‘গুপ্ত ঘাতকের সাথে তো লড়াই হয় না’—ছাত্ররাজনীতি নিয়ে খালিদের সতর্কতা

গুপ্ত রাজনীতি নিয়ে প্রত্যেকটা দলে অস্বস্তি আছে বলে জানিয়েছেন স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্রসংসদের আহ্বায়ক জামালুদ্দীন মুহাম্মাদ খালিদ। তিনি বলেছেন, প্রকাশ্য প্রতিদ্বন্দ্বীর সাথে লড়াই করা যায়, গুপ্ত ঘাতকের সাথে তো লড়াই হয় না। বুধবার (২২ এপ্রিল) নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা জানান তিনি। জামালুদ্দীন মুহাম্মাদ খালিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদ’র ভিপি প্রার্থী ছিলেন। গুপ্ত রাজনীতি নিয়ে তার ফেসবুক পোস্ট নিচে দেওয়া হলো: ‘গুপ্ত রাজনীতিটা কেন সমস্যা ছাত্ররাজনীতির জন্য? কারণ প্রকাশ্য প্রতিদ্বন্দ্বীর সাথে লড়াই করা যায়, গুপ্ত ঘাতকের সাথে তো লড়াই হয় না। গুপ্ত রাজনীতির মাধ্যমে প্রত্যেকটা ক্যাম্পাসে একটা সেটআপ দিয়ে রাখা হয়েছে। তারা ভিতরে-ভিতরে সাংগঠনিক কাজ চালিয়ে নিজেদের পরোক্ষ দখল মজবুত করছে। এখন আপনি যদি ক্যাম্পাসের ১৬-১৭ জনের একটা কমিটি দেখিয়ে বলেন গুপ্ত হলে এরা কারা, তাহলে আপনাদের জনশক্তি কি এই কয়জন? হিসাব তো দেন হাজার হাজার। তো এভাবে নিজদের নব্বই শতাংশ লেজ গুপ্ত রেখে হল/বিশ্ববিদ্যালয়/জেলা/উপজেলা ভিত্তিক বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন

‘গুপ্ত ঘাতকের সাথে তো লড়াই হয় না’—ছাত্ররাজনীতি নিয়ে খালিদের সতর্কতা

গুপ্ত রাজনীতি নিয়ে প্রত্যেকটা দলে অস্বস্তি আছে বলে জানিয়েছেন স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্রসংসদের আহ্বায়ক জামালুদ্দীন মুহাম্মাদ খালিদ। তিনি বলেছেন, প্রকাশ্য প্রতিদ্বন্দ্বীর সাথে লড়াই করা যায়, গুপ্ত ঘাতকের সাথে তো লড়াই হয় না।

বুধবার (২২ এপ্রিল) নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা জানান তিনি।

জামালুদ্দীন মুহাম্মাদ খালিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদ’র ভিপি প্রার্থী ছিলেন। গুপ্ত রাজনীতি নিয়ে তার ফেসবুক পোস্ট নিচে দেওয়া হলো:

‘গুপ্ত রাজনীতিটা কেন সমস্যা ছাত্ররাজনীতির জন্য? কারণ প্রকাশ্য প্রতিদ্বন্দ্বীর সাথে লড়াই করা যায়, গুপ্ত ঘাতকের সাথে তো লড়াই হয় না। গুপ্ত রাজনীতির মাধ্যমে প্রত্যেকটা ক্যাম্পাসে একটা সেটআপ দিয়ে রাখা হয়েছে। তারা ভিতরে-ভিতরে সাংগঠনিক কাজ চালিয়ে নিজেদের পরোক্ষ দখল মজবুত করছে। এখন আপনি যদি ক্যাম্পাসের ১৬-১৭ জনের একটা কমিটি দেখিয়ে বলেন গুপ্ত হলে এরা কারা, তাহলে আপনাদের জনশক্তি কি এই কয়জন? হিসাব তো দেন হাজার হাজার। তো এভাবে নিজদের নব্বই শতাংশ লেজ গুপ্ত রেখে হল/বিশ্ববিদ্যালয়/জেলা/উপজেলা ভিত্তিক বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনে এবং অন্যান্য দলের ভিতরে এজেন্ট হিসেবে সেটআপ দিয়ে যে অবিশ্বাসের বীজ আপনারা বপন করেছেন, এর প্রতিক্রিয়াও তো দেখতে পাবেন।

প্রত্যেকটা দলে এই গুপ্ত রাজনীতি নিয়ে অস্বস্তি আছে। নবগঠিত এনসিপি/ছাত্রশক্তির লোকজন তো প্রকাশ্যেই নিজেদের দলের গুপ্তদের নিয়ে লেখালেখি করছে। এক গুপ্তকে ভরা গালে হেসে মিডিয়ার সামনে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার ভিডিও তো এখন স্যোশাল মিডিয়ায় ঘুরছে। ছাত্রদলের অভ্যন্তরে গুপ্ত এজেন্ট নিয়ে বিশাল বড় ক্যাচাল চলছে। গুপ্ত ধরতে তদন্ত কমিটি পর্যন্ত করা হয়েছে এবং সে রিপোর্ট আবার আটকেও যাচ্ছে।

আরও পড়ুন
চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ
‘গুপ্ত শব্দের অপব্যবহার করে ফের ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে’
বিজয়ীদের অভিনন্দন জানালেন জামালুদ্দীন খালিদ

এদিকে গত ডাকসুতে সম্ভাবনাময় প্রত্যেকটা প্যানেলের ভিতর এমনকি সিঙ্গেল ক্যান্ডিটের সাথেও গুপ্ত এজেন্ট সেট করে দেওয়া ছিল। তখন পুরোপুরি ধরতে না পারলেও পরে তো সবাই উপলব্ধি করতে শুরু করেছে। নিজের এত কাছের ভাই-বোনরা এভাবে গুপ্ত এজেন্ট হয়ে ক্ষতি করবে, এটা ভেবেই লজ্জিত হচ্ছে। কিন্তু প্রতারিত হওয়ার দুঃখ কাউকে বলতে পারছে না।

তো এই যে প্রতারণার রাজনীতি, পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে সবাই এর শিকার হয়েছে ও হচ্ছে। এর ফলাফল হচ্ছে চরম সময়ে বন্ধুত্বহীনতা। ছাত্রলীগ আমলে বিভিন্ন দলের মধ্যে থাকা এজেন্টদের দিয়ে কথা বলাতে পারলেও এখন কিন্তু সেটাও পারবেন না। কারণ প্রত্যেক দলেই সন্দেহভাজন গুপ্তদেরকে চিহ্নিত করে রাখা হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে ছাত্রদল যদি আগামী এক বছরের মধ্যে প্রকাশ্য ক্যাম্পাস দখলের দিকেও যায়, তাদেরকে তেমন কোনো প্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে না সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে। উল্টো যারা বাঁধা দিতে আসবে, তারাই গুপ্ত হিসেবে স্বীকৃতি হবে। এটা তো আপনাদের প্রতারণার রাজনীতিরই বিষফল তাই না? 

এর আরেকটা খারাপ দিকও আছে। ধরেন সবাই তো আর গুপ্ত হিসেবে অন্য দলে যায় না। কিছু মানুষ স্বাভাবিকভাবেই আগের দল ছেড়ে অন্য দলের রাজনীতিতে যুক্ত হয়। কিন্তু গুপ্ত রাজনীতির একটা কমন বৈশিষ্ট্য হিসেবে সবার কাছে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে যে, যে একবার ওই দলের হয় সে আজীবন সেটাই থাকে। ফলে ইহুদি জাতির মতো একটা কলঙ্ক সিলমোহর আকারে এদের সাথে লেগে যায়। এখন ভিন্ন দলে যাওয়া লোকটা যখন এ সিলমোহর কোনোভাবেই সরাতে পারে না, সে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একসময় সে হয়তো জেদের কারণে অথবা নিজেকে খাঁটি ছাত্রদল প্রমাণ করতে সর্বোচ্চ পর্যায়ের জুলুম করতেও দ্বিধা করবে না। যেমনটা আমরা ছাত্রলীগের আমলেও দেখেছি। এখন আপনি বলবেন এ বয়ান দিয়ে আমি জুলুমের পক্ষে যুক্তি উৎপাদন করছি। কিন্তু বিষয়টা তো তা নয়, আমি তো বাস্তবতা তুলে ধরছি শুধু।

এরপর আছে বটবাহিনীর কর্মকাণ্ড। আমাদের মত যারা ধর্মীয় রাজনীতির আদর্শিক দৃষ্টিকোণ থেকে আপনাদের পক্ষে কথা বলতাম, সরাসরি পক্ষাবলম্বন না করলেও এমন কালচার উৎপাদন করতাম যেটার সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী ছিলেন আপনারাই, একটু ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে আমাদের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করতে ভুলেননি। এমন কোনো অপমান নেই, যেটা আমাদের করেননি। অসভ্য, নিচ লোকজনকে অনলাইনে আমাদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়ে জীবনটাকে বিষিয়ে তুলেছেন। এখন কি আশা করবেন আমরা আপনাদের পক্ষেই ওকালতি করে যাব? বিপরীত মতের ওরা তো আমাদের সাথে এগুলো করেনি। ফরম পূরণ করা ছাড়াই এরকম লোকেরা এখন সে দলের জনশক্তি।

(গতকালের মারামারি নিয়ে সচেতনভাবেই কিছু লিখিনি। এক বনে তো দুই বাঘের রাজত্ব চলে না। আধিপত্য বিস্তারের এ রাজনীতিতে আদর্শিকভাবে আমরা কারো পক্ষেও না আবার বিপক্ষেও না। পথভ্রষ্ট হলে উভয় দলই পথভ্রষ্ট।)’

‘ছাত্র রাজনীতি’র জায়গায় ‘গুপ্ত রাজনীতি’ লেখাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (২১ এপ্রি) চট্টগ্রামে সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়।

এমএমএআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow