খেলা শেষ না হতেই ইরান ফুটবল দলকে বলা হলো- ‘যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাও’
বিশ্বকাপে ইরান খেলতে পারবে কি পারবে না, তা নিয়ে ছিল নানান জ্বল্পনা-কল্পনা। এমনকি এক সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরান ফুটবলারদের ভিসা পর্যন্ত দিচ্ছিল না। শেষে ভিসা দেয়া হলো ফুটবলার এবং গুটি কয়েক ব্যাকরুম স্টাফকে। অনেক কর্মকর্তা, এমনকি ব্যাকরুমের কিছু স্টাফকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা না দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তার আগেই ইরান ফিফার কাছে আবেদন জানিয়েছিলো, তাদের ম্যাচগুলো ম্যাক্সিকোয় সরিয়ে নিতে। যদিও ফিফা তাতে রাজি হয়নি। তবে, ইরান সিদ্ধান্ত নেয়, তারা তাদের বেজ ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা থেকে সরিয়ে নেয় মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী শহর তিহুয়ানায়। ইরানি ফুটবল দলের যাদেরকে ভিসা দেয়া হয়েছে, তাদেরকে এই শর্ত দেয়া হয়েছে যে, ম্যাচ যেদিন খেলা হবে, সেদিনই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যেতে হবে তাদের। লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ ছিল ইরানের। ২-২ গোলের সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি। তবে ম্যাচটি শেষ হওয়ার পরপরই ইরানের ফুটবলারদের নির্দেশ দেওয়া হয়, দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়ার জন্য। বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রধান কোচ আমির গালেনোই, যিনি দাবি করেছেন বিশ্বকাপের সবচেয়ে ‘নিপী
বিশ্বকাপে ইরান খেলতে পারবে কি পারবে না, তা নিয়ে ছিল নানান জ্বল্পনা-কল্পনা। এমনকি এক সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরান ফুটবলারদের ভিসা পর্যন্ত দিচ্ছিল না। শেষে ভিসা দেয়া হলো ফুটবলার এবং গুটি কয়েক ব্যাকরুম স্টাফকে। অনেক কর্মকর্তা, এমনকি ব্যাকরুমের কিছু স্টাফকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা না দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
তার আগেই ইরান ফিফার কাছে আবেদন জানিয়েছিলো, তাদের ম্যাচগুলো ম্যাক্সিকোয় সরিয়ে নিতে। যদিও ফিফা তাতে রাজি হয়নি। তবে, ইরান সিদ্ধান্ত নেয়, তারা তাদের বেজ ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা থেকে সরিয়ে নেয় মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী শহর তিহুয়ানায়। ইরানি ফুটবল দলের যাদেরকে ভিসা দেয়া হয়েছে, তাদেরকে এই শর্ত দেয়া হয়েছে যে, ম্যাচ যেদিন খেলা হবে, সেদিনই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যেতে হবে তাদের।
লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ ছিল ইরানের। ২-২ গোলের সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি। তবে ম্যাচটি শেষ হওয়ার পরপরই ইরানের ফুটবলারদের নির্দেশ দেওয়া হয়, দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়ার জন্য। বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রধান কোচ আমির গালেনোই, যিনি দাবি করেছেন বিশ্বকাপের সবচেয়ে ‘নিপীড়িত’ দল সম্ভবত তারাই।
সোমবার রাতে ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে সোফি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামে ইরান। ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়। ম্যাচ শেষে দলটির পরিকল্পনা ছিল ক্যালিফোর্নিয়াতেই রাত কাটানো, যাতে খেলোয়াড়রা স্বাভাবিক পুনরুদ্ধার (রিকভারি) প্রক্রিয়ার সুযোগ পায়; কিন্তু ম্যাচ শেষ হওয়ার পরই পুরো দলকে দ্রুত বিমানযোগে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই সিদ্ধান্তে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করে গালেনোই বলেন, ‘তারা আমাদের পুনরুদ্ধারের সময়ই দেয়নি। ম্যাচ শেষে আমাদের বলা হয়েছে, আপনাদের এখনই চলে যেতে হবে। একটি ম্যাচের পর খেলোয়াড়দের বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের জন্য সময় পাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমাদের বিমানে তুলে ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। এটি আমাদের জন্য বড় সমস্যা।’
তবে এই নির্দেশ কার পক্ষ থেকে এসেছে, তা স্পষ্ট করেননি ইরানি কোচ। তিনি জানান, তাদের কাছে বিষয়টি একেবারেই অস্পষ্ট।
গালেনোই বলেন, ‘সত্যি বলতে আমরা জানি না কেন আমাদের ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি খুবই অদ্ভুত। মনে হচ্ছে আমাদের পরিকল্পনা অন্য কেউ করছে। আমাদের সিদ্ধান্তও অন্য কোথাও থেকে নেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনা ছিল ম্যাচের দুই দিন আগে আসব এবং ম্যাচের পরের রাতটাও এখানে থাকব। এরপর পরদিন দুপুরে ক্যাম্পে ফিরব। কিন্তু হঠাৎ কী হলো, তা আমাদের জানা নেই।’
এ সময় ক্ষোভ ঝেড়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, বিশ্বকাপে সবচেয়ে নিপীড়িত দল সম্ভবত আমরা।’
বিশ্বকাপ শুরুর আগ থেকেই নানা জটিলতার মধ্যে ছিল ইরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতির পর দলটির বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। এখন ভিসা দেওয়া হলেও এ নিয়ে জটিলতা তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইরানের অধিনায়ক মেহদি তারেমি অভিযোগ করেছেন, দলের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ও স্টাফ সদস্য ভিসা না পাওয়ায় বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ভিসা না পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি, কোচিং সাপোর্ট স্টাফ এবং মিডিয়া কর্মকর্তারাও।
তারেমি বলেন, ‘আমাদের এখনই লস অ্যাঞ্জেলেস ছাড়তে হচ্ছে, যা আমাদের জন্য মোটেও ভালো নয়। আমি মনে করি ফিফার উচিত ছিল আমাদের আরও বেশি সহায়তা করা। সত্যি বলতে পুরো পরিস্থিতিটাই দুর্যোগের মতো।’
মাঠের খেলাতেও ইরান পুরো তিন পয়েন্ট তুলে নিতে পারেনি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুইবার পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়ায় তারা। শেষ পর্যন্ত ৬৪ মিনিটে মোহাম্মদ মোহেব্বির গোল ইরানকে ২-২ সমতায় ফেরায়। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় মূলত ইরান-সমর্থক দর্শকদের উপস্থিতিতে, যদিও গ্যালারিতে ইরানি-আমেরিকানদের একটি অংশ নিজ দেশের সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভও দেখিয়েছে।
বিশ্বকাপে ইরানের পরবর্তী ম্যাচও অনুষ্ঠিত হবে একই ভেন্যু লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে। আগামী রোববার গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে গালেনোইর দল। তবে মাঠের লড়াইয়ের আগে দলের ওপর চাপ হয়ে থাকছে মাঠের বাইরের এই অনিশ্চয়তা ও প্রশাসনিক জটিলতাগুলো।
এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপ মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার পাশাপাশি নানা প্রতিকূলতার সঙ্গেও লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে ইরানকে। আর সেই কারণেই হয়তো গালেনোইর কণ্ঠে শোনা গেছে হতাশা- ‘বিশ্বকাপে সবচেয়ে নিপীড়িত দল সম্ভবত আমরাই।’
আইএইচএস/
What's Your Reaction?