গাছের শরীর চিরে এ কেমন ভালোবাসার সাক্ষ্য প্রেমিক-প্রেমিকার!
প্রেমের সম্পর্ক ভাঙবে না এমন সরল বিশ্বাসে প্যারিসের সেতুগুলোতে ‘লাভ লকস’ বা ভালোবাসার তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। তবে প্যারিসের মতো তালা ঝুলিয়ে নয়, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে গাছে খোদাই করে হাজার হাজার নাম লিখে যাচ্ছেন উন্মাদ পর্যটকেরা। প্রিয় মানুষকে কাছে পাওয়ার আশায় বা স্মৃতি হিসেবে ধরে রাখার জন্য গাছের গায়ে নাম লিখে রাখেন অনেক পর্যটক। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো পর্যটক আসেন প্রকৃতি দেখতে। তবে এরমধ্যে অনেক পর্যটক উদ্যানের ভেতরের বড় গাছে ধারালো ছুরি বা লোহা দিয়ে ভালোবাসার স্বাক্ষর হিসেবে নিজেদের নাম খোদাই করে লিখে যান। সরেজমিনে উদ্যানের মূল ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করার সময় দেখা যায়, রাস্তার পাশে সারিবদ্ধভাবে বিশাল আকৃতির অনেক গাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছে শত শত প্রেমিক-প্রেমিকার নামের প্রথম অক্ষর লিখে মাঝে যোগচিহ্ন দেওয়া হয়েছে। প্রথমে দেখলে গণিতের সূত্র মনে হলেও বাস্তবে নামের প্রথম অক্ষর দিয়ে সাংকেতিক নাম বোঝানো হয়েছে। জানা যায়, ১২৫০ হেক্টর আয়তনের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ৪৬০ প্রজাতির দুর্লভ উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ১৬৭
প্রেমের সম্পর্ক ভাঙবে না এমন সরল বিশ্বাসে প্যারিসের সেতুগুলোতে ‘লাভ লকস’ বা ভালোবাসার তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। তবে প্যারিসের মতো তালা ঝুলিয়ে নয়, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে গাছে খোদাই করে হাজার হাজার নাম লিখে যাচ্ছেন উন্মাদ পর্যটকেরা। প্রিয় মানুষকে কাছে পাওয়ার আশায় বা স্মৃতি হিসেবে ধরে রাখার জন্য গাছের গায়ে নাম লিখে রাখেন অনেক পর্যটক।
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো পর্যটক আসেন প্রকৃতি দেখতে। তবে এরমধ্যে অনেক পর্যটক উদ্যানের ভেতরের বড় গাছে ধারালো ছুরি বা লোহা দিয়ে ভালোবাসার স্বাক্ষর হিসেবে নিজেদের নাম খোদাই করে লিখে যান।
সরেজমিনে উদ্যানের মূল ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করার সময় দেখা যায়, রাস্তার পাশে সারিবদ্ধভাবে বিশাল আকৃতির অনেক গাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছে শত শত প্রেমিক-প্রেমিকার নামের প্রথম অক্ষর লিখে মাঝে যোগচিহ্ন দেওয়া হয়েছে। প্রথমে দেখলে গণিতের সূত্র মনে হলেও বাস্তবে নামের প্রথম অক্ষর দিয়ে সাংকেতিক নাম বোঝানো হয়েছে।
জানা যায়, ১২৫০ হেক্টর আয়তনের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ৪৬০ প্রজাতির দুর্লভ উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪ প্রজাতির উভচর, ৬ প্রজাতির সরীসৃপ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি এবং ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে। ১৯৯৬ সালে লাউয়াছড়াকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ বলছে, দূরদূরান্ত থেকে আগত পর্যটকরা বনের সুন্দর পরিবেশ দেখে বেসামাল হয়ে পড়েন। তখন বনের ভেতর কী করতে হবে, আর কী করা যাবে না তা সবকিছু ভুলে যান। পর্যটকেরা চিপস, চকলেট, খাবারের পকেট, পানি, ক্যান, কোমল পানীয়র বোতলসহ ময়লা আবর্জনা ইচ্ছামতো ফেলে যাচ্ছেন। যা কখনও কাম্য নয়।
সামি নামে এক পর্যটক গাছে নাম লেখার সময় এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘সুনামগঞ্জ থেকে এসেছি। এখানে গাছের মধ্যে বহু প্রেমিক-প্রেমিকার নাম লেখা দেখে আমিও আমার আর ভালোবাসার মানুষের নামের প্রথম অক্ষর লিখে যাচ্ছি। স্মৃতি হিসেবে এখানে বহু বছর থাকবে। ’
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাজ্বী নাজমুল হক বলেন, ‘লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে পর্যটকের সংখ্যা আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। উদ্যানের ভেতর অনেকেই প্রবেশ করে কী করবেন তা বুঝতে পারেন না হয়ত। এজন্য অনেকেই গাছের মধ্যে নাম লিখে যান।’
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম বলেন, ‘কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের পর্যটক বনের ভেতর ঢুকে এমন কাজ করতে পারেন না। ইট পাথরের শহর ছেড়ে স্বল্প সময়ের জন্য পর্যটকরা প্রকৃতির মাঝে যখন আসেন তখন অনেকেই না বুঝে এই কাজ করেন। যা কখনোই কাম্য নয়। আমাদের জনবলের তীব্র সংকট রয়েছে। বনের ভেতর পর্যটক প্রবেশ করে কী করেন, তা এই স্বল্প জনবল দিয়ে নজরদারি করা সম্ভব নয়।’
এম ইসলাম/এফএ/জেআইএম
What's Your Reaction?