গরিবের চাল চুরি, ৫০ কেজির বস্তায় মিলল ৪০ কেজি চাল

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভিজিএফের চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হতেই অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী চাল সরবরাহ করা হলেও অধিকাংশ বস্তায় নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম চাল পাওয়া গেছে। ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) কর্মসূচি সরকারের একটি বিশেষ সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম। ঈদ, দুর্গাপূজা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করতে এই কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণ করা হয়।  স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত সুবিধাভোগীদের মাঝে এসব চাল বিতরণ করা হয়ে থাকে। জানা গেছে, দৌলতপুর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে প্রায় ২০ হাজারের বেশি কার্ডধারী পরিবার ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে।  দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রতিটি অসহায় পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল বিতরণের কথা রয়েছে।  সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বরাদ্দকৃত চালের সঠিক ওজন নিশ্চিত করে তা স্বচ্ছতার সঙ্গে বিতরণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় রিফায়েতপুর ইউনিয়নে ১ হাজার ৮০৫টি কার্ডের বিপরীতে মোট ১৮ হাজার ৫০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা ৫০ কেজির

গরিবের চাল চুরি, ৫০ কেজির বস্তায় মিলল ৪০ কেজি চাল

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভিজিএফের চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হতেই অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী চাল সরবরাহ করা হলেও অধিকাংশ বস্তায় নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম চাল পাওয়া গেছে।

ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) কর্মসূচি সরকারের একটি বিশেষ সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম। ঈদ, দুর্গাপূজা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করতে এই কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণ করা হয়। 

স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত সুবিধাভোগীদের মাঝে এসব চাল বিতরণ করা হয়ে থাকে।

জানা গেছে, দৌলতপুর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে প্রায় ২০ হাজারের বেশি কার্ডধারী পরিবার ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রতিটি অসহায় পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল বিতরণের কথা রয়েছে। 

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বরাদ্দকৃত চালের সঠিক ওজন নিশ্চিত করে তা স্বচ্ছতার সঙ্গে বিতরণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় রিফায়েতপুর ইউনিয়নে ১ হাজার ৮০৫টি কার্ডের বিপরীতে মোট ১৮ হাজার ৫০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা ৫০ কেজির ৩৫৫টি বস্তার সমপরিমাণ। তবে ইউনিয়ন পরিষদে চাল পৌঁছানোর পর দেখা যায়, অধিকাংশ বস্তায় ৫০ কেজির পরিবর্তে ৪০ থেকে সর্বোচ্চ ৪৮ কেজি পর্যন্ত চাল রয়েছে। এতে শুধুমাত্র রিফায়েতপুর ইউনিয়নেই প্রায় ১ হাজার ১০০ কেজি চাল কম পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, ভিজিএফের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সহায়তার চাল বিতরণে এমন অনিয়ম অসহায় মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন করছে। তারা বলছেন, চাল কম দেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

চাল পরিবহন ও খালাস কাজে নিয়োজিত শ্রমিক বাদল ও মামুন জানান, তারা ৩৫৫ বস্তা চাল ইউনিয়ন পরিষদে নামিয়েছেন। বস্তার গায়ে ৫০ কেজি নিট ওজন লেখা থাকলেও বাস্তবে কোনো বস্তাতেই সেই পরিমাণ চাল পাওয়া যায়নি।

রিফায়েতপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বকুল বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত চালের অধিকাংশ বস্তাতেই ওজন কম পাওয়া গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দৌলতপুর উপজেলা খাদ্য গুদামের ইনচার্জ সেলিম রেজা ক্যামেরার সামনে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। একইসঙ্গে তিনি সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন এবং পরে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করার কথা বলেন।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, বিষয়টি এখনও আমার নজরে আসেনি। কোনো ইউনিয়ন পরিষদ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow