খেলোয়াড়-সমর্থক সবার জন্যই ভিসা জামানত ১৫ হাজার ডলার, বাড়ছে উদ্বেগ

২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ সামনে রেখে নতুন এক বিতর্ক তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতিকে কেন্দ্র করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের চালু করা ‘ভিসা বন্ড পাইলট প্রোগ্রাম’- এর আওতায় অংশগ্রহণকারী কয়েকটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে ১৫ হাজার ডলারের বড় অঙ্কের অর্থ জমা দিতে হতে পারে, যা বিশ্বকাপ ঘিরে উত্তেজনার মাঝেই তৈরি করেছে নতুন উদ্বেগ। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর চলতি বছরের শুরুতে এই নীতি কার্যকর করে, যার আওতায় প্রায় ৫০টি দেশের নাগরিকদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে বিশেষভাবে আফ্রিকার পাঁচটি দেশ- আলজেরিয়া, কেপ ভার্দে, সেনেগাল, আইভরি কোস্ট এবং তিউনিসিয়ার নাগরিকদের জন্য আরোপ করা হয়েছে বড় অঙ্কের জামানত। এই দেশগুলোর নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য পর্যটক ভিসা আবেদন করতে গিয়ে শিশুদের ক্ষেত্রে ৫ হাজার ডলার এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জমা রাখতে হতে পারে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তা কিংবা বিশ্বকাপ সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো ব্যক্তির জন্য আলাদা কোনো ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়নি

খেলোয়াড়-সমর্থক সবার জন্যই ভিসা জামানত ১৫ হাজার ডলার, বাড়ছে উদ্বেগ

২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ সামনে রেখে নতুন এক বিতর্ক তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতিকে কেন্দ্র করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের চালু করা ‘ভিসা বন্ড পাইলট প্রোগ্রাম’- এর আওতায় অংশগ্রহণকারী কয়েকটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে ১৫ হাজার ডলারের বড় অঙ্কের অর্থ জমা দিতে হতে পারে, যা বিশ্বকাপ ঘিরে উত্তেজনার মাঝেই তৈরি করেছে নতুন উদ্বেগ।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর চলতি বছরের শুরুতে এই নীতি কার্যকর করে, যার আওতায় প্রায় ৫০টি দেশের নাগরিকদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে বিশেষভাবে আফ্রিকার পাঁচটি দেশ- আলজেরিয়া, কেপ ভার্দে, সেনেগাল, আইভরি কোস্ট এবং তিউনিসিয়ার নাগরিকদের জন্য আরোপ করা হয়েছে বড় অঙ্কের জামানত।

এই দেশগুলোর নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য পর্যটক ভিসা আবেদন করতে গিয়ে শিশুদের ক্ষেত্রে ৫ হাজার ডলার এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জমা রাখতে হতে পারে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তা কিংবা বিশ্বকাপ সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো ব্যক্তির জন্য আলাদা কোনো ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে এই দেশগুলোর জাতীয় দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, কর্মকর্তা এমনকি সমর্থকদেরও এই বড় অঙ্কের অর্থ জমা দিয়ে ভিসা নিশ্চিত করার চেষ্টা করতে হতে পারে।

এমনকি এই অর্থ জমা দিলেও ভিসা পাওয়া নিশ্চিত নয়। প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে কনস্যুলার কর্মকর্তারা যাচাই করবেন। কিছু ক্ষেত্রে ‘জাতীয় স্বার্থ’ বা ‘মানবিক কারণ’ বিবেচনায় এই ফি মওকুফ করা হতে পারে, তবে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ সেই ক্যাটাগরিতে পড়বে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ-পূর্ব বৈঠকে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে ফিফার প্রতিনিধিদের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এই আর্থিক বাধা বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে দর্শক উপস্থিতি কমিয়ে দিতে পারে এবং অংশগ্রহণকারীদের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

কিছু ফুটবল ফেডারেশন ইতোমধ্যে ফিফার কাছে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্টদের জন্য বিশেষ ছাড় নিশ্চিত করা যায়। ফিফাও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যা এই বন্ডের বাধ্যবাধকতা শিথিল করতে সহায়ক হতে পারে।

তবে বাস্তবতা হলো, একটি চার সদস্যের পরিবার যদি এই পাঁচ দেশের কোনো একটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চায় এবং সবাই যদি প্রাপ্তবয়স্ক বা কিশোর হয়, তাহলে তাদের মোট জামানতের পরিমাণ ৪০ হাজার ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। যদিও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে এই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে, তবুও শুরুতেই এত বড় অঙ্কের অর্থ জোগাড় করা অনেকের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজন ও অভিবাসন নীতির জটিল সম্পর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আয়োজনেও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে, সেটিই এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ফিফা ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে চলমান আলোচনার ফলাফল এখন সবার নজরে, কারণ এই সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে- বিশ্বকাপের মঞ্চে কারা সহজে উপস্থিত থাকতে পারবেন আর কারা বাধার মুখে পড়বেন।

আইএইচএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow