গৌরীপুরে নির্মাণাধীন গার্ডার সেতুর সংযোগ সড়কে বালু ব্যবহারের অভিযোগ

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার অচিন্তপুর ইউনিয়নে সুরিয়া নদীর ওপর নির্মাণাধীন একটি গার্ডার সেতুর সংযোগ সড়কে মাটির পরিবর্তে বালু ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের আশঙ্কা,বালু ব্যবহারের ফলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে সংযোগ সড়ক ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৯৭ লাখ ৩৮ হাজার ৫৩০ টাকা ব্যয়ে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি গার্ডার সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কে নির্ধারিত মাটির পরিবর্তে পাশের আবাদি জমি থেকে উত্তোলিত বালু দিয়ে ভরাট কাজ চলছে। স্থানীয়দের দাবি, বালু দিয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করলে তা টেকসই হবে না এবং বৃষ্টির পানির স্রোতে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল গফুর বলেন, “বালু দিয়ে সড়ক নির্মাণ করলে বৃষ্টির সময় তা ভেসে যাবে। এতে সরকারের অর্থ অপচয় হবে, পাশাপাশি আমাদের দুর্ভোগ বাড়বে।” আরেক বাসিন্দা মো. সোহাগ মিয়া জানান, “আমরা জানতাম মাটি দিয়

গৌরীপুরে নির্মাণাধীন গার্ডার সেতুর সংযোগ সড়কে বালু ব্যবহারের অভিযোগ

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার অচিন্তপুর ইউনিয়নে সুরিয়া নদীর ওপর নির্মাণাধীন একটি গার্ডার সেতুর সংযোগ সড়কে মাটির পরিবর্তে বালু ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের আশঙ্কা,বালু ব্যবহারের ফলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে সংযোগ সড়ক ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৯৭ লাখ ৩৮ হাজার ৫৩০ টাকা ব্যয়ে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি গার্ডার সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কে নির্ধারিত মাটির পরিবর্তে পাশের আবাদি জমি থেকে উত্তোলিত বালু দিয়ে ভরাট কাজ চলছে। স্থানীয়দের দাবি, বালু দিয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করলে তা টেকসই হবে না এবং বৃষ্টির পানির স্রোতে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল গফুর বলেন, “বালু দিয়ে সড়ক নির্মাণ করলে বৃষ্টির সময় তা ভেসে যাবে। এতে সরকারের অর্থ অপচয় হবে, পাশাপাশি আমাদের দুর্ভোগ বাড়বে।” আরেক বাসিন্দা মো. সোহাগ মিয়া জানান, “আমরা জানতাম মাটি দিয়ে ভরাট করা হবে। কিন্তু এখানে বালু দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানাচ্ছি।”

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম বলেন, “লোকাল মাটি দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। বর্তমানে যা পাওয়া যাচ্ছে, সেটিই ব্যবহার করছি। জমির মালিকের কাছ থেকে বালু ও মাটি কিনে নেওয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে পিআইও কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান বলেন, “বালু দিয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণের সুযোগ নেই। নিয়ম অনুযায়ী মাটি দিয়ে ভরাট করতে হবে এবং দুই পাশে গাইড-ওয়াল নির্মাণ বাধ্যতামূলক।” উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ আলাল উদ্দীনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমীন পাপ্পা জানান,“বিষয়টি অবগত আছি। বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে সঠিক মানদণ্ড অনুসরণ করে সংযোগ সড়কের কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow