খসড়া ঘিরে বিভ্রান্তি, শর্ত নিয়ে অ্যাক্সিওস ও ইরনা’র ভিন্ন ব্যাখ্যা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকের একটি খসড়া রূপরেখা প্রকাশ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা। শুক্রবার (১২ জুন) প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে আলোচনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে খসড়ার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস প্রকাশিত প্রতিবেদনের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। দুই দেশের দুটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে মিল থাকলেও নীতি, যুদ্ধবিরতি, পারমাণবিক ইস্যু ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ৬০ দিনের আলোচনা ও যুদ্ধবিরতি দুই পক্ষই ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমার কথা উল্লেখ করলেও তাদের ব্যাখ্যায় পার্থক্য রয়েছে। অ্যাক্সিওস বলছে, এটি যুদ্ধবিরতির ৬০ দিনের ‘সম্প্রসারণ”। তবে ইরনার তথ্য মতে, খসড়ায় ‘চূড়ান্ত যুদ্ধ সমাপ্তি” বলা হয়েছে এবং যুদ্ধবিরতির সম্প্রসারণ শব্দটি নেই। এই চুক্তি স্বাক্ষরের পর ৬০ দিন সময়ের মধ্যে শুধু তিনটি বিষয় নিয়ে নির্ধারিত আলোচনা হবে। ওই তিনটি বিষয় হচ্ছে- ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধ ক্ষতিপূরণ। এদিকে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি আশা করছেন সপ্তাহান্তেই একটি স্বাক্

খসড়া ঘিরে বিভ্রান্তি, শর্ত নিয়ে অ্যাক্সিওস ও ইরনা’র ভিন্ন ব্যাখ্যা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকের একটি খসড়া রূপরেখা প্রকাশ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা। শুক্রবার (১২ জুন) প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে আলোচনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে খসড়ার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস প্রকাশিত প্রতিবেদনের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

দুই দেশের দুটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে মিল থাকলেও নীতি, যুদ্ধবিরতি, পারমাণবিক ইস্যু ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।

৬০ দিনের আলোচনা ও যুদ্ধবিরতি

দুই পক্ষই ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমার কথা উল্লেখ করলেও তাদের ব্যাখ্যায় পার্থক্য রয়েছে। অ্যাক্সিওস বলছে, এটি যুদ্ধবিরতির ৬০ দিনের ‘সম্প্রসারণ”। তবে ইরনার তথ্য মতে, খসড়ায় ‘চূড়ান্ত যুদ্ধ সমাপ্তি” বলা হয়েছে এবং যুদ্ধবিরতির সম্প্রসারণ শব্দটি নেই। এই চুক্তি স্বাক্ষরের পর ৬০ দিন সময়ের মধ্যে শুধু তিনটি বিষয় নিয়ে নির্ধারিত আলোচনা হবে। ওই তিনটি বিষয় হচ্ছে- ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধ ক্ষতিপূরণ।

এদিকে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি আশা করছেন সপ্তাহান্তেই একটি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। তবে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তেহরান এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।

পারমাণবিক কর্মসূচি

অ্যাক্সিওস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে ইউরেনিয়াম মজুত ও পারমাণবিক সীমাবদ্ধতা নিয়ে কাঠামো তৈরি হবে। কিন্তু ইরনা বলছে, এই স্মারকে ইরানের ওপর নতুন কোনো পারমাণবিক বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হবে না এবং আলোচনায় ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার বজায় থাকবে।

হরমুজ প্রণালি

গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ নিয়েও দুই প্রতিবেদনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। অ্যাক্সিওস বলছে, নৌপথ দ্রুত পুনরায় খুলে দেওয়া হবে আর ইরনা বলছে, ইরান হরমুজের ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব বজায় রাখবে এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর মাধ্যমে এই নৌপথ পরিচালিত হবে। এক্ষেত্রে ওমানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা দেওয়া কথা বলা হয়েছে।

স্থগিত সম্পদ ও নিষেধাজ্ঞা

অ্যাক্সিওস-এর সংবাদে জব্দকৃত ইরানি অর্থ আংশিকভাবে ছাড়ের কথা বলা হলেও চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই কিছু সম্পদ মুক্ত করার কথা জানিয়েছে ইরনা। এতে আরও বলা হয়েছে, সম্পদের বাকি অংশ ধাপে ধাপে আলোচনার সময় ছাড়া হবে। অন্যদিকে মেহের নিউজ এজেন্সি আরও বড় অঙ্কের (প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার) সম্পদ মুক্তির কথা উল্লেখ করেছে।

অ্যাক্সিওস বলছে, নিষেধাজ্ঞা ইস্যুটি শর্তসাপেক্ষ। এদিকে, ইরনা জানিয়েছে, এটি পরে আলোচনার বিষয় হবে।

যুদ্ধ ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য শর্ত

ইরনা প্রথমবারের মতো দাবি করেছে যে, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। মেহের নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এমনকি পুনর্গঠন খাতে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া কিছু শর্তে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, নতুন সেনা মোতায়েন না করা এবং জাতিসংঘের মাধ্যমে চুক্তি অনুমোদনের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এই বিষয়গুলো অ্যাক্সিওস এর প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

সামগ্রিক চিত্র

দুই পক্ষই স্বীকার করছে যে একটি কাঠামোগত সমঝোতার দিকে অগ্রগতি হচ্ছে, তবে এর ব্যাখ্যা ও শর্তগুলো নিয়ে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে ড্রোন ও হামলার ঘটনাগুলো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

প্রসঙ্গত, জেনেভা শহরে আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশকিছু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এর প্রতিবাদে ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান।

এরপর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়া ১৩ এপ্রিল হরমুজে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়। এরপর কয়েক দফা যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ান ট্রাম্প।

ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন।

কেএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow