খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, আবেদন করতে পারবেন যারা

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এবং বর্তমানে বিদেশের নাগরিক (ডায়াসপোরা) পরিবারের সন্তানদের দেশের মূলধারার উচ্চশিক্ষায় ফিরিয়ে আনতে সুযোগ দিচ্ছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি)। আগামী জানুয়ারি ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) বা আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শ্রেণিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে আবেদনের আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।  গত ৩ জুলাই ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করে যোগ্য শিক্ষার্থীদের দ্রুত আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিতের পাশাপাশি প্রবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য অভূতপূর্ব কিছু সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। এর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো- আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হলেও প্রবাসীদের সন্তানদের কাছ থেকে দেশি শিক্ষার্থীদের সমপরিমাণ টিউশন ও একাডেমিক ফি নেওয়া হবে, যা বছরে আনুমানিক মাত্র ৬০ মার্কিন ডলার। এ ছাড়া ভর্তি হওয়া সকল আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য ক্যাম্পাসে শতভাগ আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এদিকে কোপেনহেগেনের বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, আবেদন করতে পারবেন যারা
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এবং বর্তমানে বিদেশের নাগরিক (ডায়াসপোরা) পরিবারের সন্তানদের দেশের মূলধারার উচ্চশিক্ষায় ফিরিয়ে আনতে সুযোগ দিচ্ছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি)। আগামী জানুয়ারি ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) বা আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শ্রেণিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে আবেদনের আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।  গত ৩ জুলাই ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করে যোগ্য শিক্ষার্থীদের দ্রুত আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিতের পাশাপাশি প্রবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য অভূতপূর্ব কিছু সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। এর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো- আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হলেও প্রবাসীদের সন্তানদের কাছ থেকে দেশি শিক্ষার্থীদের সমপরিমাণ টিউশন ও একাডেমিক ফি নেওয়া হবে, যা বছরে আনুমানিক মাত্র ৬০ মার্কিন ডলার। এ ছাড়া ভর্তি হওয়া সকল আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য ক্যাম্পাসে শতভাগ আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এদিকে কোপেনহেগেনের বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এটি ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশি ডায়াসপোরাদের জন্য তাদের সন্তানদের দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করানোর পাশাপাশি উচ্চমানের শিক্ষা নিশ্চিত করার একটি চমৎকার প্ল্যাটফর্ম। যেসব বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পরিবারের সন্তানেরা বিদেশের নাগরিকত্ব পেয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট দেশের পাসপোর্টধারী, তারা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে এই সুযোগের জন্য আবেদন করতে পারবেন। বৈশ্বিক শিক্ষার মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ডিসিপ্লিনের (বিভাগ) পাঠ্যসূচি ‘আউটকাম-বেসড এডুকেশন’ মডেলে সাজানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ‘রোলিং অ্যাডমিশন’ (আবেদন পাওয়ার সাথে সাথে যা যাচাই-বাছাই ও প্রক্রিয়াকরণ করা হয়) পদ্ধতি অনুসরণ করে। তাই আসন পূর্ণ হওয়ার আগেই আগ্রহীদের দ্রুত আবেদন করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। রাজনীতিমুক্ত, শান্তিপূর্ণ এবং গবেষণা-বান্ধব পরিবেশ প্রবাসে বড় হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য মানিয়ে নিতে সহায়ক হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। দি অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আশিক উর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিকীকরণ এবং গ্লোবাল র‍্যাংকিংয়ে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আমাদের ক্যাম্পাসে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, গবেষণা এবং নিরাপদ আবাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। ভর্তি প্রক্রিয়া ও আবেদনের সুযোগ জানুয়ারি ২০২৭ সেশনের ক্লাস শুরুর পূর্ব পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে। আগ্রহী প্রার্থীরা দি অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (io.ku.ac.bd) থেকে সরাসরি আবেদন ফরম ডাউনলোড করতে পারবেন। এ ছাড়া যে কোনো তথ্যের জন্য [email protected] এই ইমেইলে সরাসরি যোগাযোগ করা যাবে। উল্লেখ্য, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষ সারিতে রয়েছে। ২০২৫ সালের বৈশ্বিক র‍্যাংকিংয়ে এটি ১২০১-১৫০০ ব্যান্ডে, তরুণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ৪০১-৫০০ এবং এশিয়ার মধ্যে ৫০১-৬০০তম অবস্থানে রয়েছে। ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকদের বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তুলতে ইংরেজিকে শিক্ষার প্রধান মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।  বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টি স্কুল (অনুষদ) এবং ২৯টি ডিসিপ্লিনের (বিভাগ) অধীনে বৈচিত্র্যময় প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। এর মধ্যে বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এবং আরবান অ্যান্ড রুরাল প্ল্যানিংয়ের মতো যুগান্তকারী বিভাগ রয়েছে, যা বাংলাদেশে প্রথম খুবিতেই চালু হয়েছিল। গবেষণা ও উদ্ভাবনের প্রতি খুবির প্রতিশ্রুতি এর অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধাগুলোর মাধ্যমে প্রকাশ পায়। এখানে রয়েছে ১০৪টি পরীক্ষাগার (ল্যাবরেটরি) এবং ৫২৭ জনেরও বেশি দক্ষ শিক্ষক। এ ছাড়াও, এই প্রতিষ্ঠানে রয়েছে বিশ্বের প্রথম ‘ইনস্টিটিউট ফর ইন্টিগ্রেটেড স্টাডিজ অন দ্য সুন্দরবনস অ্যান্ড কোস্টাল ইকোসিস্টেম’ এবং দেশের প্রথম সয়েল আর্কাইভ (মৃত্তিকা আর্কাইভ)। একটি বৈশ্বিক শিক্ষার পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টি বিশ্বজুড়ে বেশ কয়েকটি মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সাথে কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে। বর্তমান সহযোগিতার মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল স্কুল অব মেডিসিন এবং জার্মানির ড্রেসডেন ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির সঙ্গে যৌথ গবেষণা উদ্যোগ।  সেই সঙ্গে তুরস্কের আফিয়ন কোকাতেপে ইউনিভার্সিটি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইরাসমাস মুন্ডাস জয়েন্ট মাস্টার ডিগ্রি প্রোগ্রামের সঙ্গে একাডেমিক চুক্তি রয়েছে। এছাড়াও চীন, কোরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, মালয়েশিয়া এবং ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow