গ্রামের পাঠকের হাতে বই পৌঁছে দেবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘বর্ণগ্রাম’

অসংখ্য বইয়ের সংকলন রাখা আছে একটি লাইব্রেরিতে। তালিকা তৈরি করে তা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে  ওয়েবসাইটে। পাঠক যে বইটি পড়তে ইচ্ছুক, ওয়েবসাইটে ঢুকে তা বাছাই করলেই হাতে পেয়ে যাবেন ঘরে বসে। ‘চাকাওয়ালা লাইব্রেরি’ বইটি নিয়ে পৌঁছে যাবে পাঠকের দুয়ারে।  গ্রামের মানুষকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার একটি প্রত্যন্ত ইউনিয়ন ছদাহায়। ‘বর্ণগ্রাম গ্রন্থাগার’ নামে এ উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন ওই গ্রামেরই সন্তান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম ওয়াহিদ। চলতি বছরের শুরু থেকেই সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহায় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে শিক্ষামূলক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘বর্ণগ্রাম গ্রন্থাগার’। গ্রামে প্রতিষ্ঠিত মাস্টার আবদুচ ছালাম ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির সহযোগিতায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। বর্ণগ্রাম গ্রন্থাগারের উদ্যোক্তা সাইফুল ইসলাম ওয়াহিদ বলেন, সমাজসেবক ও করপোরেট ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এই আধুনিক ও ডিজিটাল লাইব্রেরির যাত্রা শুরু হলো। বর্ণগ্রাম বইকে জনসাধারণের কাছে সহজলভ্য করে সমাজে পাঠক সৃষ্টি ও নিয়মিত পা

গ্রামের পাঠকের হাতে বই পৌঁছে দেবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘বর্ণগ্রাম’

অসংখ্য বইয়ের সংকলন রাখা আছে একটি লাইব্রেরিতে। তালিকা তৈরি করে তা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে  ওয়েবসাইটে। পাঠক যে বইটি পড়তে ইচ্ছুক, ওয়েবসাইটে ঢুকে তা বাছাই করলেই হাতে পেয়ে যাবেন ঘরে বসে। ‘চাকাওয়ালা লাইব্রেরি’ বইটি নিয়ে পৌঁছে যাবে পাঠকের দুয়ারে। 

গ্রামের মানুষকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার একটি প্রত্যন্ত ইউনিয়ন ছদাহায়। ‘বর্ণগ্রাম গ্রন্থাগার’ নামে এ উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন ওই গ্রামেরই সন্তান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম ওয়াহিদ।

চলতি বছরের শুরু থেকেই সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহায় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে শিক্ষামূলক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘বর্ণগ্রাম গ্রন্থাগার’। গ্রামে প্রতিষ্ঠিত মাস্টার আবদুচ ছালাম ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির সহযোগিতায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

বর্ণগ্রাম গ্রন্থাগারের উদ্যোক্তা সাইফুল ইসলাম ওয়াহিদ বলেন, সমাজসেবক ও করপোরেট ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এই আধুনিক ও ডিজিটাল লাইব্রেরির যাত্রা শুরু হলো। বর্ণগ্রাম বইকে জনসাধারণের কাছে সহজলভ্য করে সমাজে পাঠক সৃষ্টি ও নিয়মিত পাঠককে বইয়ের সংস্পর্শে থাকার সুযোগ করে দিয়ে মানসিক ইতিবাচক পরিবর্তনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। প্রকল্পটি কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণি, ধর্ম, বর্ণ কিংবা গোষ্ঠীর জন্য গৃহীত হয়নি, বরং সর্বসাধারণের মাঝে বইপড়ার সুযোগ সৃষ্টি ও উদ্দীপনা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়াস চালিয়ে যাবে।

বর্ণগ্রামের বিশেষত্ব ও ডিজিটাল সেবা সম্পর্কে জানতে চাইলে সাইফুল ইসলাম ওয়াহিদ বলেন, বর্ণগ্রামের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম বইপড়ার অভিজ্ঞতাকে সাধারণ মানুষের হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে। এখন পাঠকেরা ঘরে বসেই বর্ণগ্রামের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পছন্দের বইয়ের অনুরোধ জানাতে পারেন। অনুরোধ পাওয়ার পর ‘বইবন্ধু’র মাধ্যমে বইগুলো সরাসরি নির্দিষ্ট লোকেশনে বা নির্ধারিত পিকআপ পয়েন্টে পৌঁছে দেওয়া হয়। এছাড়া কপিরাইট ফ্রি বইগুলো পিডিএফ পড়তে পারবেন।

বইপড়ার অভ্যাসকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে বর্ণগ্রামের একটি ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি সপ্তাহে দুদিন ছদাহারের ছয়টি গ্রামের বিভিন্ন রুটে প্রদক্ষিণ করবে এবং নির্দিষ্ট দিনে বিভিন্ন স্কুল ক্যাম্পাসে অবস্থান করবে। এছাড়া, শিক্ষার প্রসারে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে বর্ণগ্রাম একটি অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে।

শিক্ষার্থীরা তাদের পুরোনো বই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য বিনামূল্যে জমা দিতে পারবেন এবং যেকোনো অভাবগ্রস্ত শিক্ষার্থী সেখান থেকে প্রয়োজনীয় বই সংগ্রহ করতে পারবেন। বিস্তারিত https://bornogram.org/ ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

ডিজিটাল গ্রন্থাগারটির উদ্বোধন করেন বাঙ্গালহালিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আইয়ুব নূরী। এসময় উপস্থিত ছিলেন বর্ণগ্রাম গ্রন্থাগারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক নাসির উদ্দীন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের শিক্ষক মাইনুদ্দিন হাসান শিবলী, মাস্টার আবদুচ ছালাম ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির উদ্যোক্তা ও শিক্ষাবিদ জাহেদুল ইসলাম ও বইবন্ধুর উদ্যোক্তা ইয়াসিন আরাফাত।

এমআরএএইচ/এমকেআর 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow