খামেনি হত্যায় আসলে কী হয়েছে, জানা গেল বিস্তারিত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি গত শনিবার ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন। ব্রিটিশ দৈনিক ফাইনান্সিয়াল টাইমস পত্রিকাটি বর্তমান ও সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানায়, এ অভিযানে বহু বছরের গোপন নজরদারি, মানবসূত্রের তথ্য এবং ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাল্লার বাইরে থেকে নিক্ষেপ করা নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি মানবসূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে ইসরায়েল নিশ্চিত হয় যে খামেনি তার নিজস্ব কম্পাউন্ডে অবস্থান করছিলেন। কয়েক ঘণ্টা ধরে আকাশে টহল দেওয়া ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান সেখান থেকে প্রায় ৩০টি নির্ভুল অস্ত্র নিক্ষেপ করে। হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ছিল ‘স্প্যারো’—যেগুলো ১ হাজার কিলোমিটারের বেশি দূর থেকে ছোট লক্ষ্যবস্তুও আঘাত করতে সক্ষম। ফলে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকর সীমার বাইরে থেকেই হামলা চালানো সম্ভব হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, কৌশলগত চমক সৃষ্টির জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে দিনের আলোতে হামলাটি চালানো হয়। হামলার সকালে খামেনির কম্পাউন্ডের আশপাশের প্রায় এক ডজন

খামেনি হত্যায় আসলে কী হয়েছে, জানা গেল বিস্তারিত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি গত শনিবার ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন। ব্রিটিশ দৈনিক ফাইনান্সিয়াল টাইমস পত্রিকাটি বর্তমান ও সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানায়, এ অভিযানে বহু বছরের গোপন নজরদারি, মানবসূত্রের তথ্য এবং ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাল্লার বাইরে থেকে নিক্ষেপ করা নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি মানবসূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে ইসরায়েল নিশ্চিত হয় যে খামেনি তার নিজস্ব কম্পাউন্ডে অবস্থান করছিলেন। কয়েক ঘণ্টা ধরে আকাশে টহল দেওয়া ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান সেখান থেকে প্রায় ৩০টি নির্ভুল অস্ত্র নিক্ষেপ করে।

হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ছিল ‘স্প্যারো’—যেগুলো ১ হাজার কিলোমিটারের বেশি দূর থেকে ছোট লক্ষ্যবস্তুও আঘাত করতে সক্ষম। ফলে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকর সীমার বাইরে থেকেই হামলা চালানো সম্ভব হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, কৌশলগত চমক সৃষ্টির জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে দিনের আলোতে হামলাটি চালানো হয়। হামলার সকালে খামেনির কম্পাউন্ডের আশপাশের প্রায় এক ডজন মোবাইল ফোন টাওয়ার অচল করে দেওয়া হয়, যাতে তার নিরাপত্তা টিম আগাম সতর্কবার্তা না পায়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানি পক্ষের নিরাপত্তা ঘাটতিও হামলার সাফল্যে ভূমিকা রেখেছে। একটি সূত্র দাবি করেছে, খামেনি যদি তার দুটি বাঙ্কারের যেকোনো একটিতে অবস্থান করতেন, তবে তাকে লক্ষ্যবস্তু করা কঠিন হতো।

এ অভিযানের পেছনে দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা তৎপরতা ছিল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তেহরানের বিভিন্ন ট্রাফিক ক্যামেরা—যার মধ্যে খামেনির কম্পাউন্ডসংলগ্ন ক্যামেরাও রয়েছে—সেগুলোর মাধ্যমে গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। পাশাপাশি বৃহৎ ডেটাসেট বিশ্লেষণের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ম্যাপিং ব্যবহার করে ইরান সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ কাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়।

শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযান শুরুর পর ইরানের একাধিক কর্মকর্তা নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। এর জেরে উপসাগরীয় দেশগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলাও শুরু হয়। অভিযানের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow