কৌশিক আজাদ প্রণয়ের কবিতা : আহত রৌদ্দুর 

আহত রৌদ্দুর   একদিন রোদ্দুর নেমেছিল অজস্র স্বপ্নালু শব্দের কোলাহলে ঘর্মাক্ত বিস্তীর্ণ জনপথ রোদ্দুরের তাপে জ্বলছিল ভীষণ। ঘেমে- নেয়ে একাকার শহুরে রিকশা, ব্রা-স্ট্র্যাপ, মোটরবাইকের হেলমেট, উত্তাপে একাকার ছিল কবিতার শব্দাবলি, মধ্যতারুণ্যের অবাধ্যতায়। যেখানে প্রেম জাগে ঈর্ষায়, কখনোবা অনুনয়ের তৃষ্ণায়। বিপণনের কৌশলী জার্গন সমঝোতার সুর টানে, নিমেষেই প্রেম হয়ে ওঠে একুশ শতকের বৃহৎ লজ্জা, ক্ষণিকের ভ্রান্তি কিংবা বেয়ে ওঠা নিরন্তর ভুল- পেছনে ফিরে যাওয়ার নেই অবকাশ। অনায়াসে মধ্যদুপুরে নেমে আসে ক্লান্তির ধারা, বিস্মৃতি কিংবা বিপরীতমুখী পদযাত্রা, শব্দাবলি থেমে যায় আবেগহীন আবেশের ধোঁয়াটে বিভ্রাটে।   নিরন্তর    তোমায় প্রবল ভাবছি রাত্রিদিন নির্মল মোমের সন্ধ্যায় কিংবা কাঠফাটা রুদ্রপ্রখর দুপুরে, নয়তো অজস্র রাত্রির গুমোট কান্নায় তুমি নিরবধি বহতা। জ্যোৎস্নার উৎপাতে মিহি হয় ক্ষুধার্ত রাত্রির শ্লোক, কিংবা উপেক্ষিত শব্দের অভিমানে বোনা কাব্যের হাহাকারে, রাত্রিদিন, তোমাকেই ভেবে যায় নিরন্তর! কৈশোরের স্পর্ধিত বাসনায় অনুরাগের সঞ্চিতি, জীবনের দাঁড় বেয়ে মেপে যায় দূরত্বের যোজন, কুহকী উল্লাসে মা

কৌশিক আজাদ প্রণয়ের কবিতা : আহত রৌদ্দুর 

আহত রৌদ্দুর

 

একদিন রোদ্দুর নেমেছিল অজস্র স্বপ্নালু শব্দের কোলাহলে

ঘর্মাক্ত বিস্তীর্ণ জনপথ রোদ্দুরের তাপে জ্বলছিল ভীষণ।

ঘেমে- নেয়ে একাকার শহুরে রিকশা, ব্রা-স্ট্র্যাপ, মোটরবাইকের হেলমেট,

উত্তাপে একাকার ছিল কবিতার শব্দাবলি, মধ্যতারুণ্যের অবাধ্যতায়।

যেখানে প্রেম জাগে ঈর্ষায়, কখনোবা অনুনয়ের তৃষ্ণায়।

বিপণনের কৌশলী জার্গন সমঝোতার সুর টানে,

নিমেষেই প্রেম হয়ে ওঠে একুশ শতকের বৃহৎ লজ্জা,

ক্ষণিকের ভ্রান্তি কিংবা বেয়ে ওঠা নিরন্তর ভুল-

পেছনে ফিরে যাওয়ার নেই অবকাশ।

অনায়াসে মধ্যদুপুরে নেমে আসে ক্লান্তির ধারা,

বিস্মৃতি কিংবা বিপরীতমুখী পদযাত্রা,

শব্দাবলি থেমে যায় আবেগহীন আবেশের ধোঁয়াটে বিভ্রাটে।

 

নিরন্তর 

 

তোমায় প্রবল ভাবছি রাত্রিদিন

নির্মল মোমের সন্ধ্যায় কিংবা কাঠফাটা রুদ্রপ্রখর দুপুরে,

নয়তো অজস্র রাত্রির গুমোট কান্নায় তুমি নিরবধি বহতা।


জ্যোৎস্নার উৎপাতে মিহি হয় ক্ষুধার্ত রাত্রির শ্লোক,

কিংবা উপেক্ষিত শব্দের অভিমানে বোনা কাব্যের হাহাকারে,

রাত্রিদিন, তোমাকেই ভেবে যায় নিরন্তর!

কৈশোরের স্পর্ধিত বাসনায় অনুরাগের সঞ্চিতি,

জীবনের দাঁড় বেয়ে মেপে যায় দূরত্বের যোজন,

কুহকী উল্লাসে মাতোয়ারা ভুল, অভেদ্য বন্ধন টানে।

না- বোঝার গল্পগুলো ডানা মেলে অবিরাম,

এ শহরে আহত আবেগ ছাড়া ব্যয়বহুল সবই,

নাগরিক উষ্ণতায় বিলীন হয় বরফশোক!

বিলাসী সময়ে বাহারি উৎসবে ফিকে যদি হয় তবে

হৃদয়ের চিত্রপট, বেরঙা ক্যানভাসে-

তারে তুমি রেখো না মনে আর, ভ্রান্তির অতলে।

 

পরষ্পর 

রাত্রির শামিয়ানায় অজস্র স্বপ্নের বুনন,

যেন আমাদের প্রত্যহ গিয়েছে হেঁটে নিত্য।

অনায়াসে প্রারম্ভিকায় জড়িয়েছি পরস্পর,

বেলা-অবেলায় পরিচিত বিমোহনে একাকার।

এ তুমি কোন তুমি, সর্বস্বতায় জড়ালে সব,

দ্রোহী কলরবে স্লোগান তুলে স্বপ্নবিভোর।

আমাদের রাত্রিগুলো আজ স্বতন্ত্র তবু,

প্রতীক্ষিত ভোরে নেত্র পাবে প্রসন্ন এক আলো।

তুমিই তখন চপল ছন্দে আলোর উৎসরণ।


অসমাপ্ত 

ঘুম ভাঙা চোখে অবাক বিস্ময়ে

অপেক্ষারত প্রত্যুষে তোমাতে  একাকার হয় 

ছাইচাপা এক যাতনার ঘোর, নিভৃতে।

যেন মহাকালের উষ্মা বুকে জ্বলছ অনির্বাণ

অসমাপ্ত এক গল্পের প্রচ্ছদে হারিয়ে অনিচ্ছায়।

তোমায় তবু ভেবে যাই রাত্রিদিন

শত শুভাকাঙ্ক্ষীর ভিড়ে, চাহনীর লক্ষিত স্বরে

ডেকে যাই বারংবার, অপার ভালোবাসায়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow