গাজীপুরে সাবেক স্বামীর বাড়িতে রাতভর নির্যাতনের শিকার রিপা
গাজীপুরে এক গৃহবধূর ওপর নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সাবেক স্বামীর বাড়িতে নিয়ে রাতভর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয় রিপা নামের এক নারীর ওপর। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। তবে ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো গ্রেপ্তার হয়নি অভিযুক্ত। অভিযোগ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টার দিকে রিপাকে কৌশলে তার সাবেক স্বামী শামসু নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর রাতভর চলে নির্যাতন। রাত ৭টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের একপর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি সংকটাপন্ন হলে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে আনার সময় তার অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক। বর্তমানে তিনি লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। হাসপাতালের করিডোরে দেখা যায়, স্বজনদের বুকভাঙা আর্তনাদ। কেউ চোখের পানি থামাতে পারছেন না, কেউ নির্বাক হয়ে বসে আছেন প্রিয়জনের জীবন-মৃত্যুর লড়াই দেখছেন। এক স্বজন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমাদের মেয়েটা এ
গাজীপুরে এক গৃহবধূর ওপর নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সাবেক স্বামীর বাড়িতে নিয়ে রাতভর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয় রিপা নামের এক নারীর ওপর। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। তবে ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো গ্রেপ্তার হয়নি অভিযুক্ত।
অভিযোগ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টার দিকে রিপাকে কৌশলে তার সাবেক স্বামী শামসু নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর রাতভর চলে নির্যাতন। রাত ৭টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের একপর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন।
পরিস্থিতি সংকটাপন্ন হলে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে আনার সময় তার অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক। বর্তমানে তিনি লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন।
হাসপাতালের করিডোরে দেখা যায়, স্বজনদের বুকভাঙা আর্তনাদ। কেউ চোখের পানি থামাতে পারছেন না, কেউ নির্বাক হয়ে বসে আছেন প্রিয়জনের জীবন-মৃত্যুর লড়াই দেখছেন।
এক স্বজন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমাদের মেয়েটা এখনো চোখ খুলে তাকায় না… শুধু মেশিনে বেঁচে আছে। আমরা বিচার চাই।’
ঘটনার পরপরই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও চার দিন পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছে পরিবার। তাদের দাবি, অভিযুক্ত এখনো প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং উল্টো তাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। এতে করে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
পরিবার আরও অভিযোগ করেছে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিন্নখাতে নিতে অভিযুক্ত শামসু উল্টো রিপার বোন ও তার আত্মীয়দের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে হাসপাতালের বেডে নিথর পড়ে থাকা রিপা এখন কিছু বলতে পারছেন না। কিন্তু তার নীরব দেহই যেন সমাজকে প্রশ্ন করছে- একজন নারী এভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়বে, আর বিচার পেতে অপেক্ষা করবে কতদিন? এই প্রশ্নের উত্তর এখন খুঁজছে তার পরিবার, আর তাকিয়ে আছে পুরো সমাজ।
অন্যদিকে অভিযুক্ত সাবেক স্বামী শামসু অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমাকে হেয় করার জন্যই এসব মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে, যার কোনো সত্যতা নেই।’
এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি আরিফ হোসেন বলেন, ‘মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
What's Your Reaction?