভালো দামও পাওয়া যাবে। কিন্তু যে লাউ, সেই কদু। বরং অন্যান্য বছরের তুলনায় অবস্থা আরও খারাপ।’

‘কেনা তো দূরের কথা, কেউ দেখতেও আসেনি’

উপজেলার করেরহাট এলাকার চত্ত্বরুয়া এলাকার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘কোরবানি পশুর চামড়া গরিবের হক। কিন্তু চামড়া বিক্রিই করা যাচ্ছে না, তাদের কী দেবো?'

অন্যান্য বছর উপজেলার বিভিন্ন মাদরাসার পক্ষ থেকে কোরবানি পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হতো। এবার কোনো মাদরাসার পক্ষ থেকে চামড়া সংগ্রহ করতে দেখা যায়নি।

উপজেলার আবুরহাট মনিরুল ইসলাম মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা শহীদুল ইসলাম বলেন, ‌‘একসময় মাদরাসার পক্ষ থেকে কোরবানি পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হতো। তা সংরক্ষণ করে বিক্রির পর লাভের টাকা এতিম ছাত্রদের জন্য খরচ করতো। কিন্তু এখন চামড়ার যে দাম, চামড়া সংগ্রহ করে আনতে যে পরিমাণ গাড়ি ভাড়া লাগবে, তা উঠবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘চামড়া সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা অনেক কষ্টের। অনেক পরিশ্রম করেও লাভ হয় না।’

‘কেনা তো দূরের কথা, কেউ দেখতেও আসেনি’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিরসরাই উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভায় এবার ৫৩ হাজার পশু কোরবানি হয়েছে।

উপজেলার ওচমানপুর ইউনিয়নের জিয়া উদ্দিন জানান, তিনি এক লাখ ৭০ হাজার ও এক লাখ ৯৫ হাজার টাকা দিয়ে দুটি গরু কোরবানি দিয়েছেন। কিন্তু চামড়া বিক্রি করতে পারেননি। অথচ একটা সময় ৩০ হাজার টাকায় কেনা গরুর চামড়া বিক্রি করেছেন ১০০০-১৫০০ টাকায়।

জোরারগঞ্জ বাজারের চামড়া ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘এবার প্রায় ৪০০ চামড়া কিনেছি। প্রতি পিস চামড়া ১০০-২৫০ টাকা দরে কেনা হয়। এসব চামড়ায় লবণ লাগাতে হবে। এরপর পরিবহন খরচ ও শ্রমিকের পারিশ্রমিকের কারণে চামড়ার ক্রয়মূল্য বেড়ে যাবে।’

এম মাঈন উদ্দিন/এসআর/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow