গণতন্ত্র রক্ষার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান চিফ হুইপের

দেশের স্বার্থে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি। সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের যে গাছটি আমরা রোপণ করেছি, সেটি পানি দিয়ে বড় করার দায়িত্ব আপনাদেরও। আপনাদের ৫ হাজার সাংবাদিকের কলম ও চিন্তা একটি দেশকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়ের সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চিফ হুইপ এসব কথা বলেন।  বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, বর্তমান সরকার ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে যাত্রা শুরু করার পরও দুই মাসের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড বাস্তবায়নসহ মানুষের অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছে এবং সমস্যা নিরসনে বিভিন্ন ‍উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বিগত সরকারের কথা উল্লেখ করে বলেন, তারা ৭টি বাজেটের সমপরিমাণ টাকা এদেশ থেকে পাচার করেছে। তিনি আরও বলেন, ৭৪ এর দুর্ভিক্ষের কথা আপনারা সবাই জানেন। অভাবের তাড়নায় মানুষ অপর মানুষের বমি খেয়েছে। এরকম অবস্থায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দায়িত্ব গ্রহণ করে ৩ বছরের মাঝে খাদ্যে স্বাবলম্বী

গণতন্ত্র রক্ষার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান চিফ হুইপের

দেশের স্বার্থে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি।

সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের যে গাছটি আমরা রোপণ করেছি, সেটি পানি দিয়ে বড় করার দায়িত্ব আপনাদেরও। আপনাদের ৫ হাজার সাংবাদিকের কলম ও চিন্তা একটি দেশকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়ের সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চিফ হুইপ এসব কথা বলেন। 

বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, বর্তমান সরকার ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে যাত্রা শুরু করার পরও দুই মাসের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড বাস্তবায়নসহ মানুষের অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছে এবং সমস্যা নিরসনে বিভিন্ন ‍উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বিগত সরকারের কথা উল্লেখ করে বলেন, তারা ৭টি বাজেটের সমপরিমাণ টাকা এদেশ থেকে পাচার করেছে।

তিনি আরও বলেন, ৭৪ এর দুর্ভিক্ষের কথা আপনারা সবাই জানেন। অভাবের তাড়নায় মানুষ অপর মানুষের বমি খেয়েছে। এরকম অবস্থায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দায়িত্ব গ্রহণ করে ৩ বছরের মাঝে খাদ্যে স্বাবলম্বী হয়ে বাংলাদেশ থেকে খাদ্য রপ্তানি করেন। এরপর বেগম জিয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি হাতে নিয়ে দেশকে স্বাবলম্বী করেন। একইভাবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বাবা-মায়ের দেখানো পথে হাঁটছেন।

তিনি বলেন, আপনারা তার (প্রধানমন্ত্রীর) পাশে থাকতে পারেন, তিনি যতক্ষণ পর্যন্ত ভালো কাজ করবেন। আমি যদি ভালো কাজ করি তাহলে পাশে থাকবেন এবং আমি যদি মন্দ কাজ করি বা অসুবিধা সৃষ্টি করি, তাহলে যৌক্তিক সমালোচনা করবেন এবং আমার ভুল ধরিয়ে দিবেন। আর সব মানুষেরই ভুল হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, এই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে আপনারা একজন যোদ্ধা। মানুষের স্বাবলম্বী হওয়ার এই যুদ্ধে আপনারা শরীক হয়ে হয়ত (ব্যক্তিগতভাবে) কিছুই পাবেন না। কিন্তু কেয়ামতের মাঠে আল্লাহর কাছে তো বলতে পারবেন যে আমি ওই যুদ্ধের একজন সদস্য (ছিলাম)।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে চিফ হুইপ বলেন, জুলাই সনদের অঙ্গীকার অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং জনগণের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন করা ছাড়া বর্তমান সরকারের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই। এই নির্বাচনে যারা জনগণের ম্যান্ডেট পেয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্যই হলো জুলাই সনদের প্রতিটি লাইন, সেমিকলন ও দাঁড়ি-কমা হুবহু বাস্তবায়ন করা।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মূল দর্শন হলো দেশের প্রতিটি মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়া এবং কামার, কুমার, তাঁতি, স্বর্ণকারসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।

সংসদে বর্তমানে ২২০ জন নতুন সদস্য রয়েছেন যাদের সংসদীয় রীতি-নীতি সম্পর্কে শিখতে আরও কয়েকটা অধিবেশন সময় লাগবে। তবে বিরোধীদের মধ্যেও অনেক চৌকস ও শিক্ষিত সদস্য আছেন। তাদের গঠনমূলক অংশগ্রহণ এবং জুলাই সনদের আলোকে কমিশন ও সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে আমরা রাষ্ট্রীয় সংস্কারের কাজ এগিয়ে নেব বলেও জানান তিনি।

চিফ হুইপ বর্তমান সরকারের কর্মতৎপরতা তুলে ধরে বলেন, মাত্র দুই মাস ১২ দিন বয়সে সরকার প্রতিটি সেক্টরে পরিবর্তনের ছোঁয়া দিয়েছে। ১০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মাত্র ৫ দিনে ১৩৩টি অর্ডিন্যান্সের ওপর কাজ করা, একটি অসম্ভব কাজ ছিল। যা এই সরকার করে দেখিয়েছে। সরকার প্রধান সকাল ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত একটানা কাজ করে রাষ্ট্রকে একটি কাঠামোর ওপর দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন। তাকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া উচিৎ। তাকে সহযোগিতা করে দেখি তিনি কি কাজ করেন।

মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের জীবনমান উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের কল্যাণে এবং জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধিতে দ্রুত দশম ওয়েজ বোর্ড গঠন করা প্রয়োজন। বর্তমানে নবম ওয়েজ বোর্ড চলমান থাকলেও মালিক পক্ষের মামলার কারণে এটি এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হতে পারছে না। সাংবাদিকরা ভালো থাকলে দেশ ও গণতন্ত্র ভালো থাকবে।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে ইতোপূর্বেই শিল্প হিসেবে ঘোষণা করে সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে এটি এখনও পূর্ণাঙ্গ শিল্পের মর্যাদা পায়নি। শিল্পের যথাযথ মর্যাদা না পাওয়ার কারণে অনেক গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা নিয়মিত বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকারি কর্মকর্তারা যেভাবে নিয়মিত বেতন ও সুযোগ-সুবিধা পান, সাংবাদিকদের জন্যও সেই মানের বেতন কাঠামো এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা উচিত। কোনও সাংবাদিক শেষ জীবনে অর্থকষ্টে বা বিনাচিকিৎসায় মানবেতর জীবন যাপন করে মৃত্যুবরণ করুক এটা আমরা চাই না।

রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে একটি সুষ্ঠু ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা মাইলফলক হয়ে থাকবে। গণতন্ত্রের এই ধারা অব্যাহত রাখতে সাংবাদিকদের জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। 

মতবিনিময় সভায় হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু বলেন, সাংবাদিকতা না থাকলে আমার কাছে মনে হয় না পৃথিবীর কোন অস্তিত্ব থাকতো। কারণ কি? মানুষগুলা তখন প্রতি মুহূর্তে স্বৈরাচার হয়ে উঠত। সাংবাদিকেরা হচ্ছেন প্রত্যেক জাতির একটা ব্যালেন্স। কারণ সাংবাদিকেরা আছেন বিধায় আমি সবসময় চিন্তা করি যে, আমি যে কাজটা করছি নিশ্চয়ই এটা সাংবাদিক জেনে নেবেন। আর সাংবাদিক যখন জেনে যাবে, তখন এটা সারা দুনিয়া জানবে। এই ভয়, এই কারণে ভয়ে বলছি যে আমার অপরাধ, আমার অন্যায়টা, আমার পাপটা, আমার অন্যায় করা থেকে এই সাংবাদিক বন্ধুদের কারণে আমি বিরত থাকি। এই কথাটা অনেকে স্বীকার করি, অনেকে স্বীকার করি না। কিন্তু এটাই হচ্ছে ধ্রুব সত্য।

হুইপ জি কে গউছ ও আখতারুজ্জামান মিয়াও মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow