কোটিপতি ভিক্ষুক, আছে ৩ বাড়ি–গাড়ি–অটোরিকশা
বল-বিয়ারিং লাগানো লোহার ঠেলাগাড়িতে বসে রোজ ভিক্ষা করে বেড়ান। অথচ তার রয়েছে তিনটি বাড়ি, দামি গাড়ি ও অটোরিকশা। সম্প্রতি এমন কোটিপতি ভিক্ষুকের সন্ধান মিলেছে ভারতের মধ্য প্রদেশে। জানা যায়, ইন্দোরের সারাফা বাজারে নিয়মিত ভিক্ষা করেন এক শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, নাম মঙ্গলিলাল। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তার মালিকানায় রয়েছে তিনটি বাড়ি, তিনটি অটোরিকশা ও একটি মারুতি সুজুকি ডিজায়ার গাড়ি। সারাফা বাজারে বল-বিয়ারিং লাগানো লোহার ঠেলাগাড়িতে বসে মঙ্গলিলাল কখনো কারও কাছে সরাসরি ভিক্ষা চাইতেন না। ব্যাগ কাঁধে, হাতে জুতা পরে ঠেলাগাড়িতে বসে থাকতেন, মানুষজন সহানুভূতি থেকে নিজেই টাকা দিতো। প্রতিদিন ভিক্ষা থেকে তার আয় হতো প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ রুপি। আরও পড়ুন>>লুটপাটে বইও ছাড় পেলো না, দিল্লি বইমেলায় তুলকালামভারতে গোবর-গোমূত্রে ক্যানসার নিরাময়ের চিন্তা, গবেষণার আগেই গায়েব প্রকল্পের টাকাপরকীয়া প্রেমিকার সঙ্গে কেনাকাটা করতে গিয়ে স্ত্রীর কাছে হাতেনাতে ধরা, ভিডিও ভাইরাল তবে তদন্তে জানা গেছে, মঙ্গলিলালের আসল আয়ের বড় অংশ আসতো সুদের ব্যবসা থেকে। জিজ্ঞাসাবাদে মঙ্গলিলাল স্বীকার করেছেন, ভিক্ষা থেকে পাওয়া টাকা তিনি সারাফা এলাকার
বল-বিয়ারিং লাগানো লোহার ঠেলাগাড়িতে বসে রোজ ভিক্ষা করে বেড়ান। অথচ তার রয়েছে তিনটি বাড়ি, দামি গাড়ি ও অটোরিকশা। সম্প্রতি এমন কোটিপতি ভিক্ষুকের সন্ধান মিলেছে ভারতের মধ্য প্রদেশে।
জানা যায়, ইন্দোরের সারাফা বাজারে নিয়মিত ভিক্ষা করেন এক শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, নাম মঙ্গলিলাল। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তার মালিকানায় রয়েছে তিনটি বাড়ি, তিনটি অটোরিকশা ও একটি মারুতি সুজুকি ডিজায়ার গাড়ি।
সারাফা বাজারে বল-বিয়ারিং লাগানো লোহার ঠেলাগাড়িতে বসে মঙ্গলিলাল কখনো কারও কাছে সরাসরি ভিক্ষা চাইতেন না। ব্যাগ কাঁধে, হাতে জুতা পরে ঠেলাগাড়িতে বসে থাকতেন, মানুষজন সহানুভূতি থেকে নিজেই টাকা দিতো। প্রতিদিন ভিক্ষা থেকে তার আয় হতো প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ রুপি।
আরও পড়ুন>>
লুটপাটে বইও ছাড় পেলো না, দিল্লি বইমেলায় তুলকালাম
ভারতে গোবর-গোমূত্রে ক্যানসার নিরাময়ের চিন্তা, গবেষণার আগেই গায়েব প্রকল্পের টাকা
পরকীয়া প্রেমিকার সঙ্গে কেনাকাটা করতে গিয়ে স্ত্রীর কাছে হাতেনাতে ধরা, ভিডিও ভাইরাল
তবে তদন্তে জানা গেছে, মঙ্গলিলালের আসল আয়ের বড় অংশ আসতো সুদের ব্যবসা থেকে। জিজ্ঞাসাবাদে মঙ্গলিলাল স্বীকার করেছেন, ভিক্ষা থেকে পাওয়া টাকা তিনি সারাফা এলাকার ব্যবসায়ীদের স্বল্পমেয়াদি ঋণ দিতেন এবং প্রতিদিন নিজে গিয়ে সুদ আদায় করতেন। কর্মকর্তাদের ধারণা, বর্তমানে তার দেওয়া ঋণের পরিমাণ চার থেকে পাঁচ লাখ রুপি। তা থেকে সুদসহ দৈনিক আয় এক হাজার থেকে দুই হাজার রুপি।
ইন্দোরের নারী ও শিশু উন্নয়ন দপ্তরের নোডাল কর্মকর্তা দীনেশ মিশ্র জানান, গত শনিবার রাত ১০টার দিকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মঙ্গলিলালকে উদ্ধার করা হয়। শুরুতে ধারণা ছিল, এটি নিয়মিত উদ্ধার অভিযানের একটি সাধারণ ঘটনা। কিন্তু পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তার মালিকানায় রয়েছে একটি তিনতলা ভবনসহ মোট তিনটি বাড়ি, তিনটি অটোরিকশা এবং একটি মারুতি সুজুকি গাড়ি। গাড়ি ও অটোরিকশাগুলো ভাড়ায় চালানো হয়।
এছাড়া প্রতিবন্ধী হিসেবে তিনি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় এক বেডরুম, হল ও রান্নাঘরসহ একটি সরকারি বাসস্থানও পেয়েছেন, যদিও তার আগে থেকেই একাধিক সম্পত্তি ছিল।
মঙ্গলিলালকে বর্তমানে উজ্জয়িনের সেবাধাম আশ্রমে রাখা হয়েছে। তার ব্যাংক হিসাব ও সম্পত্তির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। যেসব ব্যবসায়ী তার কাছ থেকে ঋণ নিয়েছেন, তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জেলা কালেক্টরের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দীনেশ মিশ্র।
উল্লেখ্য, ইন্দোরকে ভিক্ষুকমুক্ত করতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিশেষ অভিযান শুরু হয়। সরকারি সমীক্ষায় শহরে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ ভিক্ষুককে শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ জন ভিক্ষা ছেড়েছেন, ১ হাজার ৬০ জনকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে এবং ১৭২ শিশুকে স্কুলে ভর্তি করা হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
কেএএ/
What's Your Reaction?