কোন সময় বজ্রপাত বেশি হয়, নিরাপদ থাকতে যা করবেন

প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে ঋতু বদলায়, আর সেই সঙ্গে বদলে যায় আকাশের রূপ। বাংলাদেশে গ্রীষ্মের দাবদাহের পরেই আসে কালবৈশাখীর গর্জন। তবে এই ঝড়ের সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকে প্রাণঘাতী আতঙ্ক ‘বজ্রপাত’। প্রতি বছর এই বজ্রপাতে দেশে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি ঘটে। জীবনযাত্রাবিষয়ক আজকের ফিচারে আমরা জানব ঠিক কখন বজ্রপাতের ঝুঁকি বেশি থাকে এবং জীবন বাঁচাতে আমাদের করণীয় কী। বজ্রপাতের মোক্ষম সময় কখন? পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট বজ্রপাতের ৩৮ শতাংশ ঘটে মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে। তবে সবচেয়ে বেশি তাণ্ডব ও প্রাণহানি দেখা যায় বৈশাখ মাসে, অর্থাৎ এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে। বছরের বাকি ৫১ শতাংশ বজ্রপাত হয় জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে, তবে সেগুলোকে কালবৈশাখী না বলে সাধারণ বজ্রঝড় হিসেবে অভিহিত করা হয়। ভৌগোলিক অবস্থানভেদে বজ্রপাতের সময়ে কিছুটা ভিন্নতা থাকে। যেমন: দেশের পশ্চিমাঞ্চলে সাধারণত শেষ বিকেলে বা সন্ধ্যার দিকে কালবৈশাখী হয়, কিন্তু পূর্বাঞ্চলে তা হয় সন্ধ্যার পরে। আকাশে কালো মেঘ বা ‘বজ্রমেঘ’ দেখে সাধারণত ২-৩ ঘণ্টা আগেই ঝড়ের আভাস পাওয়া সম্ভব। কেন বাড়ছে ঝুঁকি? বিশেষজ্ঞদের মতে, খোলা জায়গায় মানু

কোন সময় বজ্রপাত বেশি হয়, নিরাপদ থাকতে যা করবেন
প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে ঋতু বদলায়, আর সেই সঙ্গে বদলে যায় আকাশের রূপ। বাংলাদেশে গ্রীষ্মের দাবদাহের পরেই আসে কালবৈশাখীর গর্জন। তবে এই ঝড়ের সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকে প্রাণঘাতী আতঙ্ক ‘বজ্রপাত’। প্রতি বছর এই বজ্রপাতে দেশে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি ঘটে। জীবনযাত্রাবিষয়ক আজকের ফিচারে আমরা জানব ঠিক কখন বজ্রপাতের ঝুঁকি বেশি থাকে এবং জীবন বাঁচাতে আমাদের করণীয় কী। বজ্রপাতের মোক্ষম সময় কখন? পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট বজ্রপাতের ৩৮ শতাংশ ঘটে মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে। তবে সবচেয়ে বেশি তাণ্ডব ও প্রাণহানি দেখা যায় বৈশাখ মাসে, অর্থাৎ এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে। বছরের বাকি ৫১ শতাংশ বজ্রপাত হয় জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে, তবে সেগুলোকে কালবৈশাখী না বলে সাধারণ বজ্রঝড় হিসেবে অভিহিত করা হয়। ভৌগোলিক অবস্থানভেদে বজ্রপাতের সময়ে কিছুটা ভিন্নতা থাকে। যেমন: দেশের পশ্চিমাঞ্চলে সাধারণত শেষ বিকেলে বা সন্ধ্যার দিকে কালবৈশাখী হয়, কিন্তু পূর্বাঞ্চলে তা হয় সন্ধ্যার পরে। আকাশে কালো মেঘ বা ‘বজ্রমেঘ’ দেখে সাধারণত ২-৩ ঘণ্টা আগেই ঝড়ের আভাস পাওয়া সম্ভব। কেন বাড়ছে ঝুঁকি? বিশেষজ্ঞদের মতে, খোলা জায়গায় মানুষের উপস্থিতিই বজ্রপাতে মৃত্যুর প্রধান কারণ। বিশেষ করে কৃষক, জেলে বা মাঠে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষেরা ঝড়ের সময় বাইরে থাকায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েন। এছাড়া নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব এবং অসচেতনতা এই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। নিরাপদ থাকতে করণীয় বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেছে। নিচে সেগুলো তুলে ধরা হলো। ১. বজ্রপাতের সময় সবচেয়ে নিরাপদ হলো ঘরের ভেতর থাকা। ঝড়ের পূর্বাভাস পেলে যত দ্রুত সম্ভব কোনো দালান বা কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নিতে হবে। ভবনের ছাদ বা উঁচু স্থানে যাওয়া মোটেও নিরাপদ নয়। ২. বজ্রপাতের সময় বাড়িতে অবস্থান করলে জানালার কাছাকাছি ও বারান্দায় থাকবেন না। জানালা বন্ধ রাখুন এবং ঘরের ভিতরে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম থেকে দূরে থাকুন। ৩. বজ্রপাতের সময় গাড়ির ভেতর অবস্থান করলে গাড়ির ধাতব অংশের সাথে শরীরের সংযোগ ঘটাবেন না, সম্ভব হলে গাড়িটি নিয়ে কোনো কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নিন।  ৪. বজ্রপাতের সময় মোবাইল, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, ল্যান্ডফোন, টিভি, ফ্রিজসহ সকল বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন এবং এগুলো বন্ধ রাখুন। ৫.  উঁচু গাছপালা, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার বা ধাতব খুঁটি, মোবাইল টাওয়ার ইত্যাদি থেকে দূরে থাকুন। ৬. বজ্রপাতের সময় ধাতব হাতলযুক্ত ছাতা ব্যবহার করবেন না। জরুরি প্রয়োজনে প্লাস্টিক বা কাঠের হাতলযুক্ত ছাতা ব্যবহার করতে পারবেন। যদি একান্তই বাইরে যেতে হয়, তবে অবশ্যই রাবারের জুতা পরিধান করতে হবে। ৭. যদি আপনি বজ্রঝড়ের সময় খোলা মাঠে থাকেন এবং কাছাকাছি কোনো আশ্রয় না থাকে, তবে পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিয়ে এবং কানে আঙুল দিয়ে নিচু হয়ে বসে পড়ুন। তবে মাটির উপর শুয়ে পড়া যাবে না। ৭. বজ্রপাতের সময় নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে যাওয়া উচিত নয়। যদি নৌকায় থাকাকালীন ঝড় শুরু হয়, তবে দ্রুত নৌকার ছাউনির নিচে আশ্রয় নিতে হবে। ৮. বজ্রঝড়ের সময় বাড়ির ধাতব কল, সিঁড়ির ধাতব রেলিং, পাইপ ইত্যাদি স্পর্শ করবেন না। ৯. কোন বাড়িতে যদি পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না থাকে তাহলে সবাই এক কক্ষে না থেকে আলাদা আলাদা কক্ষে যান। ১০. বজ্রপাতে কেউ আহত হলে বৈদ্যুতিক শকে আহতদের মত করেই চিকিৎসা করতে হবে। প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসককে ডাকতে হবে বা হাসপাতালে নিতে হবে। বজ্র আহত ব্যক্তির শাস-প্রশ্বাস ও হ্রদ স্পন্দন ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। ১১. খোলা স্থানে অনেকে একত্রে থাকাকালীন বজ্রপাত শুরু হলে প্রত্যেকে ৫০ থেকে ১০০ ফুট দূরত্বে সরে যান। প্রকৃতির এই রুদ্রমূর্তিকে থামানোর সাধ্য আমাদের নেই, কিন্তু সচেতনতা আর সঠিক পদক্ষেপই পারে অকাল মৃত্যু থেকে আমাদের রক্ষা করতে। মনে রাখবেন, বজ্রপাতের সময় সামান্য অসতর্কতা ডেকে আনতে পারে বড় বিপর্যয়। তাই সতর্ক থাকুন, নিরাপদ থাকুন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow