গরুর মাংস খেয়ে অসুস্থ এক গ্রামের ১২ জন

নাটোরের গুরুদাসপুরে অসুস্থ গরুর মাংস জবাই করে খাওয়ার পর এক গ্রামের অন্তত ১০ থেকে ১২ জন মেডিকেলে ভর্তি হয়েছেন। গুরুতর অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিনজন। উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের চলনালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, চলনালী গ্রামের মৃত মাঙ্গনের ছেলে আব্দুল গফুর সরকারের একটি গরু প্রায় এক সপ্তাহ আগে হঠাৎ পেটফাঁপা হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। গ্রামের কয়েকজন মিলে গরুটি জবাই করে মাংস ভাগাভাগি করে নেন। কিন্তু মাংস কাটা, রান্না করা এবং খাওয়ার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোড়ার মতো ফোলা দেখা দিয়েছে। শারীরিকভাবেও তারা দুর্বল হয়ে পড়েছেন। অসুস্থদের মধ্যে একই গ্রামের রহিম, মোস্তফা, আসাদ, ছানা, রাহুল ও লাভলীসহ কয়েকজনের নাম জানা গেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমাস বলেন, চলনালী গ্রামের ছয়জন রোগী চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রোগের ধরন নিশ্চিত হওয়া যাবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তরকা রোগে আক্রান্ত গরুর মাংস

গরুর মাংস খেয়ে অসুস্থ এক গ্রামের ১২ জন

নাটোরের গুরুদাসপুরে অসুস্থ গরুর মাংস জবাই করে খাওয়ার পর এক গ্রামের অন্তত ১০ থেকে ১২ জন মেডিকেলে ভর্তি হয়েছেন। গুরুতর অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিনজন। উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের চলনালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, চলনালী গ্রামের মৃত মাঙ্গনের ছেলে আব্দুল গফুর সরকারের একটি গরু প্রায় এক সপ্তাহ আগে হঠাৎ পেটফাঁপা হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। গ্রামের কয়েকজন মিলে গরুটি জবাই করে মাংস ভাগাভাগি করে নেন।

কিন্তু মাংস কাটা, রান্না করা এবং খাওয়ার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোড়ার মতো ফোলা দেখা দিয়েছে। শারীরিকভাবেও তারা দুর্বল হয়ে পড়েছেন। অসুস্থদের মধ্যে একই গ্রামের রহিম, মোস্তফা, আসাদ, ছানা, রাহুল ও লাভলীসহ কয়েকজনের নাম জানা গেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমাস বলেন, চলনালী গ্রামের ছয়জন রোগী চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রোগের ধরন নিশ্চিত হওয়া যাবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তরকা রোগে আক্রান্ত গরুর মাংস খাওয়া বা নাড়াচাড়া করার কারণে তারা অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন।

এদিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রোকনুজ্জামান বলেন, অসুস্থ গরু জবাই করার বিষয়টি আগে প্রাণিসম্পদ দপ্তরকে জানানো হয়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গরুটি তরকা রোগে আক্রান্ত ছিল।

তিনি জানান, গত বছর উপজেলায় প্রায় ২৫ হাজার গরুকে তরকা রোগের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল। ঘটনাটি জানার পর চলনালী গ্রামের গবাদি পশুগুলোকে দ্রুত টিকার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় দুই হাজার গরুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব গবাদি পশুকেই ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আরও জানান, জবাই করা গরুর কিছু মাংস সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল। প্রাণিসম্পদ বিভাগের উপস্থিতিতে সেগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো গবাদিপশু অসুস্থ হলে গোপনে জবাই না করে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow