গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে দেশব্যাপী খেলাফত মজলিসের বিক্ষোভ

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, দ্রুত গণরায় কার্যকর না হলে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বাদজুমা সারাদেশের মতো জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের যৌথ উদ্যোগে এক বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা সানাউল্লাহ আমিনীর সভাপতিত্বে এবং মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুরশিদ সিদ্দিকীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মিছিল-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমাদ। তিনি বলেন, গণভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত গণরায় দ্রুত কার্যকর না হলে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। সরকারকে সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, গণরায় উপেক্ষা করে কোনো সরকারই টিকে থাকতে পারেনি। তাই গণভোটের রায় অমান্যকে কেন্দ্র করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে এর সম্পূর্ণ দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে। মাওলানা জালালুদ্দিন আহমাদ বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সংবিধানের মৌলিক সংস্কারের পক্ষে সুস্পষ্ট

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে দেশব্যাপী খেলাফত মজলিসের বিক্ষোভ

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, দ্রুত গণরায় কার্যকর না হলে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বাদজুমা সারাদেশের মতো জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের যৌথ উদ্যোগে এক বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা সানাউল্লাহ আমিনীর সভাপতিত্বে এবং মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুরশিদ সিদ্দিকীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মিছিল-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমাদ।

তিনি বলেন, গণভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত গণরায় দ্রুত কার্যকর না হলে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। সরকারকে সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, গণরায় উপেক্ষা করে কোনো সরকারই টিকে থাকতে পারেনি। তাই গণভোটের রায় অমান্যকে কেন্দ্র করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে এর সম্পূর্ণ দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে।

মাওলানা জালালুদ্দিন আহমাদ বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সংবিধানের মৌলিক সংস্কারের পক্ষে সুস্পষ্ট রায় দিয়েছে। কিন্তু সরকার সেই রায় উপেক্ষা করে সীমিত সংশোধনের পথে অগ্রসর হচ্ছে, যা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার ছাড়া রাষ্ট্রব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়িত হলে সংবিধানে মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ বিশ্বাস ও আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গণভোট বাধ্যতামূলক করা, নির্বাচন ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা এবং গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

অন্যদিকে এই রায় উপেক্ষা করা হলে সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে দলীয় নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং জনগণের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করার পথ সুগম হবে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের নায়েবে আমির মাওলানা মাহবুবুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা এনামুল হক মুসা, মাওলানা আবুল হাসান জালালী এবং বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সুরা সদস্য গাজী রহমতুল্লাহ, ঢাকা মহানগর উত্তরের সহসভাপতি মাওলানা আবুল কাশেম মিয়াজী, মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবু হানিফ নোমান, মহানগর উত্তরের সম্পাদক এইচ এম খোকন, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল আজিজ এবং বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি পরিষদের সদস্য মাওলানা জাকির হোসাইন।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররম এলাকা থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

উল্লেখ্য, একই দাবিতে শুক্রবার বাদ জুমা ও বাদ আসর চট্টগ্রাম মহানগর, নারায়ণগঞ্জ মহানগর, সিলেট মহানগর, ময়মনসিংহ মহানগর ও জেলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, শরিয়তপুর, কক্সবাজার, ফেনী জেলা এবং গোলাপগঞ্জ উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি পালিত হয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow