‘ঘনিষ্ঠ’ হলে বেতন বৃদ্ধি-পদোন্নতির প্রলোভন, প্রতিবাদ করায় বরখাস্ত!

ভারতের পুনের একটি স্প্যানিশ বহুজাতিক কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছেন এক নারী কর্মী। তার অভিযোগ, বসদের সঙ্গে ‘ঘনিষ্ঠ’ হলে বেতন বৃদ্ধি ও পদোন্নতির প্রলোভন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই অনৈতিক প্রস্তাবের প্রতিবাদ করায় তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ৫ মে স্থানীয় থানায় এই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই নারী। তিনি জানান, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন। পরবর্তীতে একই বছরের সেপ্টেম্বরে তিনি এইচআর ও অ্যাডমিন এক্সিকিউটিভ পদে পদোন্নতি পান। এরপর থেকেই কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং এইচআর প্রধান তাকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করতে শুরু করেন। আরও পড়ুন চাকরির প্রথমদিনই অফিসের দেওয়া ল্যাপটপ নিয়ে উধাও কর্মী! অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ওই দুই কর্মকর্তা ওই নারীর দিকে ‘খারাপ নজরে’ তাকাতেন। তারা বিভিন্ন আপত্তিকর মন্তব্য করার পাশাপাশি তার শারীরিক ও মানসিকভাবে কাছাকাছি আসার চেষ্টা করেন। তিনি একে সুযোগের বিনিময়ে যৌন হেনস্তা বা ‘কুইড প্রো কুও’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ওই নারী আরও জানান, ২০২৫ সালের মে থেকে নভেম্বর পর্

‘ঘনিষ্ঠ’ হলে বেতন বৃদ্ধি-পদোন্নতির প্রলোভন, প্রতিবাদ করায় বরখাস্ত!

ভারতের পুনের একটি স্প্যানিশ বহুজাতিক কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছেন এক নারী কর্মী। তার অভিযোগ, বসদের সঙ্গে ‘ঘনিষ্ঠ’ হলে বেতন বৃদ্ধি ও পদোন্নতির প্রলোভন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই অনৈতিক প্রস্তাবের প্রতিবাদ করায় তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

গত ৫ মে স্থানীয় থানায় এই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই নারী। তিনি জানান, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন। পরবর্তীতে একই বছরের সেপ্টেম্বরে তিনি এইচআর ও অ্যাডমিন এক্সিকিউটিভ পদে পদোন্নতি পান। এরপর থেকেই কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং এইচআর প্রধান তাকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করতে শুরু করেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ওই দুই কর্মকর্তা ওই নারীর দিকে ‘খারাপ নজরে’ তাকাতেন। তারা বিভিন্ন আপত্তিকর মন্তব্য করার পাশাপাশি তার শারীরিক ও মানসিকভাবে কাছাকাছি আসার চেষ্টা করেন। তিনি একে সুযোগের বিনিময়ে যৌন হেনস্তা বা ‘কুইড প্রো কুও’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ওই নারী আরও জানান, ২০২৫ সালের মে থেকে নভেম্বর পর্যন্ত তাকে বারবার কর্মক্ষেত্রে অপমান করা হয়। চাকরি কেড়ে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। এই বিষয়ে তিনি ২০২৫ সালের জুন, সেপ্টেম্বর এবং নভেম্বরে কোম্পানির শীর্ষ ব্যবস্থাপনার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের উদ্যোগ নেয়নি।

অভিযোগকারী জানান, গত ১৬ এপ্রিল ‘পদের প্রয়োজনীয়তা শেষ’—এমন অজুহাত দেখিয়ে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তের চিঠিতে সই করার জন্য তার ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। সই না করলে ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। প্রমাণ হিসেবে তিনি ই-মেইল, হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ ও ভয়েস রেকর্ডিং পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন।

আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে কোম্পানি তড়িঘড়ি করে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করে। তবে ওই নারী জানতে পারেন, যে ব্যক্তি তাকে হেনস্তা করেছেন, তিনিই নাকি কমিটির সামনে তাকে জেরা করবেন। এমন বৈষম্যমূলক নিয়মের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি মহারাষ্ট্র রাজ্য নারী কমিশনেও অভিযোগ জানিয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে মহারাষ্ট্রের বিধান পরিষদে সোচ্চার হয়েছেন শিবসেনার নেত্রী মনীষা কায়ান্দে। তিনি এই স্প্যানিশ বহুজাতিক কোম্পানি ও অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এর জবাবে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস আশ্বাস দিয়েছেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে একজন সিনিয়র কর্মকর্তার মাধ্যমে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
কেএএ/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow