গল্পনির্ভর সিনেমায় কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি: রুসলান রেহমান

ঢাকা এক অস্থির মহানগরী। এই শহরের ইট-পাথরের দেয়ালে মিশে আছে হাজারো দীর্ঘশ্বাস, না বলা সামাজিক টানাপোড়েন আর গুমরে মরা ব্যক্তিগত সংগ্রাম। এবারের ঈদুল ফিতরে বড় পর্দায় সেই রুদ্ধশ্বাস যাতনার প্রতিচ্ছবি নিয়ে এসেছেন হালের ক্রেজ নির্মাতা রায়হান রাফী। তবে এবারের গল্পটি কোনো অ্যাকশন বা রোমাঞ্চের নয়, বরং চার নারীর অন্তরাত্মার আর্তনাদের। যার নাম ‘প্রেশার কুকার’। দর্শক হৃদয়ে ইতোমধ্যে জায়গা করে নেওয়া এই চলচ্চিত্রে শবনম বুবলী, নাজিফা তুষি, মারিয়া শান্ত এবং স্নিগ্ধা চৌধুরীর অনবদ্য অভিনয় যেমন প্রশংসা কুড়াচ্ছে, তেমনি আড়ালে থেকে এক অদৃশ্য জাদুকরী শক্তি দর্শকদের আচ্ছন্ন করে রাখছে। সেই শক্তির নাম আবহ সংগীত। প্রতিটি দৃশ্যকে জীবন্ত করে তোলা এবং চার নারীর সংগ্রামের ব্যাকুলতাকে সুরের মূর্ছনায় বেঁধেছেন সময়ের অন্যতম প্রতিভাবান মিউজিক কম্পোজার রুসলান রেহমান। সিনেমার সেই হাহাকার আর সুরের নেপথ্য গল্প নিয়ে সম্প্রতি কালবেলা মুখোমুখি হয়েছিল এই সৃজনশীল কারিগরের। প্রতিবেদক- তামজিদ হোসেন ঈদের সিনেমা প্রেশার কুকারের সঙ্গে কীভাবে সংযুক্ত হলেন? রায়হান রাফি আমার বিগত কাজগুলো দেখে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পরবর্তীতে স্বল

গল্পনির্ভর সিনেমায় কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি: রুসলান রেহমান
ঢাকা এক অস্থির মহানগরী। এই শহরের ইট-পাথরের দেয়ালে মিশে আছে হাজারো দীর্ঘশ্বাস, না বলা সামাজিক টানাপোড়েন আর গুমরে মরা ব্যক্তিগত সংগ্রাম। এবারের ঈদুল ফিতরে বড় পর্দায় সেই রুদ্ধশ্বাস যাতনার প্রতিচ্ছবি নিয়ে এসেছেন হালের ক্রেজ নির্মাতা রায়হান রাফী। তবে এবারের গল্পটি কোনো অ্যাকশন বা রোমাঞ্চের নয়, বরং চার নারীর অন্তরাত্মার আর্তনাদের। যার নাম ‘প্রেশার কুকার’। দর্শক হৃদয়ে ইতোমধ্যে জায়গা করে নেওয়া এই চলচ্চিত্রে শবনম বুবলী, নাজিফা তুষি, মারিয়া শান্ত এবং স্নিগ্ধা চৌধুরীর অনবদ্য অভিনয় যেমন প্রশংসা কুড়াচ্ছে, তেমনি আড়ালে থেকে এক অদৃশ্য জাদুকরী শক্তি দর্শকদের আচ্ছন্ন করে রাখছে। সেই শক্তির নাম আবহ সংগীত। প্রতিটি দৃশ্যকে জীবন্ত করে তোলা এবং চার নারীর সংগ্রামের ব্যাকুলতাকে সুরের মূর্ছনায় বেঁধেছেন সময়ের অন্যতম প্রতিভাবান মিউজিক কম্পোজার রুসলান রেহমান। সিনেমার সেই হাহাকার আর সুরের নেপথ্য গল্প নিয়ে সম্প্রতি কালবেলা মুখোমুখি হয়েছিল এই সৃজনশীল কারিগরের। প্রতিবেদক- তামজিদ হোসেন ঈদের সিনেমা প্রেশার কুকারের সঙ্গে কীভাবে সংযুক্ত হলেন? রায়হান রাফি আমার বিগত কাজগুলো দেখে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পরবর্তীতে স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি বৈঠক হয়। সেখানে সিনেমার ‘প্রথম কাট’ দেখে মনে হয় এটি খুব গল্পনির্ভর চলচ্চিত্র হতে যাচ্ছে। তখনই স্বল্প সময় হলেও কাজটি করার জন্য আগ্রহী হই।  এই বিজিএমে অনেক নতুনত্ব দেখলাম। যা আগে কখনো বাংলা চলচ্চিত্রে দেখা যায়নি। এই কাজটি কীভাবে করলেন? প্রেশার কুকার চলচ্চিত্রে চারটি আলদা গল্প আবর্তিত হচ্ছে। যেখানে ঢাকা শহরের চারটি আলাদা আলাদা গল্প দেখা যায়। সেখান থেকে বিচার করলে ক্যারেক্টার এবং ভিন্ন ভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে দেখা যাবে গল্পের জ্যাজ ঘরনা থেকে ঘুরে এসে ইউরোপিয়ান ক্লাসিক মিউজিক এবং শেষে হামদ-নাতে এসে গল্পটি শেষ হয়েছে। তো এ থেকে বলাই যায়, এ ধরনের বহুমাত্রিক কাজ আগে হয়েছে কি না আমার জানা নেই। তার মানে আপনার অনুপ্রেরণা কী সব আন্তর্জাতিক মিউজিক ডিরেক্টররা? আমাদের গল্পে আস্তে আস্তে আন্তর্জাতিক আবহ তৈরি হচ্ছে। ইন্টারনেটের যুগে গল্পের কোনো সীমা পরিসীমা নেই। এই সময়ে নিজেকে আন্তর্জাতিক না ভাবাই সময়োপযোগী না।  আপনি তো বললেন প্রেশার কুকার ৪টি আলাদা গল্পের সমন্বয়। সেক্ষেত্রে আপনি কী কী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছেন? মাল্টি ন্যারেটিভ বা কম্পলেক্স এডিটিং স্টোরির ক্ষেত্রে আপনি কখনই আবহ সংগীতের একটি একক ধারা ফলো করতে পারবেন না। চলচ্চিত্রটি দীর্ঘ এবং ক্যারেক্টারের জন্য অনেক সময় দেওয়া হয়েছে। যেহেতু সময় দেওয়া হয়েছে, একটি ক্যারেক্টার থেকে আরেকটিতে যেতে কঠিন হয়নি। কাজটি চ্যালেঞ্জিং হলেও আমার জন্য আরামদায়ক ছিল। চ্যালেঞ্জ আসলে আমি থ্রিলিং ফিল করি এবং এমন একটি কাজের জন্য আগ্রহী ছিলাম।  বিদেশি অনেকে আপনার সঙ্গে সেশন প্লেয়িং করেছেন এগুলো কীভাবে সম্ভব হলো?  এই ওপেন ওয়ার্ল্ডে মিউজিশিয়ানরা একসঙ্গে কানেক্টেড থাকে কাজের কারণেই এবং আমার পূর্ববর্তী অনেক কাজে আমি অনেকের সঙ্গে এমন কাজ করেছি। এটা নতুন নয়। আমরা বিভিন্ন মিউজিশিয়ান ফোরাম, পেজের মাধ্যমে কানেক্টেড থাকি যার কারণে আমাদের মধ্যে যোগাযোগ থাকে। আপনার বিগত কাজের কথা যখন বললেন, আপনি কাজের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সচেতন। তাকদির, কারাগার, গুটি, গুলমোহর, প্রিয় মালতি এসব কাজের ক্ষেত্রেও দেখেছি আপনি প্রজেক্ট সিলেকশনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সচেতন থাকেন। এর নেপথ্যের কারণ কী? আমি নিজেও দীর্ঘদিনব্যাপী ফিল্ম নিয়ে পড়াশনা করছি। ফিল্ম মেকিংয়ের অনেক কিছু আমার জানা এবং রিসেন্টলি একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র কো-প্রোডিউস করেছি। সেখান থেকে চলচ্চিত্রের কাজের ক্ষেত্রে আমি যত্নবান থাকি। এক্ষেত্রে গল্প, ক্যারেক্টার সবই খেয়াল রাখি। সুতরাং ডিরেক্টরের নামের থেকে গল্পের প্রতি প্রাধান্য বেশি থাকে। এজন্য গল্পনির্ভর কাজ ছাড়া করি না। এবারের ঈদে প্রেশার কুকার অন্য গল্প থেকে কীভাবে আলাদা? একটি ঈদে বিভিন্ন টাইপের চলচ্চিত্র আসে। প্রত্যেকে আলাদা আলাদা চলচ্চিত্র তৈরি করেন। বাংলাদেশে সব ধরনের চলচ্চিত্রের দর্শক তৈরি হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এত বড় প্রেক্ষাপটে মাল্টি লেয়ারড হাইপারলিংক চলচ্চিত্র এর আগে হয়েছে নাকি, আমার জানা মতে হয়নি। এজন্যই আসলে কাজ করা এবং এমন একটি কাজ সফলভাবে করতে পেরে ভালো লাগছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow