গরমেও চাদর ছাড়া ঘুম হয় না কেন?
দিনভর কাজের চাপ, ক্লান্তি আর ব্যস্ততার শেষে সবাই চায় একটু শান্তির ঘুম। তবে অনেকেই আছেন, যারা নিজের বিছানা বা প্রিয় বালিশ ছাড়া ঠিকমতো ঘুমাতেই পারেন না। আবার এমন মানুষও কম নেই, যারা শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষার যেকোনো ঋতুতেই চাদর গায়ে না দিলে ঘুমানোর কথা ভাবতেই পারেন না। গরমের রাতেও হালকা একটা চাদর টেনে না নিলে যেন অস্বস্তি লাগে। পরিচিতদের মধ্যে এ নিয়ে হাসি-ঠাট্টাও কম হয় না। কিন্তু মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই অভ্যাসের পেছনে রয়েছে গভীর মানসিক ও আবেগগত ব্যাখ্যা। অনেকের কাছে চাদর শুধু কাপড় নয়, বরং মানসিক নিরাপত্তার প্রতীক। চাদর ‘নিরাপত্তার অনুভূতি’ দেয় বিশেষজ্ঞদের মতে, চাদর অনেক মানুষের কাছে এক ধরনের ‘সেফ জোন’ বা নিরাপদ আশ্রয়ের মতো কাজ করে। বিশেষ করে যাদের শৈশব কেটেছে ভয়, অনিশ্চয়তা বা মানসিক চাপে, তাদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, ছোটবেলায় পারিবারিক অশান্তি, বাবা-মায়ের ঝগড়া বা নিরাপত্তাহীন পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশুদের মধ্যে বড় হওয়ার পরও মানসিক অস্থিরতা থেকে যেতে পারে। তারা অবচেতনভাবে এমন কিছু খোঁজেন, যা তাদের নিরাপদ অনুভব করায়। এই কারণেই অনেকের কাছে চাদর হয়ে ওঠে এক ধরনের মানসিক ঢাল। ম
দিনভর কাজের চাপ, ক্লান্তি আর ব্যস্ততার শেষে সবাই চায় একটু শান্তির ঘুম। তবে অনেকেই আছেন, যারা নিজের বিছানা বা প্রিয় বালিশ ছাড়া ঠিকমতো ঘুমাতেই পারেন না। আবার এমন মানুষও কম নেই, যারা শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষার যেকোনো ঋতুতেই চাদর গায়ে না দিলে ঘুমানোর কথা ভাবতেই পারেন না। গরমের রাতেও হালকা একটা চাদর টেনে না নিলে যেন অস্বস্তি লাগে। পরিচিতদের মধ্যে এ নিয়ে হাসি-ঠাট্টাও কম হয় না।
কিন্তু মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই অভ্যাসের পেছনে রয়েছে গভীর মানসিক ও আবেগগত ব্যাখ্যা। অনেকের কাছে চাদর শুধু কাপড় নয়, বরং মানসিক নিরাপত্তার প্রতীক।
চাদর ‘নিরাপত্তার অনুভূতি’ দেয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, চাদর অনেক মানুষের কাছে এক ধরনের ‘সেফ জোন’ বা নিরাপদ আশ্রয়ের মতো কাজ করে। বিশেষ করে যাদের শৈশব কেটেছে ভয়, অনিশ্চয়তা বা মানসিক চাপে, তাদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, ছোটবেলায় পারিবারিক অশান্তি, বাবা-মায়ের ঝগড়া বা নিরাপত্তাহীন পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশুদের মধ্যে বড় হওয়ার পরও মানসিক অস্থিরতা থেকে যেতে পারে। তারা অবচেতনভাবে এমন কিছু খোঁজেন, যা তাদের নিরাপদ অনুভব করায়। এই কারণেই অনেকের কাছে চাদর হয়ে ওঠে এক ধরনের মানসিক ঢাল। মনে হয়, চাদর গায়ে দিলেই বাইরের ভয় বা অস্বস্তি থেকে নিজেকে রক্ষা করা যাবে।
ট্রমা ও ঘুমের সম্পর্ক
যারা ছোটবেলায় মানসিক ট্রমার মধ্যে দিয়ে বড় হয়েছেন, তাদের মধ্যে ঘুমজনিত উদ্বেগ বেশি দেখা যায়। রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যাওয়া, দুঃস্বপ্ন দেখা বা ভয় পাওয়া, এসব সমস্যাও সাধারণ। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, চাদর গায়ে দিলে শরীর ও মস্তিষ্কে এক ধরনের কমফোর্ট সিগন্যাল তৈরি হয়। এটি মস্তিষ্ককে বুঝতে সাহায্য করে যে ব্যক্তি এখন নিরাপদ জায়গায় আছেন। ফলে ধীরে ধীরে শরীর শান্ত হয় এবং ঘুম সহজে আসে।
চাদর যেভাবে মস্তিষ্ককে শান্ত করে
চাদরের হালকা চাপ অনেক সময় শরীরে ‘ডিপ প্রেসার স্টিমুলেশন’ তৈরি করে। এটি স্নায়ুকে শান্ত করতে সাহায্য করে এবং মানসিক চাপ কমায়।
এ কারণে কেউ চাদর গায়ে দিলেই মস্তিষ্কে ঘুমের প্রস্তুতি শুরু হয়। অনেকের কাছে এটি ঠিক ঘুমের রুটিনের অংশের মতো। যেমন কেউ ঘুমানোর আগে বই পড়েন, কেউ গান শোনেন, তেমনি কেউ চাদর গায়ে দিলেই ঘুমের অনুভূতি পান।
অনেকের কাছে এটি শুধুই অভ্যাস
সব সময় যে এর পেছনে গভীর মানসিক কারণ থাকবে, এমনও নয়। অনেকের ক্ষেত্রে এটি শুধুই দীর্ঘদিনের অভ্যাস। ছোটবেলা থেকে যেভাবে ঘুমানোর অভ্যাস তৈরি হয়, বড় হয়েও অনেকেই সেটিই অনুসরণ করেন। তাই গরমের মধ্যেও অনেকের হালকা চাদর ছাড়া ঘুম আসে না। এতে তারা মানসিক স্বস্তি অনুভব করেন।
মুড়ি দিয়ে ঘুমানো কেন ক্ষতিকর?
অনেকেই শুধু চাদর গায়ে দেন না, পুরো মুখ ঢেকে মুড়ি দিয়ে ঘুমান। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভ্যাস স্বাস্থ্যকর নয়। মুখ পুরোপুরি ঢেকে ঘুমালে বিশুদ্ধ বাতাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়। ফলে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যেতে পারে এবং ফুসফুসের ওপর চাপ পড়ে। দীর্ঘদিন এমন অভ্যাস থাকলে ঘুমের মানও খারাপ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন
বিশেষজ্ঞদের মতে, চাদর গায়ে দিয়ে ঘুমানো সাধারণত কোনো সমস্যা নয়। বরং এটি অনেকের জন্য মানসিক স্বস্তির অংশ। তবে যদি কেউ অতিরিক্ত ভয়, উদ্বেগ বা নিরাপত্তাহীনতার কারণে এমন করেন, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। এছাড়া মুড়ি দিয়ে ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে তা ধীরে ধীরে পরিবর্তন করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
চাদর গায়ে দিয়ে ঘুমানোর অভ্যাস শুধু আরামের বিষয় নয়, অনেক সময় এটি মানুষের অবচেতন মন, নিরাপত্তাবোধ এবং শৈশবের অভিজ্ঞতার সঙ্গেও জড়িয়ে থাকে। কেউ এটিকে মানসিক স্বস্তি হিসেবে দেখেন, কেউ আবার অভ্যাসবশত করেন।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক
- আরও পড়ুন:
নারীদের আয়রনের ঘাটতি হলে যেসব সমস্যা হতে পারে
যেসব সমস্যা দেখতে মাইগ্রেনের মতো হলেও মাইগ্রেন না
এসএকেওয়াই/
What's Your Reaction?