গরমে মন-মেজাজ খারাপ? হতে পারে মৌসুমি ডিসঅর্ডার

শীত এলেই মন খারাপ হয় - এমন ধারণা অনেকেরই আছে। কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হলো, গরমেও কিছু মানুষের মুড খারাপ হতে পারে, অকারণে বিরক্তি বাড়তে পারে, ঘুম ও খাওয়ার অভ্যাসে পরিবর্তন আসে। অনেক সময় এটিকে আমরা গরমের অস্বস্তি ভেবে এড়িয়ে যাই। অথচ এর পেছনে থাকতে পারে একটি মানসিক অবস্থা - সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিসঅর্ডার - এর একটি ধরন। একে বলা হয় সামার-অনসেট বা গ্রীষ্মকালীন রূপ। কী এই সামার-অনসেট সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিসঅর্ডার? সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিসঅর্ডার (স্যাড) সাধারণত ঋতুভিত্তিক মুড ডিসঅর্ডার। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি শীতকালে দেখা যায়। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ঠিক উল্টো - গরমের সময় লক্ষণ শুরু হয়, যাকে বলা হয় সামার-অনসেট স্যাড। এই অবস্থায় তাপমাত্রা, দিনের দৈর্ঘ্য, ঘুমের ধরণ এবং শরীরের জৈবিক ঘড়ির পরিবর্তনের সঙ্গে মুডের ওঠানামা জড়িয়ে যায়। কী কী লক্ষণ দেখা যায়? গরমকালে এই সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের মধ্যে যেসব লক্ষণ দেখা যেতে পারে - >> অকারণে বিরক্তি বা অস্থিরতা>> ঘুম কমে যাওয়া বা অনিদ্রা>> ক্ষুধা কমে যাওয়া>> উদ্বেগ বা অস্থির চিন্তা>> মনোযোগে সমস্যা>> সামাজিক যোগাযোগ এড়িয়ে চলা অনেকেই এটিকে শুধু ‘গরমে মেজাজ খারাপ’

গরমে মন-মেজাজ খারাপ? হতে পারে মৌসুমি ডিসঅর্ডার

শীত এলেই মন খারাপ হয় - এমন ধারণা অনেকেরই আছে। কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হলো, গরমেও কিছু মানুষের মুড খারাপ হতে পারে, অকারণে বিরক্তি বাড়তে পারে, ঘুম ও খাওয়ার অভ্যাসে পরিবর্তন আসে।

অনেক সময় এটিকে আমরা গরমের অস্বস্তি ভেবে এড়িয়ে যাই। অথচ এর পেছনে থাকতে পারে একটি মানসিক অবস্থা - সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিসঅর্ডার - এর একটি ধরন। একে বলা হয় সামার-অনসেট বা গ্রীষ্মকালীন রূপ।

কী এই সামার-অনসেট সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিসঅর্ডার?

সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিসঅর্ডার (স্যাড) সাধারণত ঋতুভিত্তিক মুড ডিসঅর্ডার। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি শীতকালে দেখা যায়। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ঠিক উল্টো - গরমের সময় লক্ষণ শুরু হয়, যাকে বলা হয় সামার-অনসেট স্যাড।

এই অবস্থায় তাপমাত্রা, দিনের দৈর্ঘ্য, ঘুমের ধরণ এবং শরীরের জৈবিক ঘড়ির পরিবর্তনের সঙ্গে মুডের ওঠানামা জড়িয়ে যায়।

কী কী লক্ষণ দেখা যায়?

গরমকালে এই সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের মধ্যে যেসব লক্ষণ দেখা যেতে পারে -

>> অকারণে বিরক্তি বা অস্থিরতা
>> ঘুম কমে যাওয়া বা অনিদ্রা
>> ক্ষুধা কমে যাওয়া
>> উদ্বেগ বা অস্থির চিন্তা
>> মনোযোগে সমস্যা
>> সামাজিক যোগাযোগ এড়িয়ে চলা

অনেকেই এটিকে শুধু ‘গরমে মেজাজ খারাপ’ বলে মনে করেন, কিন্তু লক্ষণগুলো যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

কেন গরমে এমন হয়?

১. অতিরিক্ত তাপমাত্রা
গরমে শরীর স্বাভাবিক তাপমাত্রা ধরে রাখতে বেশি কাজ করে, ফলে ক্লান্তি ও বিরক্তি বাড়তে পারে।

২. ঘুমের ব্যাঘাত
গরমের রাতে ঘুমের মান খারাপ হয়, যা সরাসরি মুডে প্রভাব ফেলে।

৩. শরীরের জৈবিক ঘড়ির পরিবর্তন
দিন বড় হওয়া ও আলোর সময় বাড়ার কারণে শরীরের সার্কেডিয়ান রিদম পরিবর্তিত হতে পারে।

৪. ডিহাইড্রেশন ও শারীরিক অস্বস্তি
পানিশূন্যতা ও অতিরিক্ত ঘাম শরীরকে দুর্বল করে, যা মানসিক অবস্থাকেও প্রভাবিত করে।

এটি কি সাধারণ মুড সুইং থেকে আলাদা?

হ্যাঁ। সাধারণ মুড পরিবর্তন অল্প সময়ের জন্য হয় এবং খুব বেশি প্রভাব ফেলে না। কিন্তু সামার-অনসেট স্যাড হলে লক্ষণগুলো কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে থাকে, দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হয় ও আবেগ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে।

কীভাবে নিজেকে সামলাবেন?

>> ঠান্ডা ও আরামদায়ক পরিবেশে থাকার চেষ্টা
>> গরমের প্রভাব কমাতে ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
>> ঘুমের রুটিন ঠিক রাখুন
>> প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন।
>> পর্যাপ্ত পানি পান করুন
>> শরীর হাইড্রেটেড থাকলে ক্লান্তি ও অস্থিরতা কমে।
>> হালকা ব্যায়াম করুন
>> সকালে বা সন্ধ্যায় হালকা হাঁটা বা ব্যায়াম মুড ভালো রাখতে সাহায্য করে।
>> প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন

তবে লক্ষণগুলো তীব্র হলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
গরমে মন খারাপ হওয়া সবসময়ই মুডি হওয়ার বিষয় নয়। কখনো কখনো এটি শরীর ও মনের একটি নির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্বীকৃত। তাই লক্ষণগুলো বুঝে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়াই সুস্থ থাকার সঠিক পথ।

সূত্র: আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, মায়ো ক্লিনিক, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ, হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং

এএমপি/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow