কে জিতবে এবারের বিশ্বকাপ?

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে আবারও শুরু হচ্ছে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। উত্তর আমেরিকার তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোজুড়ে পর্দা উঠছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপের। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে এই আসরে। তিন দেশের বিশ্বকাপ আয়োজনের ঘটনাও প্রথম। দল বাড়ায় ম্যাচের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪-এ। এই বিশ্বকাপ শুধু আকারেই নয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতার দিক থেকেও হতে যাচ্ছে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি উন্মুক্ত। ফুটবলবোদ্ধারা সেটাই মনে করছেন। আজ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টায় (বাংলাদেশ সময়) বাজবে বিশ্বকাপের বাঁশি। মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিকদের বিপক্ষে খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকা। তার আগে আছে মনোজ্ঞ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। বিশ্বকাপে নানা আয়োজন থাকে। সব আয়োজনের লক্ষ্যই থাকে দর্শকদের মনোরঞ্জন। তবে চারদিকে যতকিছুই হোক, সবার নজর থাকে স্টেডিয়ামের সুবজ ঘাসে। ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসবে এবং টুর্নামেন্ট শেষ সোনালী ট্রফিটা উঠবে কাদের হাতে। এবারের বিশ্বকাপে সেই দাবিদার কারা। সোজা বাংলায় বললে ‘কে জিতবে বিশ্বকাপ?’ বিশ্বকাপের ইতিহাস বলছে, শেষ পর্যন্ত শিরোপার লড়াই ঘুরেফিরে কয়েকটি পরাশক্তির মধ্যেই সী

কে জিতবে এবারের বিশ্বকাপ?

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে আবারও শুরু হচ্ছে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। উত্তর আমেরিকার তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোজুড়ে পর্দা উঠছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপের। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে এই আসরে। তিন দেশের বিশ্বকাপ আয়োজনের ঘটনাও প্রথম। দল বাড়ায় ম্যাচের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪-এ। এই বিশ্বকাপ শুধু আকারেই নয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতার দিক থেকেও হতে যাচ্ছে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি উন্মুক্ত। ফুটবলবোদ্ধারা সেটাই মনে করছেন।

আজ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টায় (বাংলাদেশ সময়) বাজবে বিশ্বকাপের বাঁশি। মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিকদের বিপক্ষে খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকা। তার আগে আছে মনোজ্ঞ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। বিশ্বকাপে নানা আয়োজন থাকে। সব আয়োজনের লক্ষ্যই থাকে দর্শকদের মনোরঞ্জন। তবে চারদিকে যতকিছুই হোক, সবার নজর থাকে স্টেডিয়ামের সুবজ ঘাসে। ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসবে এবং টুর্নামেন্ট শেষ সোনালী ট্রফিটা উঠবে কাদের হাতে। এবারের বিশ্বকাপে সেই দাবিদার কারা। সোজা বাংলায় বললে ‘কে জিতবে বিশ্বকাপ?’

বিশ্বকাপের ইতিহাস বলছে, শেষ পর্যন্ত শিরোপার লড়াই ঘুরেফিরে কয়েকটি পরাশক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। এবারের আসরেও তার ব্যতিক্রম হওয়ার সম্ভাবনা কম। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, ইউরোপের শক্তিধর স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইংল্যান্ড; সবাই রয়েছে আলোচনার কেন্দ্রে। প্রশ্ন একটাই- শেষ পর্যন্ত ট্রফি কার হাতে উঠবে?

who win the world cup

বর্তমান ফর্ম, দলগত ভারসাম্য এবং সাম্প্রতিক সাফল্যের বিচারে অনেকেই সবচেয়ে এগিয়ে রাখছেন স্পেনকে। গত কয়েক বছরে নিজেদের নতুনভাবে গড়ে তুলেছে স্প্যানিশরা। টেকনিক্যাল দক্ষতা, বলের দখল ধরে রাখার সামর্থ্য, মাঝমাঠের আধিপত্য এবং তরুণ প্রতিভার সমন্বয়ে তারা এখন বিশ্বের সবচেয়ে পরিপূর্ণ দলগুলোর একটি।

সবচেয়ে বড় বিষয়, স্পেন কোনো একক তারকার ওপর নির্ভরশীল নয়; দল হিসেবে তাদের শক্তি অন্যদের চেয়ে বেশি। এ কারণেই অনেক বিশ্লেষকের চোখে এবারের আসরের প্রধান দাবিদার স্পেন। এই যেমন দেশের সাবেক তারকা ফুটবলার কাজী জসিম উদ্দিন আহমেদ জোসী জাগো নিউজকে দেওয়া ‘বিশ্বকাপ ভাবনায়’ বলছিলেন ‘ইউরোপের কোনো দেশেরই বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি এবং সেখানে সবার আগে আছে স্পেনের নাম। তারপর ফ্রান্স।’

শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামছে আর্জেন্টিনা। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়ী দলটির মূল কাঠামো এখনো অটুট। বড় ম্যাচে চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা, জয়ের মানসিকতা এবং দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে খেলার সুবিধা তাদের অন্যতম শক্তি। তবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে আগের আসরের সেই ক্ষুধা ও তাড়না ধরে রাখা। বয়স হয়ে গেলেও আর্জেন্টিনার ভক্তরা তাদের প্রিয় দলের সাফল্যের জন্য মেসির দিকেই তাকিয়ে থাকবে।

বিশ্বকাপ মানেই ব্রাজিল। প্রতিটি আসরের মতো এবারও সাম্বার দেশের প্রতি প্রত্যাশা আকাশছোঁয়া। আক্রমণভাগে গতি, সৃজনশীলতা ও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে তারা এখনো বিশ্বের সেরা দলগুলোর একটি। সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাজিল নিজেদের রক্ষণাত্মক দুর্বলতা কাটিয়ে আরও সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করেছে। সেই প্রক্রিয়া সফল হলে তারা সহজেই শিরোপার পথে এগিয়ে যেতে পারে। দেশটির সমর্থকরা ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের প্রত্যাশা নিয়ে অপেক্ষা করছে।

অন্যদিকে গত এক দশকে সবচেয়ে ধারাবাহিক দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে ফ্রান্স। তাদের স্কোয়াডের গভীরতা ঈর্ষণীয়। মূল একাদশের পাশাপাশি বেঞ্চেও রয়েছে বিশ্বমানের খেলোয়াড়। বড় টুর্নামেন্টে এই গভীরতাই অনেক সময় পার্থক্য গড়ে দেয়। তাই ফ্রান্সকে শিরোপা দৌড়ের প্রথম সারি থেকে সরিয়ে রাখার সুযোগ নেই।

ইংল্যান্ড ও জার্মানি বরাবরের মতোই সম্ভাবনাময় দুই দল। ইংল্যান্ডের বর্তমান প্রজন্মকে দেশটির অন্যতম সেরা বলে মনে করা হয়। তবে বড় ম্যাচে প্রত্যাশার চাপ সামলাতে না পারার পুরোনো সমস্যা এখনো তাদের তাড়া করে বেড়ায়। জার্মানি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে গেলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে তাদের অভিজ্ঞতা এবং মানসিক দৃঢ়তা সবসময়ই বড় সম্পদ।

বিশ্বকাপের সৌন্দর্য শুধু ফেবারিটদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিটি আসরেই কিছু দল চমক দেখায়। এবার সেই তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলোচিত নাম মরক্কো। গত বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে তারা দেখিয়েছে যে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার বাইরে থেকেও বড় সাফল্য সম্ভব। পাশাপাশি পর্তুগাল ও জাপানকেও সম্ভাব্য ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে এবারের বিশ্বকাপের একটি বড় আক্ষেপও ইতালির অনুপস্থিতি। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী দলের অনুপস্থিতি নিঃসন্দেহে এই আসরের একটি অপূর্ণতা হয়ে থাকবে।

who win the world cup

সব হিসাব-নিকাশের শেষে ফুটবল অবশ্য কখনোই কাগজের অঙ্ক মেনে চলে না। একটি ম্যাচ, একটি মুহূর্ত কিংবা একটি ভুল পুরো টুর্নামেন্টের গল্প বদলে দিতে পারে। তারপরও বিশ্বকাপ শুরুর প্রাক্কালে শক্তি, সামর্থ্য ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের বিচারে স্পেনকে সবচেয়ে এগিয়ে রাখাই যৌক্তিক মনে হচ্ছে। তাদের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল।

আরআই/আইএইচএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow