চট্টগ্রামে ৩৩০.৮ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড
টানা ভারী বর্ষণে গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে নগরের নিম্নাঞ্চলে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম জানান, আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় হয়েছে ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি। তিনি বলেন, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। অতিবৃষ্টির পাশাপাশি মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে কর্ণফুলী নদীতে জোয়ার শুরু হওয়ায় নিম্নাঞ্চলের পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়েছে। এতে জলাবদ্ধতা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। সকাল থেকেই নগরের বিভিন্ন সড়কে দ্রুত পানি জমে যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও কোমরসমান পানি মাড়িয়ে কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা দিতে দেখা গেছে মানুষকে। অনেককে হাতে জুতা নিয়ে প্যান্ট গুটিয়ে হেঁটে যেতে হয়েছে। গণপরিবহন ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংকট দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেয়। নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারেননি অনেক কর্মজীবী। সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে আগ্রা
টানা ভারী বর্ষণে গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে নগরের নিম্নাঞ্চলে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম জানান, আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় হয়েছে ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি।
তিনি বলেন, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। অতিবৃষ্টির পাশাপাশি মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে কর্ণফুলী নদীতে জোয়ার শুরু হওয়ায় নিম্নাঞ্চলের পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়েছে। এতে জলাবদ্ধতা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
সকাল থেকেই নগরের বিভিন্ন সড়কে দ্রুত পানি জমে যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও কোমরসমান পানি মাড়িয়ে কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা দিতে দেখা গেছে মানুষকে। অনেককে হাতে জুতা নিয়ে প্যান্ট গুটিয়ে হেঁটে যেতে হয়েছে। গণপরিবহন ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংকট দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেয়। নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারেননি অনেক কর্মজীবী।
সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, কাজীরহাট, হালিশহর, চান্দগাঁও, সুন্নিয়া মাদ্রাসা রোড, আকমল আলী রোড, পতেঙ্গা ও কুয়াইশ এলাকা। বিভিন্ন স্থানে বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে পানি ঢুকে গৃহস্থালির সামগ্রী ও ব্যবসায়িক মালামালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চকবাজারের বিভিন্ন অলিগলিতে পানি জমে স্বাভাবিক চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
আগ্রাবাদের বাসিন্দা জিয়া উদ্দিন বলেন, ‘সকালে অফিসে বের হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকতে হয়েছে। প্রতিবছর বর্ষা এলেই একই দুর্ভোগ। স্থায়ী সমাধান কবে হবে, জানি না।’
বাকলিয়ার বাসিন্দা সুফিয়া কামাল বলেন, ‘সকালের বৃষ্টিতেই বাসার নিচতলায় পানি ঢুকে গেছে। আসবাবপত্র নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে রাখতে হয়েছে। এত উন্নয়ন প্রকল্পের পরও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান মিলছে না।’
চকবাজারের ব্যবসায়ী মো. কামাল বলেন, ‘দোকানে পানি ঢুকে কিছু মালামাল নষ্ট হয়েছে। বৃষ্টি হলেই ব্যবসায় লোকসান গুনতে হয়।’
এদিকে অব্যাহত বর্ষণে পাহাড়ধসের আশঙ্কা বেড়ে যাওয়ায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর সোমবার থেকেই মতিঝরনা, আকবরশাহ, ১ নম্বর ঝিল, ২ নম্বর ঝিল, বিজয়নগর, জিয়ানগর, বেলতলীঘোনা, খুলশী, বায়েজিদ ও সলিমপুরসহ ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় মাইকিং করে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। তবে এখনও অনেক পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়েই অবস্থান করছে।
পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য লালখান বাজার ও আকবরশাহ এলাকার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়ঘেঁষা বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে প্রায় সাড়ে সাত হাজার পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করছে।
অন্যদিকে জলাবদ্ধতা নিরসনে জরুরি কার্যক্রম শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। মেয়রের নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, প্রকৌশল ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড প্রশাসনের সমন্বয়ে বিভিন্ন এলাকায় ড্রেন, খাল ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ স্থানে জমে থাকা আবর্জনা অপসারণ এবং পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক থেকে দ্রুত পানি সরিয়ে নিতে মাঠে কাজ করছে চসিকের একাধিক টিম।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
What's Your Reaction?