চট্টগ্রামে বাসায় বিস্ফোরণ, দগ্ধ তিনজনের মৃত্যু

চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরের একটি বাসায় বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে বিস্ফোরণের একদিন পেরিয়ে গেলেও বিস্ফোরণের কারণ নিয়ে এখনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা মিলেনি। কারণ নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।  ফায়ার সার্ভিস প্রাথমিকভাবে গ্যাস লিকেজ থেকে দুর্ঘটনা হতে পারে বলে ধারণা করলেও লিফট, আইপিএস, হাই-ভোল্টেজের কথাও বলছেন অনেকে। এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস ও কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি করছে।  এর আগে সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হালিশহরের এইচ ব্লকে এসি মসজিদসংলগ্ন ‘হালিমা মঞ্জিল’ নামের ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি বাসায় বিস্ফোরণ ঘটে।  পরে সেখানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় একই পরিবারের ৯ জন গুরুতর দগ্ধ হন। স্থানীয় লোকজন দগ্ধ ব্যক্তিদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরবর্তী অবস্থা গুরুতর হওয়ায় বিকেলেই তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়।  তিনজনের মৃত্যু এ দিকে বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিন

চট্টগ্রামে বাসায় বিস্ফোরণ, দগ্ধ তিনজনের মৃত্যু

চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরের একটি বাসায় বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে বিস্ফোরণের একদিন পেরিয়ে গেলেও বিস্ফোরণের কারণ নিয়ে এখনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা মিলেনি। কারণ নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। 

ফায়ার সার্ভিস প্রাথমিকভাবে গ্যাস লিকেজ থেকে দুর্ঘটনা হতে পারে বলে ধারণা করলেও লিফট, আইপিএস, হাই-ভোল্টেজের কথাও বলছেন অনেকে। এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস ও কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি করছে। 

এর আগে সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হালিশহরের এইচ ব্লকে এসি মসজিদসংলগ্ন ‘হালিমা মঞ্জিল’ নামের ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি বাসায় বিস্ফোরণ ঘটে। 

পরে সেখানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় একই পরিবারের ৯ জন গুরুতর দগ্ধ হন। স্থানীয় লোকজন দগ্ধ ব্যক্তিদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরবর্তী অবস্থা গুরুতর হওয়ায় বিকেলেই তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়। 

তিনজনের মৃত্যু

এ দিকে বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকা নেওয়ার পথে কুমিল্লায় নুরজাহান বেগম রানীর মৃত্যু হয়। রাতেই নগরীর দেওয়ান হাট এলাকায় তাকে দাফন করা হয়। 

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নুরজাহান বেগমের ছেলে সাফায়াত হোসেন শাওন মারা যান। পরবর্তীতে দুপুর ১২টার দিকে মারা যান পর্তুগাল প্রবাসী সামির আহামেদ। এদের মধ্যে নুরজাহান গৃহকর্তা শাখাওয়াত হোসেনের স্ত্রী ও সামির আহামেদ ছোট ভাই। শাখাওয়াত হোসেন নিজেও দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন শাখাওয়াত হোসেনের মেয়ে উম্মে আয়মন সানজিদা (০৮), শাখাওয়াতের ভাই সামির আহামেদের স্ত্রী পাখি আক্তার (৩৫), তার ছেলে ফারহান আহমেদ আনাছ (৮), মেয়ে আয়েশা (০৪) ও শাখাওয়াতের আরেক ভাই মো. শিপন হোসাইন (২৫)।

বিস্ফোরণের কারণ জানতে দুই কমিটি

এদিকে বিস্ফোরণ ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও জানাতে পারেনি কেউই। ফায়ার সার্ভিস বলছে, ওই বাসায় কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (কেজিডিসিএল) গ্যাসের সংযোগ রয়েছে। কোনো কারণে চুলা থেকে হয়তো গ্যাস লিক হয়েছিল, যে কারণে রান্নাঘরে গ্যাস জমে যায়। সেই জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণে সবাই দগ্ধ হয়েছেন। 

এ ঘটনায় পৃথক দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস ও কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি।  

ডিভিশনাল ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক রশিদ উদ্দিন বলেন, গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় ঢাকা থেকে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন করবে।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা কিছু বিষয় নিয়ে কাজ করছি। এর মধ্যে আছে- বিস্ফোরণ হয় এমন কোনো উপকরণ ছিল কি না, এসি-ফ্রিজ-আইপিএস থেকে বিস্ফোরণ হয়েছে কি না, বিদ্যুতের হাই ভোল্টেজ ছিল কি না, ভবনে কোনো কেমিক্যাল ছিল কি না, ভবনের অবকাঠামো নির্মাণে নকশাসহ প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল কি না, এসব বিষয় সামনে রেখে কমিটি কাজ করবে। কমিটির প্রতিবেদন পেয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

অন্যদিকে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক কবির উদ্দিন আহম্মদ বলেন, এ ঘটনায় একটি তদন্ত তিন সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। গ্যাস লিক হয়েছে কি না, সেটি তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বলা যাবে।

সরেজমিনে যা দেখা গেল

ছয় তলা ভবনের নিচ তলা পার্কিং ও মসজিদ হিসেবে ব্যবহার হয়। বাকি পঞ্চম তলায় চারটি করে মোট ২০টা বাসা রয়েছে। বিস্ফোরণের পর প্রতিটি বাসার দরজা ভেঙে যায়। ভেঙে যায় জানালার কাচও। বিস্ফোরণ হওয়া বাসার সবকিছু লন্ডভন্ড হয়ে যায়। তবে মঙ্গলবার দুপুরে ভবনে গিয়ে দেখা যায়, এক রাতের মধ্যে সব বাসায় লাগানো হয়েছে নতুন দরজা। তবে বিস্ফোরণ হওয়া বাসাটা তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ভবনের বাসিন্দা ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না ভবনের দারোয়ান। 

পাশের ভবনগুলোতেও ক্ষতচিহ্ন

যে ভবনটিতে বিস্ফোরণ হয়েছে তার পাশের লাগোয়া ভবনের নাম সেহেলি ভবন। বিস্ফোরণের আঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে, এই ভবনের ১৮টি জানালার কাচ ভেঙে গেছে। একইভাবে অন্য পাশের ভবনেরও জানালার কাচ ভেঙে গেছে। ভাঙা কাচ রাস্তার অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। 

ভবনের পাশেই রয়েছে একটি ইলেকট্রনিক সামগ্রীর দোকান। দোকানের মালিক ওমর ফারুক কালবেলাকে বলেন, বিস্ফোরণের খবর শুনে ভোরেই ছুটে আসি। গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ হয়েছে বলে শুনেছি। এসে দেখি পুরো রাস্তা জুড়ে কাচ ছড়িয়ে আছে। 

এই ভবনের পাশের একটি ভবনে থাকেন মুমতাজুল হক। তিনি দুপুরে বিস্ফোরণ হওয়া বাসা দেখতে এসেছিলেন। কালবেলাকে বলেন, বছরখানেক আগে আমি এই ভবনে বাসা ভাড়া নিতে চেয়েছিলাম। তবে লিফটে একটা ঝামেলা আছে শুনেছিলাম। তবে পরে আর বাসাভাড়া নেওয়া হয়নি।

মুমতাজুল হকের সঙ্গে এসময় আরেকজন যুবক ছিলেন। তারা এ বাসায় কয়েক বছর ছিলেন। নাম প্রকাশ না করা শর্তে তিনি বলেন, এই বাসায় হাই ভোল্টেজের একটা সমস্যা ছিল। লিফটেও ঝামেলা আছে। দারোয়ানের কথাবার্তাও সন্দেহজনক। সব ভালোভাবে তদন্ত করা হোক।

ভবনের দারোয়ান মো. সম্রাট কালবেলাকে বলেন, যখন বিস্ফোরণ হয় তখন আমি নিচ তলায় মাত্র সেহরি খেয়ে পানির বোতল হাতে নিয়েছি। বিকট শব্দ শুনে ভেবেছিলাম ভূমিকম্প হয়ে একটি ভবন আরেকটি ভবনের উপর পড়েছে। কিন্তু মানুষের শোরগোল শুনে উপরে উঠে দেখি বাসা লন্ডভন্ড হয়ে আছে। সবাই দিগ্‌বিদিক ছুটছে। আমি ভবনের ফটক খুলে দিই। 

তিনি আরও বলেন, বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রতিটা বাসার দরজা ভেঙে গেছে। ১৫টা দরজা লাগানো হয়েছে। লিফট থেকে বিস্ফোরণ হয়েছে বলে যা ছড়িয়েছে, তা গুজব। লিফটের দরজা একটু বাঁকা হলেও লিফট সচল আছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow