কে এই নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল 

দেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার কৃতিসন্তান সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।  বুধবার (২৫ মার্চ) তাকে বাংলাদেশের ১৮তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন মন্ত্রণালয়। ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট, যা আইন পেশার সর্বোচ্চ স্বীকৃতি। ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ১৯৭০ সালের ১৯ নভেম্বর মহেশপুর পৌর এলাকার ৬নং ওয়ার্ডের (গুলশান পাড়ায়) জন্ম গ্রহণ করেন। তার বাবার নাম নজরুল ইসলাম ও মায়ের নাম আম্বিয়া খাতুন। চার ভাই বোনের মধ্যে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল পরিবারের তৃতীয় সন্তান। তার বড় বোন ও ছোট এক ভাই রয়েছে। ১৯৮৬ সালে যশোর বোর্ড থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি পাশ করেন রুহুল কুদ্দুস। ১৯৮৮ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় যশোর বোর্ডের সম্মিলিত মেধা তালিকায় অষ্টম স্থান অর্জন করেন। ১৯৯৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (অনার্স) এবং ১৯৯৪ সালে এলএলএম পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। ২০০৫ সালে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে পুনরায় এলএলবি (অনার্স) ডিগ

কে এই নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল 

দেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার কৃতিসন্তান সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। 

বুধবার (২৫ মার্চ) তাকে বাংলাদেশের ১৮তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন মন্ত্রণালয়। ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট, যা আইন পেশার সর্বোচ্চ স্বীকৃতি।

ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ১৯৭০ সালের ১৯ নভেম্বর মহেশপুর পৌর এলাকার ৬নং ওয়ার্ডের (গুলশান পাড়ায়) জন্ম গ্রহণ করেন। তার বাবার নাম নজরুল ইসলাম ও মায়ের নাম আম্বিয়া খাতুন। চার ভাই বোনের মধ্যে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল পরিবারের তৃতীয় সন্তান। তার বড় বোন ও ছোট এক ভাই রয়েছে।

১৯৮৬ সালে যশোর বোর্ড থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি পাশ করেন রুহুল কুদ্দুস। ১৯৮৮ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় যশোর বোর্ডের সম্মিলিত মেধা তালিকায় অষ্টম স্থান অর্জন করেন। ১৯৯৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (অনার্স) এবং ১৯৯৪ সালে এলএলএম পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন।

২০০৫ সালে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে পুনরায় এলএলবি (অনার্স) ডিগ্রি লাভ করেন। ২০০৬ সালে সিটি ইউনিভার্সিটি থেকে বার ভোকেশনাল কোর্স সম্পন্ন করেন। অতঃপর তিনি ২০০৬ সালে যুক্তরাজ্যের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-এট-ল' সনদ অর্জন করেন।

তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ভারত, চীন, জাপানসহ বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার-সংক্রান্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক বার অ্যাসোসিয়েশন, কমনওয়েলথ ল অ্যাসোসিয়েশন এবং ল এশিয়ার সদস্য।

১৯৯৫ সালে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী হিসেবে আইন পেশা শুরু করেন। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে প্রাকটিসের অনুমতি লাভ করেন। ২০০৮ সালে দেশের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তাকে সিনিয়র অ্যাডভোকেট হিসেবে স্বীকৃতি দেন।

সাংবিধানিক আইনের বিভিন্ন জটিল ব্যাখ্যা-সংক্রান্ত বিষয়ে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে আদালতে সর্বোচ্চ আদালতে বিশেষজ্ঞ মতামত প্রদান করেছেন। আইনের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ সংক্রান্ত তার মতামত বাংলাদেশের জাতীয় গণমাধ্যমে বিশেষজ্ঞ মতামত হিসেবে প্রকাশ করা হয়।

জুলাই আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালতের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলে বেশ কয়েকটি অতি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক মামলার শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ষোড়শ সংশোধনী রিভিউ মামলা, পঞ্চদশ সংশোধনী মামলা, ডক্টর ইউনুস সরকারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের বিপক্ষে শুনানিতে তার সাবমিশন আইনজীবী মহলে অত্যন্ত প্রশংসনীয় হয়েছে। এ ছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বৈধতা সংক্রান্ত ত্রয়োদশ সংশোধনী রিভিউ মামলায় তিনি বিচারপতি খায়রুল হকের রায়ের আইনগত ত্রুটিগুলো সূক্ষ্ম পর্যালোচনা আদালতে উপস্থাপন করেন, রিভিউয়ের স্কোপ এবং জাজমেন্টের সংজ্ঞা বিষয়ে তার সাবমিশন বিচারকগণ অতি গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করেন। ওই মামলায় তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ডক্টর সৈয়দ রেফাত আহমেদের অনুরোধে তিনি সফররত নেপালের প্রধান বিচারপতির উপস্থিতিতে যুক্তিততর্ক উপস্থাপন করেন, যা আইনজীবীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের পক্ষে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাসহ বিভিন্ন মামলার শুনানিতে তার দক্ষতা বিশেষভাবে আলোচিত হয়। কূটনীতিক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার রয়েছে। তিনি বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক কর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশ হাই কমিশন, লন্ডন, যুক্তরাজ্য-এ ২০০৩-২০০৬ মেয়াদে কর্মরত ছিলেন। ছাত্রজীবনে তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

রুহুল কুদ্দুস কাজল আইনজীবীদের মধ্যে একজন জনপ্রিয় নেতা। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের ভোটে পরপর তিনবার (২০২০-২১, ২০২১-২২, ২০২২-২৩) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। তিনিই এই সমিতির সর্বশেষ নির্বাচিত সম্পাদক। সারা দেশের আইনজীবীদের ভোটে তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং বর্তমানে বার কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।

একজন বিশেষজ্ঞ আইনজীবী হওয়ার পাশাপাশি তিনি রাজনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। ছাত্রজীবনে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এ ছাড়াও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি কর্তৃক গঠিত আইন সহায়তা সেলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। উক্ত নির্বাচনে বিএনপির প্রায় অর্ধশতাধিক প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন কমিশনে এবং সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow