কৌশিক আজাদ প্রণয়ের কবিতা

শূন্যে  তোমায় নিয়ে লিখব বলে শব্দেরা দানা বাঁধে অবিমৃশ্যতায়। তোমায় এক নজর দেখব বলে কত শত নাটকীয় পূর্বাভাস, কত শত প্রস্তুতি, তোমার সাথে কথা বলব এই দ্যোতনায়। তোমার ভাবলেশহীন নির্লিপ্ততায় দামামা বাজিয়ে সরব করব, সে সাধ্য আমার নেই। কিংবা অনুনয়ের বিস্ময়ে, কিংবা উচ্চকিত কাতরতায় তোমার নিস্তরঙ্গ নদীতে মোহনার ঢেউ উঠবে, সে আশা বিলাসিতা। হয়তো অপেক্ষমান থাকবে বিরক্তির একরাশ ক্লেদ, কিংবা অনুমেয় ক্লান্তির প্রবল শোক। তবু ছুটে যাই একাকার হয়ে, একটু খানি সুখের আচড়ে। অথচ দাগ থেকে যায়, স্মৃতির নয়, ক্ষতের। তোমার প্রতীক্ষায় কত শত বিনিদ্র রজনীর সাথে হয় ভোরের সহবাস, কিংবা কুয়াশাময় নীরবতায় আঁকা শব্দহীন সময়ের প্রচ্ছদ। তুমি এক দূরবর্তী বিন্দু হয়ে মিলিয়ে যাও শূন্যে।   মৃত স্বপ্নের উপাখ্যান  ক্ষমাহীন প্রতীক্ষার অজস্র বিলাপের ভিড়ে তোমার মাঝে ডুবে যায় সূর্য। তীব্র একাকী রাত্রির সাথে বসবাস, অতঃপর নিয়ত সন্ধ্যার ম্লান অন্ধকারে অনুশোচনা, অথবা আরেকটি মৃত স্বপ্নের অঙ্গার-শোক। আকুতির শ্লোকে জমা দীর্ঘশ্বাস- প্রতিটি এক একটি দীর্ঘ কাব্য। প্রবল ভাগ্যাহত রজনীর নীরব কুশীলব হই, শুষ্ক দহনে খাঁক হই, ক

কৌশিক আজাদ প্রণয়ের কবিতা

শূন্যে 

তোমায় নিয়ে লিখব বলে শব্দেরা দানা বাঁধে অবিমৃশ্যতায়।

তোমায় এক নজর দেখব বলে কত শত নাটকীয় পূর্বাভাস,

কত শত প্রস্তুতি, তোমার সাথে কথা বলব এই দ্যোতনায়।

তোমার ভাবলেশহীন নির্লিপ্ততায় দামামা বাজিয়ে সরব করব,

সে সাধ্য আমার নেই।

কিংবা অনুনয়ের বিস্ময়ে, কিংবা উচ্চকিত কাতরতায়

তোমার নিস্তরঙ্গ নদীতে মোহনার ঢেউ উঠবে,

সে আশা বিলাসিতা।

হয়তো অপেক্ষমান থাকবে বিরক্তির একরাশ ক্লেদ,

কিংবা অনুমেয় ক্লান্তির প্রবল শোক।

তবু ছুটে যাই একাকার হয়ে,

একটু খানি সুখের আচড়ে।

অথচ দাগ থেকে যায়, স্মৃতির নয়, ক্ষতের।

তোমার প্রতীক্ষায় কত শত বিনিদ্র রজনীর সাথে

হয় ভোরের সহবাস,

কিংবা কুয়াশাময় নীরবতায় আঁকা

শব্দহীন সময়ের প্রচ্ছদ।

তুমি এক দূরবর্তী বিন্দু হয়ে

মিলিয়ে যাও শূন্যে।

 



মৃত স্বপ্নের উপাখ্যান 


ক্ষমাহীন প্রতীক্ষার অজস্র বিলাপের ভিড়ে

তোমার মাঝে ডুবে যায় সূর্য।

তীব্র একাকী রাত্রির সাথে বসবাস, অতঃপর

নিয়ত সন্ধ্যার ম্লান অন্ধকারে অনুশোচনা,

অথবা আরেকটি মৃত স্বপ্নের অঙ্গার-শোক।

আকুতির শ্লোকে জমা দীর্ঘশ্বাস-

প্রতিটি এক একটি দীর্ঘ কাব্য।

প্রবল ভাগ্যাহত রজনীর নীরব কুশীলব হই,

শুষ্ক দহনে খাঁক হই, কিংবা অশ্রু-জলধি।

ক্ষমাহীন সময়ে ক্ষীণ আর্তির বিলাপ তুমি।


অন্ধকারের সঙ্গমে
 

জানি, রাত্রি এসে জড়াবে আমায় অন্ধকারের সঙ্গমে।

থাকবে না আর সেই তুমিটা, বারবার আমার বুকে।

গিয়েছে বয়ে সময়ের স্রোত, দুর্বার বহতায় ছুটে ছুটে।

আমি নই, তুমি নও, কেউ নয় কারো প্রতীক্ষায় আজ।

ভ্রুকুটিতে ঢেউ অবিশ্বাসের, চেনা অচেনায় পালাবদল।

অথচ বৈরাগ্য ভুলে, গৃহী সেজে গড়েছি স্বপ্নের আবাস।

অনিবার্য নই, তাই সহসাই তীর থেকে দূরে দূরে সরে।

ভাসি অনন্তে, পেছনে ফেলে মিথ্যা অধিকারের সীমা।


জানি, আবার হাসবে তুমি, ক্রন্দন ভুলে মুছে ফেলে সব।

আমিও কাব্যের খেরোখাতায় জমাবো একটুখানি তুমি।

ঘুমোঘোরে থাকি তুমি, আর সেডেটিভের সাস্পেন্সে।

 

 

অনিকেত পথ 

 

 

নীরবে বয়েছে যে পথ, একাকী অবিরাম।

তুমি তারে চেনো নাই, অবিশ্রান্ত বিকেলে।

কখনো হাঁটোনি সে পথে, প্রত্যয়ী আলাপনে।

মিলিয়েছে সুদূরে, এক অনিকেত নীরবতা।

গন্তব্যহীন পায়ে পায়ে, তুমি চেয়ে দেখো নি।

কম্পিত চোখের পাপড়িতে, অবিশ্বাসের গ্রাস।

কখনোবা আক্ষেপী দীর্ঘশ্বাসে, অশ্রুসজল।

অথচ রোদ মেখে গায়ে, দীপ্ত হবে প্রাণ।

সুরেলা সুখের মুখরে, তুমি বাতায়নে বসে

আস্বাদন করবে জীবনের প্রতিটি প্রহর।

কখনো আনমনা সন্ধ্যায়, চোখ বুজো একাকী।

অন্তর্দৃষ্টিতে দৃশ্যমান, সে পথে কেউ হাঁটছে,

একাকী আনমনে, প্রত্যয়হীন গন্তব্যের দিকে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow