গণভোটের রায় বাস্তবায়নে তিন মাসের কর্মসূচি ঘোষণা খেলাফত মজলিসের

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও চলমান বিভিন্ন সংকট নিরসনের দাবিতে ঢাকায় গণমিছিলসহ তিন মাসব্যাপী কর্মসূচি দিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মে, জুন ও জুলাই মাসে জেলায় জেলায় নাগরিক সমাবেশ এবং ৫ আগস্ট ঢাকায় গণমিছিল। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক সমাবেশে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বক্তব্য দেন। সমাবেশে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের অঙ্গীকার ছিল একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যা ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের চেতনার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, যারা ইসলাম, দেশ ও ঐতিহ্যকে ধারণ করেন, তারা এই আন্দোলনের বিপক্ষে থাকতে পারেন না। তিনি বিএনপির উদ্দেশে বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে বিএনপি টিকে থাকতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে বিএনপি বিশ্বে একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ হয়ে উঠবে। বর্তমান সরকারের কূটনৈতিক নীতির সমালোচনা করে মামুনুল হক অভিযোগ করে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ব্যবস্থাপ

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে তিন মাসের কর্মসূচি ঘোষণা খেলাফত মজলিসের
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও চলমান বিভিন্ন সংকট নিরসনের দাবিতে ঢাকায় গণমিছিলসহ তিন মাসব্যাপী কর্মসূচি দিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মে, জুন ও জুলাই মাসে জেলায় জেলায় নাগরিক সমাবেশ এবং ৫ আগস্ট ঢাকায় গণমিছিল। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক সমাবেশে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বক্তব্য দেন। সমাবেশে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের অঙ্গীকার ছিল একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যা ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের চেতনার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, যারা ইসলাম, দেশ ও ঐতিহ্যকে ধারণ করেন, তারা এই আন্দোলনের বিপক্ষে থাকতে পারেন না। তিনি বিএনপির উদ্দেশে বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে বিএনপি টিকে থাকতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে বিএনপি বিশ্বে একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ হয়ে উঠবে। বর্তমান সরকারের কূটনৈতিক নীতির সমালোচনা করে মামুনুল হক অভিযোগ করে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার কারণে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতা ও নৈরাজ্য বাড়ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদকে এই মঞ্চ কখনোই মেনে নেবে না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান সরকার অতীতের অঙ্গীকার থেকে সরে এসেছে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে। তিনি দেশের অর্থনৈতিক সংকট, জ্বালানি সমস্যা ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কথাও তুলে ধরেন। এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনে নিরপেক্ষতা নিশ্চিতের দাবি জানান তিনি। সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন মাওলানা জালালুদ্দিন আহমাদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতারা। তারা দেশের বিদ্যমান সংকট ও সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করেন। বিরোধী দলের নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানসহ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন, বিরোধী দলের চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। বক্তাদের মধ্যে আরও ছিলেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ, নায়েবে আমির ইউসুফ আশরাফ, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আতহারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আলী ওসমান, মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ (হানজালা), ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম, ইনকিলাব মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল জাবের প্রমুখ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow