চট্টগ্রামে জ্বালানি তেলের সংকট, ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ সারি

চট্টগ্রাম নগরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ঘাটতি এক চরম ভোগান্তির রূপ নিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে তেলের জন্য হাহাকার এবং চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা এখন নিত্যদিনের চিত্র। শনি ও রোববার নগরের কয়েকটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, কেউ ইফতারের পর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে রাত ৮-৯টার দিকে তেল পেয়েছেন আবার কেউ সকাল থেকেই তেল নেওয়ার জন্য গাড়ির সারি দীর্ঘ হতে থাকে। অনেক স্থানে সড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির কারণে যান চলাচলেও ধীরগতি তৈরি হয়েছে। ইফতারের পর নতুনব্রিজ সংলগ্ন মীর ফিলিং স্টেশন পেট্রোলপাম্পে দেখা যায়, যানবাহনের দীর্ঘ সারি। শত শত মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও অ্যাম্বুলেন্স লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। তেল পাওয়ার আশায় চালকরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন। তবে প্রত্যাশা মতো তেল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে। সকালে নগরের গণি বেকারি মোড় সংলগ্ন কিউসি ট্রেডিং লিমিটেড ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের দীর্ঘ লাইন পাম্পের ভেতর থেকে সড়ক পর্যন্ত চলে গেছে। কর্মচারীরা তেল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। নগরের লালদিঘী, পাঁচলাইশ, ষোলশহর, নতুন ব্রিজসহ বিভিন্ন এলাকার পাম্পেও একই চিত্র দেখা গেছে।

চট্টগ্রামে জ্বালানি তেলের সংকট, ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ সারি

চট্টগ্রাম নগরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ঘাটতি এক চরম ভোগান্তির রূপ নিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে তেলের জন্য হাহাকার এবং চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা এখন নিত্যদিনের চিত্র।

শনি ও রোববার নগরের কয়েকটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, কেউ ইফতারের পর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে রাত ৮-৯টার দিকে তেল পেয়েছেন আবার কেউ সকাল থেকেই তেল নেওয়ার জন্য গাড়ির সারি দীর্ঘ হতে থাকে। অনেক স্থানে সড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির কারণে যান চলাচলেও ধীরগতি তৈরি হয়েছে।

jagonews24

ইফতারের পর নতুনব্রিজ সংলগ্ন মীর ফিলিং স্টেশন পেট্রোলপাম্পে দেখা যায়, যানবাহনের দীর্ঘ সারি। শত শত মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও অ্যাম্বুলেন্স লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। তেল পাওয়ার আশায় চালকরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন। তবে প্রত্যাশা মতো তেল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে।

সকালে নগরের গণি বেকারি মোড় সংলগ্ন কিউসি ট্রেডিং লিমিটেড ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের দীর্ঘ লাইন পাম্পের ভেতর থেকে সড়ক পর্যন্ত চলে গেছে। কর্মচারীরা তেল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।

নগরের লালদিঘী, পাঁচলাইশ, ষোলশহর, নতুন ব্রিজসহ বিভিন্ন এলাকার পাম্পেও একই চিত্র দেখা গেছে। অধিকাংশ পাম্পে ঝুলে আছে তেল নাই স্টিকার। ফলে বিভিন্ন রাইডার ও ভাড়ায় চালিত উবারচালকরা হতাশা প্রকাশ করছেন।

jagonews24

লাইন ধরে অপেক্ষা করা মোটরসাইকেলচালক তানভিরুল ইসলাম জানান, ইফতারের পর থেকে তেলের জন্য লাইন ধরেছি। প্রায় ২ ঘণ্টা পর তেল পেয়েছি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, তেল সংকটের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই অনেকেই আগেভাগে ট্যাংক ভরতে স্টেশনে ভিড় করছেন। ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি চাপ পড়েছে পাম্পগুলোতে।

সুন্দরবন কুরিয়ার পণ্যবাহী গাড়িচালক আজিজুল হক বলেন, তেল না পেলে পরিবহন চালানো সম্ভব নয়। কিন্তু লাইনে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে প্রয়োজনীয় তেল পাচ্ছেন না। এতে পণ্য পরিবহনেও বিঘ্ন ঘটছে।

মীর ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, সরবরাহ কম থাকায় অনেক জায়গায় নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

jagonews24

চট্টগ্রাম নগরের গণিবেকারি এলাকায় কিউসি ট্রেডিংয়ের ব্যবস্থাপক মীর খান জানান, গত তিনদিনে স্বাভাবিকের তুলনায় জ্বালানি তেলের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়েছে। অনেক চালক প্রয়োজনের তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি তেল নিতে চাইছেন। ফলে দ্রুত মজুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। সরবরাহ পরিস্থিতির কারণে অনেক জায়গায় বিক্রির পরিমাণ সীমিত রাখা হয়েছে। যেন বেশি সংখ্যক গ্রাহক কিছুটা হলেও তেল নিতে পারেন।

এদিকে নগরের বিভিন্ন সড়কে ফিলিং স্টেশনের সামনে দীর্ঘ লাইনের কারণে যানজটও তৈরি হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক স্টেশনে সীমিত পরিমাণে তেল দেওয়া হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অপেক্ষার সময় বেড়ে গেছে। কেউ কেউ আবার ট্যাংক পূর্ণ করার জন্য একাধিক ফিলিং স্টেশনে ঘুরতে বাধ্য হচ্ছেন।

jagonews24

পরিবহনশ্রমিকেরা জানান, দূরপাল্লার যাত্রার আগে পর্যাপ্ত জ্বালানি সংগ্রহ করতে না পারায় তাদের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল না পেয়ে অন্য পাম্পে যেতে হচ্ছে।

এদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন জানিয়েছে, নতুন জ্বালানি তেলের জাহাজ দেশে পৌঁছানো শুরু করেছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন ডিপো খোলা রাখা হচ্ছে।

তবে নগরের অনেক চালকের আশঙ্কা, ঈদযাত্রা সামনে রেখে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সড়কে যানজট ও দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।

এমআরএএইচ/এমআরএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow