গর্ভাবস্থায় এই ৯ খাবার খাবেন না
গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের খাদ্যাভ্যাস সরাসরি গর্ভস্থ শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে শিশুর জন্মগত ত্রুটি, ওজন কম হওয়া, মিসক্যারেজ বা এমনকি মৃত সন্তান প্রসবের মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সহায় হেলথ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. তাসনিম জারার পরামর্শ অনুযায়ী, গর্ভাবস্থায় নিরাপদ থাকতে যে ৯টি খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি, তা নিয়ে আজকের বিশেষ প্রতিবেদন। ১. বাইরের খোলা পানীয় ও স্ট্রিট ফুড রাস্তার ধারের চটপটি, ফুচকা, খোলা শরবত বা লাচ্ছি এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ এসব তৈরিতে ব্যবহৃত পানি বিশুদ্ধ না হলে টাইফয়েড, কলেরা বা হেপাটাইটিস ই-এর মতো রোগ হতে পারে। ডায়রিয়া বা বমি থেকে হওয়া পানিশূন্যতা মা ও শিশু উভয়ের জন্যই প্রাণঘাতী হতে পারে। তবে এগুলো বাড়িতে বিশুদ্ধ পানি দিয়ে বানিয়ে খাওয়া নিরাপদ। ২. অতিরিক্ত ভিটামিন এ-যুক্ত খাবার (যেমন কলিজা) গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ভিটামিন এ শিশুর তালুকাটা, হার্ট, লাংস বা মেরুদণ্ডের জন্মগত ত্রুটির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে গরু, খাসি বা মুরগির কলিজায় প্রচুর ভিটামিন এ থাকে, তাই এটি এড়িয়ে চলাই ভালো। তবে সপ্তাহে ৫০-৭০ গ্রাম রান্না করা কলিজা খেলে সাধ
গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের খাদ্যাভ্যাস সরাসরি গর্ভস্থ শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে শিশুর জন্মগত ত্রুটি, ওজন কম হওয়া, মিসক্যারেজ বা এমনকি মৃত সন্তান প্রসবের মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সহায় হেলথ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. তাসনিম জারার পরামর্শ অনুযায়ী, গর্ভাবস্থায় নিরাপদ থাকতে যে ৯টি খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি, তা নিয়ে আজকের বিশেষ প্রতিবেদন।
১. বাইরের খোলা পানীয় ও স্ট্রিট ফুড
রাস্তার ধারের চটপটি, ফুচকা, খোলা শরবত বা লাচ্ছি এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ এসব তৈরিতে ব্যবহৃত পানি বিশুদ্ধ না হলে টাইফয়েড, কলেরা বা হেপাটাইটিস ই-এর মতো রোগ হতে পারে। ডায়রিয়া বা বমি থেকে হওয়া পানিশূন্যতা মা ও শিশু উভয়ের জন্যই প্রাণঘাতী হতে পারে। তবে এগুলো বাড়িতে বিশুদ্ধ পানি দিয়ে বানিয়ে খাওয়া নিরাপদ।
২. অতিরিক্ত ভিটামিন এ-যুক্ত খাবার (যেমন কলিজা)
গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ভিটামিন এ শিশুর তালুকাটা, হার্ট, লাংস বা মেরুদণ্ডের জন্মগত ত্রুটির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে গরু, খাসি বা মুরগির কলিজায় প্রচুর ভিটামিন এ থাকে, তাই এটি এড়িয়ে চলাই ভালো। তবে সপ্তাহে ৫০-৭০ গ্রাম রান্না করা কলিজা খেলে সাধারণত ক্ষতি হয় না। উল্লেখ্য, শাকসবজিতে থাকা ভিটামিন এ নিরাপদ।
৩. কাঁচা পেঁপে
পাকা পেঁপে বা আনারস গর্ভাবস্থায় ক্ষতিকর—এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, কাঁচা পেঁপে গর্ভাবস্থার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই সতর্কতাস্বরূপ গর্ভাবস্থায় কাঁচা পেঁপে বা কাঁচা পেঁপের তরকারি এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
৪. ক্যাফেইন (চা, কফি ও কোমল পানীয়)
চা, কফি, কোক বা এনার্জি ড্রিংকসে থাকা ক্যাফেইন শিশুর ওজন কম হওয়া বা মিসক্যারেজের ঝুঁকি বাড়ায়। এমনকি কিছু ওষুধ যেমন ‘নাপা এক্সট্রা’-তেও ক্যাফেইন থাকে, যা এড়িয়ে চলা উচিত। সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, গর্ভাবস্থায় ক্যাফেইন একেবারেই না খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
৫. আধাসিদ্ধ বা নরম কুসুমের ডিম
ডিমের কুসুম নরম থাকলে তাতে ক্ষতিকর জীবাণু থাকতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় ডিমের সাদা অংশ ও কুসুম দুই-ই খুব ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে। এছাড়া কাঁচা ডিম দিয়ে তৈরি মেয়োনিজ বা সালাদ ড্রেসিংও এড়িয়ে চলতে হবে।
৬. ট্রান্সফ্যাট বা বেকারি পণ্য
ডালডা বা বনস্পতি ঘি দিয়ে তৈরি বিস্কুট, চানাচুর, কেক বা দোকানের সিঙ্গারা-সমুচার মতো ডুবো তেলে ভাজা খাবারে প্রচুর ট্রান্সফ্যাট থাকে। এসব খাবার খেলে ভবিষ্যতে শিশুর হার্টের রোগ বা মেদভুঁড়ির ঝুঁকি বেড়ে যায়।
৭. অপাস্তুরিত দুধ ও নরম চিজ
কাঁচা বা অপাস্তুরিত দুধ এবং তা দিয়ে তৈরি নরম চিজ (যেমন: ব্রি, ক্যামেম্বার) খেলে শরীরে লিস্টারিয়ার মতো জীবাণু ঢুকতে পারে। এর ফলে অকাল প্রসব বা মৃত সন্তান প্রসবের ঝুঁকি থাকে। তবে দুধ ভালোভাবে ফুটিয়ে বা পাস্তুরিত করে খেলে সমস্যা নেই।
৮. প্রসেসড মাংস (সসেজ ও সালামি)
সসেজ, হট ডগ, পেপারনি বা সালামি রান্নার বদলে ‘কিউরিং’ পদ্ধতিতে তৈরি হয়, ফলে এতে রোগজীবাণু থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া যেকোনো আধাসিদ্ধ মাংস বা রক্তমাখা মাংস গর্ভাবস্থায় অত্যন্ত বিপজ্জনক। যদি এসব খাবার খেতেই হয়, তবে তা একেবারে ধোঁয়া ওঠা গরম করে রান্না করে নিতে হবে।
৯. কাঁচা মাছ ও সুশি
কাঁচা মাছের সুশি, সাশিমি বা স্মোকড ফিশে লিস্টেরিয়া নামক জীবাণু থাকতে পারে যা মিসক্যারেজ ঘটাতে পারে। বাংলাদেশে যারা সুশি খেতে পছন্দ করেন, তারা গর্ভাবস্থায় মাছের বদলে ভেজিটেবল সুশি বেছে নিতে পারেন।
অন্যান্য সতর্কতা
খাবারের পাশাপাশি ধূমপান ও অ্যালকোহল সম্পূর্ণ বর্জন করতে হবে। এছাড়া ত্বকের যত্নে ব্যবহৃত কিছু ক্রিম বা সিরামেও ভিটামিন এ থাকতে পারে, যা শিশুর ক্ষতি করতে পারে। তাই যেকোনো ওষুধ বা প্রসাধনী ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
What's Your Reaction?