গাড়িসহ বিয়ের খরচের অর্ধকোটি টাকার দাবি, গৃহবধূর আত্মহত্যা

যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। যৌতুকের দাবিতে চাপ ও নির্যাতনের শিকার হয়ে দীপিকা নাগর নামের এক গৃহবধূ ছাদ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।  সোমবার (১৮ মে) ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের গাজিয়াবাদের গ্রেটার নয়ডায় যৌতুকের দাবিতে চাপ ও নির্যাতনের শিকার হয়ে দীপিকা নাগর নামে এক গৃহবধূ নিজের বাড়ির ছাদ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তার পরিবার। ভুক্তভোগীর পরিবারের বরাতে জানা গেছে, জলপুরা বাসিন্দা ঋত্বিকের সঙ্গে দীপিকার বিয়ে হয়েছিল। বিয়ে হয়েছে দেড় মাস আগে। তারা বিয়েতে প্রায় ১ কোটি টাকা খরচ করেছিলেন। তবে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন দীপিকাকে যৌতুকের দাবিতে ক্রমাগত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করছিলেন। ইন্ডিয়া টুডেকে দীপিকার বাবা সঞ্জয় নগর বলেন, বিয়ের তিন/চার মাস পর থেকেই সমস্যা শুরু হয়। ঋত্বিক ও তার পরিবারের সদস্যরা যৌতুক হিসেবে ফরচুনার গাড়ি ও ৫১ লাখ টাকা দাবি করছিলেন। প্রথম দিকে এই দাবি পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় নির্যাতন বেড়ে যায়। নগর আরও বলেন, তিনি ও তার পরিবার যা কিছু দিতে পেরেছেন, সব দিয়েছেন। কিন্ত

গাড়িসহ বিয়ের খরচের অর্ধকোটি টাকার দাবি, গৃহবধূর আত্মহত্যা

যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। যৌতুকের দাবিতে চাপ ও নির্যাতনের শিকার হয়ে দীপিকা নাগর নামের এক গৃহবধূ ছাদ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। 

সোমবার (১৮ মে) ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের গাজিয়াবাদের গ্রেটার নয়ডায় যৌতুকের দাবিতে চাপ ও নির্যাতনের শিকার হয়ে দীপিকা নাগর নামে এক গৃহবধূ নিজের বাড়ির ছাদ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তার পরিবার।

ভুক্তভোগীর পরিবারের বরাতে জানা গেছে, জলপুরা বাসিন্দা ঋত্বিকের সঙ্গে দীপিকার বিয়ে হয়েছিল। বিয়ে হয়েছে দেড় মাস আগে। তারা বিয়েতে প্রায় ১ কোটি টাকা খরচ করেছিলেন। তবে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন দীপিকাকে যৌতুকের দাবিতে ক্রমাগত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করছিলেন।

ইন্ডিয়া টুডেকে দীপিকার বাবা সঞ্জয় নগর বলেন, বিয়ের তিন/চার মাস পর থেকেই সমস্যা শুরু হয়। ঋত্বিক ও তার পরিবারের সদস্যরা যৌতুক হিসেবে ফরচুনার গাড়ি ও ৫১ লাখ টাকা দাবি করছিলেন। প্রথম দিকে এই দাবি পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় নির্যাতন বেড়ে যায়।

নগর আরও বলেন, তিনি ও তার পরিবার যা কিছু দিতে পেরেছেন, সব দিয়েছেন। কিন্তু শ্বশুরবাড়ির লোকজন তা নিয়েও সন্তুষ্ট ছিলেন না। বিয়ের সময় আমরা তাদের স্কর্পিও এন মডেলের গাড়ি ও ১০ লাখ টাকার বেশি উপহার দিয়েছিলাম। এছাড়াও বেশ কিছু সোনার অলংকার ও ১৬টি আংটি দিয়েছিলাম।

নগর বলেন, ঘটনার দিন তিনি ঋত্বিকের পরিবারের কাছ থেকে ফোন পান। পরিবারের এক সদস্য তাকে জানান, দীপিকা ঘটনাক্রমে পিছলে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন। তাকে শারদা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সঞ্জয় বলেন, হাসপাতালে গিয়ে আমাদের জানানো হয় দীপিকা মারা গেছে। আত্মহত্যার দাবি অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমার মেয়ে মানসিকভাবে শক্তিশালী ছিল; সে কখনোই এমন পদক্ষেপ নেওয়া কথা না।

শ্বশুরবাড়ির লোকেরা দীপিকাকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করে সঞ্জয় আরও উল্লেখ করেন, তার মেয়ের শরীরে মারামাটির অনেক চিহ্ন ছিল। তার পায়ে গভীর ক্ষত ও মুখে বেশ কিছু আঁচড়ের চিহ্ন ছিল।

সঞ্জয় ও তার ভাই জানান, দীপিকাকে প্রায়ই কথায় ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো। বেশ কয়েকবার সঞ্জয় ও অন্য পরিবারের সদস্যদের হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। মৃত্যুর দিন তিনি ও তার ভাই ঋত্বিকের বাড়িতে সমস্যা মেটাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ফিরে আসার পরেই তারা দীপিকার আঘাত পাওয়ার খবর পান।
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow